পাঁচ মিশালী

আত্মরক্ষায় উশু

নাজমা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০৬-২০১৮ ইং ০২:৩৪:৪৩ | সংবাদটি ২৩ বার পঠিত

উশু একটি আন্তর্জাতিক খেলা। ঁি শব্দের অর্থ মানুষের আত্মরক্ষা। আর ংযঁ অর্থ কৌশল মূলত শাব্দিক ব্যঞ্জনার্থে ঁিংযঁ মানুষের আত্মরক্ষার কৌশল। এই খেলাটি প্রায় ৩ হাজার বছরের ও প্রাচীন ইতিহাস। যদিও ১৯১২ সালে সারা বিশ্বে ঁিংযঁ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রথম বারের মত প্রদর্শিত এই উশু খেলা জার্মানীর অলিম্পিক গেমসে ১৯৩৬ সালে প্রদর্শিত হয়। অনেকের মতে এটা শুধু মারামারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আসলে তা ভুল ধারণা। বাস্তবিক পক্ষে উশু খেলাটি সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের নিমিত্তে একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলা। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে। এটি স্বাস্থ্য রক্ষা ও সম্মান রক্ষার্থে একটি কৌশল মাত্র।
আশির দশকে উশু খেলাটি বাংলাদেশে আর্বিভূত হয়। সর্বপ্রথম চায়নায় শুরু হলে এর গুণাগুণ প্রতিপাদ্য সমগ্র বিশ্বব্যাপি প্রয়োজনীয়তাবোধ করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এর গুরুত্ব প্রাধান্য পেয়েছে এবং এর সুফলভোগে জনমনে প্রভাব বিস্তার করায় সুখ্যাতি অর্জন করেছে।
শরীর এবং মনের সংযোগ সূত্রেই একজন মানুষের মধ্যে পূর্ণতা আসে। মানুষ বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়ানোর যোগ্যতা অর্জন করে স্বাভাবিক জীবন যাপনে আত্মপরিশূদ্ধি লাভ করে। কাজেই শরীর ও মনের সংযোগে বিকাশ সাধনই শরীর চর্চার মূখ্য উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে জীবনমান উন্নয়নের এক নজির বিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে।
উদ্দেশ্যকে কার্যসিদ্ধির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। তাহলেই সফলতা বিরাজমান। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, শারীরিক শিক্ষার উদ্দেশ্যকে চার ভাগে ভাগ করা বাঞ্চনীয়। সুস্থ্য শরীর গঠন, মানসিক বিকাশ সাধন, চারিত্রিক গুনাবলী অর্জন ও সামাজিক গুণাবলী অর্জন উশুর মূখ্য উদ্দেশ্য।
উশু জগতের একজন খ্যাতিমান কোচ আনোয়ার হোসেন, যার জন্ম ১৯৮৬ সালে। সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করলেও শৈশব থেকেই খেলাধূলার প্রতি আগ্রহ ছিল। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলায় ও মনোনিবেশ করেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মার্শাল আর্ট জগতের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।
সিলেটে স্কুল পর্যায়ে উশু প্রশিক্ষণ চালু করেন। সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সভাপতি করে সিলেট জেলা উশু এসোসিয়েশন কমিটি গঠন করেন। সিলেট স্টেডিয়াম কারাতে প্রশিক্ষক মাসুদ রানার প্রশিক্ষণ গ্রহণে মত্ত হলে বার্মিস সমাপ্ত করে ব্লেক বেল্ট প্রাপ্ত হন। বিভিন্ন টিম থেকে শুরু করে ন্যাশনাল পর্যন্ত খেলা করে গোল্ড অর্জনে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মার্শাল আর্ট জগতে। কিছুদিন পর তাকাউরা ও হিরোসিতা নামক দুজন জাপানী প্রশিক্ষকের নিকট চট্রগ্রামে ১৫ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সেখানে ২৫ জনে ১ জন নির্বচিত হন আনোয়ার হোসেন।
আনোয়ার হোসেন প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্বে থেকে উশু জিমনাস্টিক মুভমেন্ট থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যাদির তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলেন। ব্যবধানে বিভিন্ন টিমের সাথে প্রশিক্ষণার্থীদের খেলা নিশ্চিত করেন। এমন কি জাতীয় পর্যায়ের খেলা, যুব গেমস, বি কে এসপি খেলাতে একাধিক স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ অর্জন করে সিলেটের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টায় ব্রত হন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোচ ও জাজ হিসাবে তিনি প্রতিনিয়ত অসাধারণত্বের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। উপযুক্ত নেতৃত্ব প্রদানে সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রেখে তাঁর কঠোর শ্রম ও সাধনার ফলে সিলেটে চাইনিজ উশু ফাইটার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সিলেটে উশু এই প্রথম তিনিই শুরু করেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT