স্বাস্থ্য কুশল

এলার্জির চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা

ডা. মো. শানুর আলী মামুন প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৬-২০১৮ ইং ০০:২৪:০১ | সংবাদটি ৩২৬ বার পঠিত

জীবনে কোনো না কোনো রকম এলার্জিতে ভুগেছেন এ রকম মানুষের সংখ্যা এ পৃথিবীতে অনেক। তবে শিশুরা এর ভুক্তভোগি অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি আর ওয়ার্ল্ড এলার্জি অর্গানাইজেশনের (ডঅঙ) তথ্য অনুযায়ী এদের সংখ্যা ৫০% পর্যন্ত। মহিলারা রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায় দ্বিতীয়। ওয়ার্ল্ড এলার্জি অর্গানাইজেশনের পরিসংখ্যানে ৩০% থেকে ৪০% মানুষ পৃথিবীতে এলার্জিতে ভুগছেন। আর এর আলোকে বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি কিন্তু বাংলাদেশে কি এলার্জির আপ টু ডেট ডায়াগনস্টিক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে?
সাইন্টিফিক গবেষণা থেকে জানা যায়, যে শিশুটা এলার্জি জনিত সর্দিতে ক্রমাগত ভুগছে, যথাযথ চিকি’সা পেলে এদের শতকরা ৮০ পর্যন্ত পরবর্তীতে হাঁপানিতে ভোগার ঝুঁকিতে থেকে যায় আর তাই বিশেষ করে বাচ্চাদের এলার্জিজনিত রোগ হলে একজন এলার্জি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ তুলনামূলকভাবে বেশি জরুরি।
লক্ষ্যকরে দেখবেন কিছু কিছু শিশুরা অল্প বয়সেই একটার পর আরেকটা এলার্জি জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে থাকে যেমন চামড়ার সমস্যা (এটপিক ডারমাটাইটিস), পেটের সমস্যা (বমি, পেট ফাঁপা, ডায়ারিয়া), ঘন ঘন সর্দি (এলার্জিক রাইনাইটিস), ঘন ঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট, (হাঁপানী/অ্যাজমা) এই ধারাবাহিকতায় এলার্জিক মার্চ বলা হয়ে থাকে। এদেরকে এটপিক শিশু বলা হয় কারণ এরকম শিশুদের একটা জেনেটিক/বংশগত বাড়তি প্রবণতা থাকে, আমাদের আশেপাশের জিনিষ যেমন ধুলাবালি, ফুলের রেনু, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদির সাথে রিয়েকশন/প্রতিক্রিয়া করার।
এলার্জি একটা জেনেটিক এবং এনভায়রনমেন্টাল কমপ্লেক্স ডিসর্ডার। পরিবেশের অনেক জিনিস যেমন ধুলাবালি, যে রকম দায়ী তেমনি জেনেটিক/বংশগত কারণটা অধিকতর দায়ী বলে এলার্জি বিজ্ঞানীরা বলেছেন। আর যে কোনো শুধু মায়ের এলার্জি থাকলে বাচ্চার এলার্জি জনিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি ৩০% থেকে ৫০% হতে পারে ও আর মা-বাবা দু’জনের এলার্জির সমস্যা থাকলে এ সংখ্যা ৮০% পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে সব সময় সমান এলার্জি জনিত রোগ না হতেও পারে, যেমন মায়ের ছিল অ্যাজমা বাচ্চার হতে পারে ফুড এলার্জি।
এলার্জি বিভিন্ন ধরনের রয়েছে যেমন ডিলেইড টাইপ- উদাহরণ স্বরূপ চামড়ার সমস্যা, একজিমা বা এলার্জিক কনটাক্ট ডার্মাইটিস। যা জীবনকে অনেক ক্ষেত্রে অসহ্য করে তুলে কিন্তু জীবনঘাতী নয়। কিন্তু ইম্মেডিয়েট টাইপ এতো মারাত্মক যে এর ভুক্তভোগী ঠিক সময়ে উপযুক্ত জরুরি চিকিৎসা না পেলে মাত্র কয়েক মিনিটের ভিতর মারা যেতেও পারে। মেডিকেল ডিকশনারীতে এলার্জি জনিত এনাফাইলেক্টিক ডেথ বলা হয়ে থাকে। উন্নত বিশ্বে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতেও ভুক্তভোগী রোগীদের নাগালের ভিতর রয়েছে এর জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, অফৎবহধষরহব অঁঃড়-ওহলবপঃড়ৎ এড্রেনালিন অটো ইঞ্জেক্টর, কিন্তু বাংলাদেশে এটা এখনো আগমন করে নি।
রোগীর ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রির পাশাপাশি ডিলেইড টাইপ এর জন্য প্যাট টেস্টিং এর ইম্মেডিয়েট টাইপ বা ওমঊ মেডিয়েট এলার্জি ডায়াগনসিস এর জন্যে ঝচঞ (ঝশরহ চৎরপশ ঞবংঃরহম), যা নির্ভরযোগ্য কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এ সুযোগ প্রায় নাগালের বাহিরে। ডায়াগনোসিসের পর যারা এনফিল্যাক্সিসের ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদেরকে দু’টি এড্রেনালিন অটো ইঞ্জেক্টর সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়- যা আসলে লাইফ সেভিং। এটা এতো জরুরি যে ব্রিটিশ সরকার ২০১৭ সালের অক্টোবরে আইন পাস করেছে যাতে প্রতিটি স্কুল প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এই জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন ক্রয় করে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে।
অন্যদিকে বর্তমানে অনেক এলার্জি জনিত রোগ এখন নিরাময়যোগ্য। উদাহরণ স্বরূপ হাঁপানী/অ্যাজমা, এলার্জিক রাইনাইটিস (নাকের এলার্জি) এলার্জিক কানজানকটিভাইটিস (চোখের এলার্জি), ভেনম এলার্জিতে ভ্যাক্সিন/এলার্জেন ইম্মিউনোথেরাপী একমাত্র নিরাময়যোগ্য ঔষধ। আমরা যদিও স্বল্প আকারে ঢাকার এলার্জি সেন্টার, সিলেটের ইবনে সিনায় এবং বিশ্বনাথ এলার্জি সেন্টারে স্কিন প্রিক টেস্টিংয়ের মাধ্যমে এলার্জির কারণ নিরুপণ করে সাবলিনগুয়াল ইম্মিউনোথেরাপী (ঝখওঞ-এলার্জি ভ্যাক্সিন) দেওয়া শুরু করেছি যা বাংলাদেশের কোটি কোটি এলার্জি ভুক্তভোগীদের আশার আলো আর এটাকে পুরোপুরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে আসার বিকল্প নাই।
বাংলাদেশ এলার্জি সচেতনতা, এলার্জির আপ টু ডেট ডায়াগনস্টিক, অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং এলার্জি নিয়ে গবেষণার রয়েছে বেশ ঘাটতি। বাংলাদেশ সরকারকে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ঘাটতি পূরণে দ্রুত এগিয়ে আসা আজ সময়ের দাবী জীবনের কারণে। এতে করে রোগীদের শুধু ভোগান্তিই কমবে না, বাংলাদেশের হাজার হাজার রোগীকে ইন্ডিয়াসহ বিদেশে যাওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং বাংলাদেশ সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • পিত্তথলীর ভেষজ চিকিৎসা
  • ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • স্মৃতিশক্তি সমস্যা : করণীয়
  • যক্ষ্মা নির্মূলের এই তো সময়
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • মুখের আলসার ও টুথপেস্টের রসায়ন
  • গলার স্বর বসে গেলে
  • মেছতার আধুনিক চিকিৎসা ডাঃ দিদারুল আহসান
  • স্ক্রিনে দীর্ঘসময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
  • প্রকৃতির মহৌষধ মধু
  • তাফসিরুল কুরআন
  • প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
  • শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়!
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • শীতে বয়স্কদের সমস্যা
  • Developed by: Sparkle IT