মহিলা সমাজ

রমযানে বেহেস্ত সাজানো হয়

জাহিদা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৬-২০১৮ ইং ০২:৪৫:২৫ | সংবাদটি ১৭১ বার পঠিত

রোজার আরবি শব্দ অর্থ হচ্ছে সওম বা সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ হলো বিরত থাকা। আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্য নিয়তসহ সুবেহ সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা। হিজরির শাবান মাসে মদিনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হয়। হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও।
সূরা বাক্বারার ১৮৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সে মাসকে পায়, সে যেনো রোজা রাখে। পবিত্র রমযানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের কিতাব গুলিতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। প্রিয় নবীজি (সা.) এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন যখন রমযান মাস আসে তখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং দোযখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারি ও মুসলিম)
অপর হাদিসে এসেছে হযরত শাহ ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন বেহেস্তে আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। (রোজাদার ব্যতিত আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না’ বুখারী ও মুসলিম)
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন হুজুর (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসে রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে ক্বদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারি ও মুসলিম)
হাদিসে আরো এসেছে রাসূল (সা.) বলেন আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেবো। (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেনো লিপ্ত না হয়। কেউ কারো সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার, সেই মহান সত্তার কসম যার করতলগত মুহাম্মদের জীবন। আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সু-ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম। রোজাদারের খুশির কারণ দু’টি-যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারি)
অপর একটি হাদিসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন রোজা এবং কুরআন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।
রোজা বলবে হে পরওয়ারদেগার আমি তাকে রমযানের দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতএব উভয়ের সুপারিশই কবুর করা হবে (এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে)।
বায়হাকী- হাদিস শরীফে এসেছে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন রাসুল (সা.) বলেছেন যখন রমযানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। অতঃপর এর কোনো দরজা খোলা হয় না। বেহেস্তের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। অতঃপর কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না। রমযান মাস ধৈর্য্যরে মাস। আর ধৈর্য্যরে সওয়াব হলো বেহেস্ত। এটা সহানুভুতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস, যে মাসে মুমিন বান্দার রিযিক বাড়িয়ে দেয়া হয়।
এ মাসে যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে তার জন্য গোনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এ ছাড়া তার সওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না।
এটা এমন পবিত্র মাস যার প্রথম দিক রহমত। মাঝের দিক মাগফেরাত আর শেষদিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির মাস। রমযানের ফজিলত সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন নবী করিম (সা.) বলেছেন রমযানে বেহেস্ত সাজানো হয় প্রথম থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমযানের ফজিলত জেনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন ॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT