উপ সম্পাদকীয়

অর্থ বছরে দুটি প্রত্যাশা

মোঃ আব্দুল মালিক প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৬-২০১৮ ইং ০২:২২:২৯ | সংবাদটি ২৬ বার পঠিত

বর্তমানে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ১৭৫০ ডলার হয়েছে এবং বাংলাদেশ দিন দিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করেছেন। বিভিন্ন ধরণের ভাতা ও উপকারভোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি করছেন। বিশেষ করে শিক্ষাখাতে সরকার যে ভর্তুকী দিচ্ছেন তা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেরও কল্পনার বাইরে। এ সবের দিকে তাকালে ভিক্ষুক ও পতিতাদের পূনর্বাসন করা বর্তমান সরকারের জন্য কোন বড় বিষয় নয়। ভিক্ষুক ও পতিতাবৃত্তি বন্ধ করে এদের পূর্ণবাসন করা শুধু ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কারণেই প্রয়োজন নয়। এদের পূর্ণবাসন করা প্রয়োজন শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইন শৃংখলার উন্নতির জন্যও।
ভিক্ষাবৃত্তিকে অনেকেই বিনা পুঁজির ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করেছে। এদের শ্রম অনুৎপাদনশীল। এরা ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে নানা অপকর্মও করছে। শিশু ভিক্ষুকরা নিরক্ষরতা দূর করতে বাধার সৃষ্টি করছে। ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করা হলে বিনা পুজিঁর এই ব্যবসা থেকে ৬০-৭০% ভিক্ষুক সটকে পড়বে। বাকি ৩০-৪০% ভিক্ষুকের ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের সদস্য, কমিশনার, কাউন্সিলারদের মাধ্যমে তালিকা তৈরী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার সচিব, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরী করে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির যে ক্যাটাগরীতে যে পড়ে যেমন বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ইত্যাদি কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করে পূনর্বাসন করা অনায়াসে সম্ভব। অন্যদিকে যারা ভিক্ষাবৃত্তির উপযুক্ত নয় তারা বাধ্য হয়ে উৎপাদনশীল কাজে যাবে, ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। শিশুরা ভিক্ষা করতে না পারলে বিনা পয়সায় লেখা-পড়া করতে বিদ্যালয়ে যাবে, ফলে নিরক্ষরতা দূরীভূত হবে।
সম্ভবত ১৯৩১ সালে বৃটিশ সরকার এদেশে পতিতাবৃত্তি আইন পাশ করে আইনানুগভাবে পতিতালয় চালু করে। বৃটিশদের তাড়িয়ে ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের ২৪ বছর এমন কী দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রায় ৪৭ বছর চলছে কিন্তু আজ পর্যন্ত পতিতাবৃত্তি বন্ধ করাতো দূরের কথা, এটা বন্ধ করার জন্য কোন ধর্মপ্রাণ এমপি সংসদে, ধর্মীয় রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মাঠে ময়দানে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন বলে শোনা যায়নি। পতিতালয় আবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন। ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক, আইনশৃংখলার উন্নয়ন, নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে এই ঘৃণ্য পেশা বন্ধ করে এই পেশার সাথে যারা দুর্ভাগ্যক্রমে জড়িয়ে গেছেন তাদের পূনর্বাসন করা জাতির দাবী।
একজন নারী নানা প্রতিকূল কারণে পতিতা হয়। এই ঘৃণ্য পেশার সাথে জড়িত হওয়ার পর সমাজে তার কোন স্থান থাকে না। অন্য দিকে যে সব পুরুষ সেখানে যায় তাদেরও নৈতিক স্খলন ঘটে, নানা যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। পতিতালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য একজন পুরুষ চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ইত্যাদি অবৈধ পন্থায় টাকা উপার্জন করে। একজন নারীকে বিয়ে, চাকুরী ইতাদির প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে। এসব কারণে আইন শৃংখলার অবনতি হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে পতিতাদের পূর্নবাসনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। অল্পবয়স্ক পতিতাদের নারী শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাঠিয়ে, গার্মেন্টস সহ অন্যান্য শিল্পে, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে, বয়স্ক ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির নানা কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করে, পতিতাদের পূর্নবাসন করা সহজেই সম্ভব। আর যাতে আইনানুগভাবে পতিতাবৃত্তিতে কেউ আসতে না পারে সে জন্য পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স প্রদান চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।
বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে ভিক্ষুক জরীপ নিয়ে অনেক জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ভিক্ষুক জরীপের জন্য এত জটিলতার কোন প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র প্রয়োজন একটি আইন যাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ভিক্ষাবৃত্তি হবে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর যারা ভিক্ষুক ভাতা বা পূনর্বাসিত হতে ইচ্ছুক তারা ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে তালিকা ভুক্ত হতে হবে। এমন আইন করা হলে সরকারকে ভিক্ষুক খুজঁতে হবে না। ভিক্ষুকরা সরকারকে খুজঁবে হন্য হয়ে। যেভাবে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, বিধবা, বয়স্করা ভীড় করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এভাবে সংগৃহিত তালিকা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে পূনর্বাসন করা সহজেই সম্ভব। এ রকম পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রাখা হোক। সচেতন লোকজন সরকারের কাছে এই আশা করে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বাচ্চাটা একটা খেলনা ফোন চেয়েছিল
  • স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে কিছু প্রস্তাবনা
  • চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ
  • সিরিয়ার আকাশে শকুনের ভীড়-সামাল দিবে কে!
  • টের পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বকাপ প্রলয়
  • মাছের পোনা দেশের সোনা
  • শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল
  • যৌতুক, ইফতারি, আমকাঁঠলি বনাম নারী নির্যাতন প্রসঙ্গ
  • ঈদযাত্রায় ভোগান্তি রোধে ব্যবস্থা জরুরি
  • বজ্রপাত শনাক্তকরণ সেন্সর এবং কৃষকের সেন্স
  • মাদক সমস্যার প্রতিকার
  • শিক্ষা খাত ও জাতীয় বাজেট
  • ফুটবল বিশ্বকাপ ছড়িয়ে দিক সম্প্রীতির বার্তা
  • আসুন, আমরা মাদককে না বলি
  • মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন
  • ইতিকাফ
  • ট্রাম্পইজম, কর্তৃত্ববাদ : আমেরিকান উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিপদ
  • রমজানের তাৎপর্য ও রোজার উপকারিতা
  • একটি তাৎক্ষণিক মিথস্ক্রিয়া
  • অর্থ বছরে দুটি প্রত্যাশা
  • Developed by: Sparkle IT