উপ সম্পাদকীয়

ট্রাম্পইজম, কর্তৃত্ববাদ : আমেরিকান উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিপদ

এডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৬-২০১৮ ইং ০১:৩৮:৩৫ | সংবাদটি ৬০ বার পঠিত

জেরুজালেম জ্বলছে, ফিলিস্তিনি মুসলমানদের রক্তে জেরুজালেমের পিচঢালা রাজপথ লাল হয়ে ওঠছে। প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলী পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে প্রাণ সংহার হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলী আগ্রাসনের ইতিহাস অনেক পুরানো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জেরুজালেমে মুসলিমদের ওপর ইসরাইলী আগ্রাসনের মূল কারণ হলো জেরুজালেমে আমেরিকান দূতাবাস স্থানান্তর। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজ দেশের এবং এমনকী, বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে ইসরাইলের রাজধানী থেকে আমেরিকান দূতাবাস মুসলমানদের পবিত্র স্থান জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন এবং এর প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে ইসরাইলী সেনাবাহিনী নির্বিচারে হত্যা করে চলেছে ফিলিস্তিনিদের।
জেরুজালেমে আমেরিকান দূতাবাস স্থানান্তর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একরোখা কর্তৃত্ববাদী নীতির বহিঃপ্রকাশ। আমেরিকার ২০১৬ সালের প্রাক প্রেসিডেন্টসিয়াল নির্বাচনের প্রচারণাকালীন সময় থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য-বিবৃতিতে তাঁর একদেশদর্শী কর্তৃত্ববাদী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠেছিলো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত এক বছরেরও অধিক সময়ে তিনি এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা এমন অনেক কার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন যা আমেরিকান জনমতের পরিপন্থী এবং এমনকী, বিশ্বব্যবস্থায় আমেরিকান বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর নিকটেও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সকল কার্যব্যবস্থার অনেকগুলোই আমেরিকান সংবিধান ও প্রায় আড়াইশ বছরের চলা গণতান্ত্রিক শাসনের নিয়মনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। অর্থাৎ জনমত, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করেই মি. ট্রাম্প জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করেন। ওবামা কেয়ার খ্যাত স্বাস্থ্য কর্মসূচী বাতিলে উদ্যোগী হয়েছেন। আরো যেসব আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহ একতরফাভাবে বাতিল করে দিয়েছেন অথবা চুক্তি থেকে এককভাবে সরে এসেছেন সেগুলো হলো-ছয় জাতির ইরান পারমাণবিক চুক্তি, প্যারিস ক্লাইমেট চুক্তি, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশীপ ট্রেড এগ্রিমেন্ট, নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব কাজের মধ্যে কর্তৃত্ববাদের লক্ষণগুলো স্পষ্ট বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির পন্ডিত, গবেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। আর খোদ আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ প্রশ্ন তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কী আমেরিকার আড়াইশ বছরের গণতান্ত্রিক শাসন ও ঐতিহ্যের ওপর কর্তৃত্ববাদের পেরেক বসিয়ে দিতে চাইছেন? তিনি রাশিয়ার পুতিন বা তুরস্কের এরদোয়ানের ন্যায় রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা নিজের একক হাতে কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে আমেরিকায় এক ব্যক্তির কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছেন? মি. ট্রাম্প কী আমেরিকার, ‘ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি’ উপেক্ষা করছেন? এ ধরনের প্রশ্ন এখন আমেরিকার সর্বত্র। মিডিয়াগুলো আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মি. ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী শাসন সম্পর্কে সতর্ক করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা খন্ড খন্ড বই লিখে চলেছেন ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি বই হলো, হার্ভার্ডের দুজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর স্টিভেন লেভিস্কী ও প্রফেসর ডানিয়েল জিভলাট এর লেখা,-‘হাউ ডেমোক্রেসিস ডাই’ এবং অন্যটি হলো,-সাবেক প্রেসিডেন্টসিয়াল বক্তৃতার লেখক মি. ডেভিড ফ্রুয়াম এর রাজনৈতিক গ্রন্থ ‘ট্রাম্পকেসি’। উভয় গ্রন্থেই মি. ট্রাম্পকে আমেরিকান গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর বিপজ্জনক ব্যক্তি বলে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মি. ট্রাম্প গণতন্ত্র উপড়ে ফেলে দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনি আমেরিকার শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ওপর একক কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সচেষ্ট হয়েছেন এবং গণতন্ত্রের ওপর কর্তৃত্ববাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার জন্য কাজ করছেন। জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকনের রাষ্ট্র ভূমিতে লালিত গণতান্ত্রিক শাসনের ওপর এমনতরো কর্তৃত্ববাদী একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েমের বিষয়টি কল্পনাতেই আনতে পারেননি অতীতের কোনো প্রেসিডেন্টগণ, যেমনটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করে চলেছেন। তিনি এখন আমেরিকার উদারনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেফ কোলগান আমেরিকান গণতন্ত্রের ঝুঁকি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্পের অনুদার মনোভাবের বিষয়টি টেনে এনে বলেছেন,-‘গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে। বর্তমানে মি. ট্রাম্প হচ্ছেন প্রকৃত বিপদ।’
আমেরিকায় সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি স্বীকৃত। এখানকার রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ অর্থাৎ, শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ নিজ নিজ এখতিয়ারে স্বাধীন, সমান এবং এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। প্রত্যেকটি বিভাগের ক্ষমতা ও এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করে দেবার ফলে কোনো বিভাগই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই। এছাড়াও রয়েছে ‘চেক এন্ড ব্যালান্স নীতি।’ অন্যদিকে, অগণতান্ত্রিকতার উত্থান রুখতে এবং গণতান্ত্রিক শাসন শক্তিশালীকরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সংবাদ মাধ্যম সমূহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিলো। কেননা, আমেরিকান রাষ্ট্রপিতারা বিশ্বাস করতেন,-‘স্বাধীন, মুক্ত গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অভিভাবক।’ তাঁরা মনে করতেন, এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা জনগণের শত্রু। আর কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাধারী সার্বভৌম শাসকের শত্রু হলো-মুক্ত, স্বাধীন গণমাধ্যম। এই মুক্ত এবং স্বাধীন গণমাধ্যমই আমেরিকার উদারনৈতিক গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে যেকোনো স্বৈরশাসকের কবল থেকে, এমন প্রত্যাশা ছিলো আমেরিকান স্থপতিদের।
আমেরিকায় স্বৈরতান্ত্রিক মনোবৃত্তির শাসকের আবির্ভাব হতে পারে বলে আশংকা ছিলো আমেরিকান রাষ্ট্রপিতাগণদের মধ্যে। তাই স্বৈরশাসকের উদ্ভব ঠেকানোর জন্য নানা সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। কিন্তু গণতন্ত্রের আড়াইশ বছরের লগ্নে এসে দেখা যাচ্ছে আমেরিকান স্থপতিদের আশংকা বাস্তবতায় রূপ নিতে চলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার উদারনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য মূর্তিমান আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। রাষ্ট্রের সংবিধান, উদারনৈতিক গণতন্ত্র, রাষ্ট্রের তিন বিভাগ, স্বাধীন গণমাধ্যম সহ উদারনৈতিক শাসন ব্যবস্থার জন্য যা কিছু অপরিহার্য, তার সব কিছুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন মি. ট্রাম্প। তাঁর ক্ষমতার তীব্র লোভ ও আকাংখার নিকট আমেরিকান উদারনৈতিক ব্যবস্থা বর্তমানে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মি. ট্রাম্প আমেরিকান বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থাকে সেকেলে বা প্রাচীনপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। সংবিধানে বর্ণিত ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং চেক এন্ড ব্যালেন্স কে সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইট ইজ ভেরি রাফ সিস্টেম’। ফক্স নিউজ এর সাথে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে (বৃটেনের দি গার্ডিয়ানে ৩০ এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রকাশিত) মি. ট্রাম্প আরো বলেন, এ পদ্ধতি সেকেলে এবং এটি সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য মন্দ একটি পদ্ধতি।
মি. ট্রাম্প তাঁর বিশ্বাসে অটল এবং এ কারণে বিদ্যমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে, অর্থাৎ আইন, বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি এক ধরনের বেহায়ার মতোই স্বাধীন কংগ্রেস, আদালত ও প্রেসের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নানা উপায়ে কংগ্রেস, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের প্রতি বিষোদগার ও হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন এবং গণমাধ্যমেক ‘জনগণের শত্রু বলে অভিহিত করেছেন।’ সিএনএন-এর রাজনৈতিক ভাষ্যকার ডেভিড জারগিন মি. ট্রাম্পের এমন নীতি ও পদক্ষেপকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্থানের লক্ষণ বলে সতর্ক করেছেন। পার্টি পলিটিক্স, মাস কম্যুনিকেশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সিভিল সার্ভিস, এফবিআই, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, আইন বিভাগ, সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রভৃতি সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে মি. ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে সচেষ্টা রয়েছেন, এবং এখানেই কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা উত্থানের আশংকার দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। ‘মি. ট্রাম্প নতুন কিছু করতে চাইছেন, যা অবশ্যই বিপজ্জনক এবং আমাদের রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর, ‘তিনি সত্য এবং স্বাধীনতার শত্রু’-মন্তব্য আমেরিকার রাজনৈতিক ভাষ্যকার জেফরি সি আইসাকের। এ বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্প রাষ্ট্রের সকল এপারেটাসের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছেন। অন্যদিকে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের তুলনামূলক রাজনীতির ফেলো প্রফেসর কেলাস তাঁর ‘ডেসপোটস এপ্রেনটিস’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আইনের শাসনকে রাজনীতিকরণ করার মূখ্য লক্ষ্য হলো কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাওয়া এবং ট্রাম্প এ ধরনের কাজই করছেন যার উদ্দেশ্য হলো আমেরিকান গণতন্ত্রের ওপর কর্তৃত্ববাদ চাপিয়ে দেওয়া। এজন্য ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই আমেরিকান গণতন্ত্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রমণ করে দুর্বল করে দিচ্ছেন। এটিকে ‘আমেরিকান ভার্সন অব অথোরিটারিজম’ বলছেন কেলাস।
একই ইমেইল বার্তায় ব্রাকিংস ইন্সটিউটের সিনিয়র ফেলো মি. হেনরি এ্যারন লিখেছেন, ‘ট্রাম্প ইজ এ পলিটিক্যাল উইপেন অব মাস সেলফ ডেসট্রাকশন ফর আমেরিকান ডেমোক্রেসি ফর ইটস নরমস, ফর ইটস মরালিটি, ফর শিয়ার হিউম্যান ডিকেনসি।’
আমেরিকান গণতন্ত্র ও উদারতাবাদকে অবনমন করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ছয়টি মৌলিক বিষয়ের ওপর আঘাত করেছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। এগুলো হলো-১. স্বাধীন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিকরণের মাধ্যমে দুর্বল করা, ২. ভুঁয়া তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচার করা, ৩. শাসন বিভাগের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করা, ৪. ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার অস্বীকার করা, ৫. ধর্মীয় সম্প্রদায় ভিত্তিক বৈষম্য প্রদর্শন করা এবং ৬. নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত করা।
বিশ্বের নানা দেশের একনায়ক ও কর্তৃত্ববাদী শাসকরাই উপরোক্ত কাজগুলো করে থাকে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং যেহেতু ট্রাম্পের মধ্যে অত্যধিক ক্ষমতা লোভ আছে, সেহেতু তিনি প্রকাশেই উপরোক্ত কাজগুলো করে নিজের ক্ষমতাকে কর্তৃত্ববাদের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন এবং এজন্য তিনি আমেরিকান উদারনীতিকে অবজ্ঞা করে চলেছেন। ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির আদর্শ আমেরিকান গণতন্ত্রের ঐতিহ্য ও গৌরবকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমেরিকান গণতন্ত্রের উচ্ছসিত প্রশংসা করে এক সময় বিখ্যাত জুরিস্ট লুইস ব্রানডিজ ‘ল্যাবরেটরিজ অব ডেমোক্রেসি’ বলে অভিহিত করেছিলেন, ট্রাম্পের একরোখা ‘পাওয়ার গ্রীপ’ নীতির কারণে-‘ল্যাবরেটরিজ অব অথরোটারিয়ানিজম’-এর অভিধায় অভিহিত হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকারগণ।
রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতে, ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি যার পাবলিক অফিসে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই এবং তিনি ২০১২ সালের পূর্বে কখনো সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না বিধায় দেশের সংবিধান, জনঅধিকার ও বিদ্যমান গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক আদর্শ সম্পর্কে তাঁর কোনো কমিটমেন্ট নেই ও ছিলো না। তিনি ছিলেন জীবনভর একজন ব্যবসায়ী এবং বিশাল কর্পোরেট কোম্পানীর মালিক, ব্যবস্থাপক। কোম্পানী পরিচালনায় তাঁর ছিলো একচ্ছত্র ক্ষমতা। তিনি যে আদেশ-নির্দেশ দিয়েছেন কোম্পানীতে কর্মরত ব্যক্তিরা বিনা প্রশ্নে সেটি পালন করেছিলেন। কেননা, কোম্পানীর কর্মকর্তা কর্মচারীগণ ছিলেন তাঁর অনুগত ও বাধ্যগত ভৃত্য। কাজেই সেই ব্যবসায়িক ব্যক্তি যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হলেন তখন তাঁর মধ্যে স্বভাবতই ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজ করবে। প্রেসিডেন্সীতে এসেও তিনি সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁর অধীনস্থ বলেই ধরে নেবেন। সবাই তাঁর আদেশ-নির্দেশ বিনা বাক্যে পালন করবে এমনটা প্রত্যাশা করবেন। অর্থাৎ কোনো সমালোচনা নয়, সকলের লয়ালিটিই তাঁর প্রত্যাশা। মূলতঃ রাষ্ট্র আর কোম্পানীকে তিনি গুলিয়ে ফেলেছেন বলেই কোম্পানীর ব্যবস্থাপক হিসেবে যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায়ও সে ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করার মনোবৃত্তি তাঁর মধ্যে বিদ্যমান থাকায় কর্তৃত্ববাদী ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং গণতন্ত্র একটি বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্প শাসনে আমেরিকায় চলছে গণতন্ত্র বনাম কর্তৃত্ববাদের মধ্যে আদর্শিক লড়াই এবং এ যুদ্ধে গণতন্ত্র নাকি কর্তৃত্ববাদ জয়যুক্ত হবে সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বেশ কিছুটা সময়।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে যা করণীয়
  • জাতিসংঘ দিবস আজ
  • নির্বাচনী ইশতেহার এবং ভোটারদের করণীয়
  • ইয়েমেন সংকট : কে কার সঙ্গে লড়াই করছে?
  • বৃটিশ আমলে সিলেটের প্রথম আইসিএস গুরুসদয় দত্ত
  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
  • প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন কাম্য
  • ইতিহাসের একটি অধ্যায় : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান
  • সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি থামানো যাবে না?
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • Developed by: Sparkle IT