শিশু মেলা

সত্যের পুরস্কার

অমিত কুমার কু-ু প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৬-২০১৮ ইং ০১:৪০:৩৬ | সংবাদটি ৮৩ বার পঠিত

হাইস্কুলে ইংরেজি শিক্ষক এটিএম খাইরুল আনামের জীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। গতকালই প্রথম দিন, যেদিন তার ক্লাসে একজন ছাত্রও আসেনি। তাই আজ তার মেজাজ ভালো নেই। ক্লাসে আসার পর ছাত্ররা উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিলেও, তিনি কাউকে বসতে বললেন না। বেতটা টেবিলের উপর রেখে, ভ্রু-কুচকে ছাত্রদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন,
-গতকাল ক্লাসে আসনি কেন?
কেউ কোন উত্তর না দেওয়াতে, সজলের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কেন আসনি?
-স্যার, পেটে ব্যাথা করছিল।
-তোমার কারণ কি? অন্য একটা ছেলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করলেন।
-স্যার মায়ের শরীর খারাপ করেছিল, মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম।
-তোমার কারণ বল। আরেকজনকে প্রশ্নটা করলেন।
এভাবে একে একে ক্লাসের সব ছাত্রই উত্তর দিয়েছে। বাকি আছে অনিক।
সবশেষে অনিকের কাছে- প্রশ্ন করলে অনিক বললো,
-স্যার গতকাল টিফিনের পর ভারত-পাকিস্তানের ফাইনাল ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। সেটার জন্যই আসিনি।
এতক্ষণ স্যারের মুখ গম্ভীর আর মুখে রাগের রেখাগুলো স্পষ্ট ছিল। এবার মৃদু হেসে উঠলেন। তারপর বললেন,
-ক্লাস ফাঁকি দিয়ে খেলা দেখা কি ঠিক?
মাথা নিচু করে অনিক বললো,
-না স্যার, ঠিক না।
-তবে দেখলে কেন?
-স্যার, আমরা গতকাল ঠিক করেছিলাম সবাই খেলা দেখবো, কেউ আসবো না। তাই আসি নি।
-সেটা আমাদের জানাওনি কেন?
-ভয়ে স্যার।
-কিন্তু এখনতো আরো বেশি অন্যায় করেছো, এখন ভয় করছে না।
-করছে স্যার।
-তবে কি শাস্তি তোমরা চাও? তোমরাই বল।
অনিক এবার আর কোন কথা বললো না।
স্যার আবার বললেন,
-কি বলো, কি শাস্তি চাও?
-এবার অনিক আস্তে আস্তে বললো,
-আপনার যা ইচ্ছা, তাই দিতে পারেন স্যার।
স্যার আবার মৃদু হেসে উঠলেন, তারপর বললেন,
-বসো।
সবাই এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। স্যারের অনুমতি পেয়ে নিরবে বেঞ্চে বসে পড়লো।
তারপর স্যার হাসিমুখে বললেন,
-তোমরা সবাই মিথ্যা কথা বলেছো। একমাত্র অনিক সত্য বলেছে। আমি মিথ্যা বলা পছন্দ করি না। তবে যে সত্য বলে, তাকে খুব ভালবাসি। খুব ভয় পেয়েও অনিক সত্য কথা বলেছে। তার সৎ সাহসে মুগ্ধ আমি। আজ অনিকের জন্য অনিকের বন্ধুদের মাফ করে দিলাম। ভবিষ্যতে এরকমটি করবে না। সবাই ঘাড় নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো। আর অনিকের মুখটা সত্যের পুরস্কারে ঝলমল করে উঠলো।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT