সম্পাদকীয় সাধারণত আইন বাঁচাইয়া চলিলেই সমাজ নীরব থাকে। কিন্তু আইনের ওপরেই যে ধর্ম আছে, সেখানে সমাজের কোন দাবি খাটে না। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

একটি বাড়ি একটি খামার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৬-২০১৮ ইং ০১:১৮:২০ | সংবাদটি ৫১ বার পঠিত

‘একটি বাড়ি একটি খামার’ আটকা পড়ে আছে চোরাবালিতে। প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না। অনিয়ম দুর্নীতির বেড়াজালে বন্দী হয়ে পড়েছে প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী। হতদরিদ্রদের ভাগ্যের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে গঠিত এই প্রকল্পের রক্ষকরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পভুক্ত ৩৮ লাখ হতদরিদ্রের ভাগ্যের পরিবর্তন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বরং তাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে দুর্নীতিবাজ চক্র। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন। খবরটি একটি জাতীয় দৈনিকের।
সমাজের হতদরিদ্রদের কল্যাণে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি চালু হয় ২০০৯ সালে। মূলত গ্রামীণ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির লক্ষে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ঋণ সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের মেয়াদ ছিলো ২০১৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত। এর পর দুই দফায় প্রকল্প সংশোধন করে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুলাই পর্যন্ত করা হয়। এর মধ্যে প্রকল্পটিকে স্থায়ী রূপ দিতে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন’ পাস করা হয়। সর্বশেষ প্রকল্পের মধ্যে নানা সংশোধন এনে মেয়াদ ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ ওঠেছে প্রকল্পের শুরু থেকেই। আর দশটি সরকারি প্রকল্পের মতোই অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে এই প্রকল্পে। প্রথম ধাপে সমিতি গঠনেই রয়েছে অনিয়ম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। জানা গেছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪০ হাজার পাঁচশ ২৭টি সমিতি গঠন করা হয়। প্রতিটি সমিতির ৬০ জন করে সদস্য; সবমিলিয়ে সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ। এই গ্রাহকরা প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা সঞ্চয় করছে এবং এর সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ সরকার থেকে দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সদস্যরা সরকারের প্রদত্ত অর্থ পাচ্ছেন না। এছাড়া, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক গঠন করার পর ব্যাংকের ৪৯ শতাংশ শেয়ার সমিতির সদস্যদের কাছে বিক্রি করা হয়। এর জন্য প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ছয়শ টাকা করে মোট দু’শ কোটি টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত শেয়ার মূলধনের কোন দলিলপত্র দেয়া হয়নি সদস্যদের। এছাড়া প্রকল্পে এ পর্যন্ত বরাদ্দ আট হাজার দু’শ কোটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। মূলত এই প্রকল্পের পরিপূর্ণ রূপ দেয়ার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি মোটেই সন্তোষজনক নয়। খোদ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, এই প্রকল্পে মাঠ পর্যায়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। জানা গেছে, বেসরকারী সংস্থাগুলো মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ঋণ দিয়ে এলেও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের একজন গ্রাহককে ঋণ পেতে কমপক্ষে ৪৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর নিতে হয়। আর ৫ হাজার টাকা ঋণ নিতেও ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতোসব হয়রানি সহ্য করে ঋণ নিতে আগ্রহী নয় সদস্যরা। সব মিলিয়ে অনিয়মের বেড়াজালে বন্দী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্পটি। অচিরেই অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT