স্বাস্থ্য কুশল

 তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৬-২০১৮ ইং ০১:৪২:৪৬ | সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
এ প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবী লিখেছেন : হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), হযরত ওমর (রা.), হযরত ওসমান গণী (রা.) হযরত আলী (রা.), হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) প্রমুখ সাহাবিগণ এ সম্বন্ধে অভিমত পোষণ করেন যে, এগুলো আল্লাহ তা’আলার রহস্যজনিত বিষয় এবং তাঁর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। এ বিশ্বাস রেখে এগুলোর তেলাওয়াত করতে হবে। কিন্তু এগুলোর রহস্য উদ্ধারের ব্যাপারে এবং তত্ত্ব-সংগ্রহে আমাদের ব্যস্ত হওয়া উচিত হবে না।
ইবনে কাসীরও কুরতুবীর বরাত দিয়ে এ মন্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কোন কোন আলেম এ শব্দগুলোর যে অর্থ বর্ণনা করেছেন, সেগুলোকে ভুল প্রতিপন্ন করাও উচিত হবে না। কেননা, তাঁরা উপমাস্থলে এবং এগুলোকে সহজবোধ্য করার উদ্দেশ্যেই এসব অর্থ বর্ণনা করেছেন।
‘যালিকাল কিতাবু লা রাঈবাফিহ’ সাধারণতঃ ‘যালিক’ কোন দূরবর্তী বস্তুকে ইশারা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ‘আল কিতাব’ দ্বারা কুরআন মজীদকে বোঝানো হয়েছে। ‘রাঈবা’ অর্থ সন্দেহ-সংশয়। আয়াতের অর্থ হচ্ছে, এটি এমন এক কিতাব যাতে সন্দেহ-সংশয়ের কোন অবকাশ নেই। এটি বাহ্যতঃ দূরবর্তী ইশারার স্থল নয়। কারণ, এ ইশারা কুরআন মজীদের প্রতিই করা হয়েছে, যা মানুষের সামনেই রয়েছে। কিন্তু দূরবর্তী ইশারার শব্দ ব্যবহার করে একথাই বোঝানো হয়েছে যে, সূরাতুল ফাতেহাতে যে সিরাতুল মুস্তাকীমের প্রার্থনা করা হয়েছিল, সমগ্র কুরআন মজীদ সে প্রার্থনারই প্রত্যুত্তর। এটি সিরাতুল মুস্তাকীমের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও বটে। অর্থ হচ্ছেÑআমি তোমাদের প্রার্থনা শুনেছি এবং হেদায়েতের উজ্জ্বল সূর্যসদৃশ্য পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেছি। যে ব্যক্তি হেদায়েত লাভে ইচ্ছুক সে যেন এ কিতাব অনুধাবন করে এবং তদনুযায়ী আমল করে।
এতদসঙ্গে এ কথাও বলে দেয়া হচ্ছে যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কোন কালামে বা বক্তব্যে সন্দেহ ও সংশয় দু’কারণে হতে পারে। কারো বুদ্ধিমত্তার স্বল্পতার দরুণ সন্দেহ উপস্থিত হতে পারে। যার উল্লেখ কয়েক আয়াত পরেই খোদ কুরআন শরীফে রয়েছে যেমন-যদি তোমরা এতে সন্দেহ পোষণ কর। (অতএব বুদ্ধির স্বল্পতাহেতু কারো মনে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও এরূপ বলা ন্যায় সঙ্গত যে, এ কিতাবে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই।
যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে, তাদের জন্য হেদায়েত। অর্থাৎ, যে বিশেষ হেদায়েত পরকালের মুক্তির উপায়, তা কেবল মুত্তাকীদেরই প্রাপ্য। অবশ্য কুরআনের হেদায়েত মানবজাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমস্ত বিশ্বচরাচরের জন্য ব্যাপক। সূরাতুল ফাতেহার তাফসিরে বর্ণনা করা হয়েছে যে, হেদায়েতের তিনটি স্তর রয়েছে। (এক) সমগ্র মানবজাতি, প্রাণীজগত তথা সমগ্র সৃষ্টির জন্যই ব্যাপৃত। (দুই) মুসলমানদের জন্য খাস। (তিন) যারা আল্লাহ তা’আলার বিশেষ নৈকট্য লাভ করেছে, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তথাপি হেদায়েতের স্তরের কোনো সীমারেখা নেই।
কুরআনের কোথাও ‘আম’ বা সাধারণ এবং কোথাও বিশেষ হেদায়েতের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এখানে বিশেষ বা সুনির্দিষ্ট হেদায়েতের কথা বলা হয়েছে। এজন্যই হেদায়েতের সঙ্গে মুত্তাকিগণকে বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে বলেই এরূপ সংশয় প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। হেদায়েতের বেশি প্রয়োজন তো সে সমস্ত লোকেরই ছিল, যারা মুত্তাকী নয়। কেননা, ইতোমধ্যে হেদায়েতের স্তর বিন্যাস করে এসব সংশয়ের অবসান করে দেয়া হয়েছে। তাই এখন আর একথা বলা ঠিক নয় যে, কুরআন শুধু মুত্তাকীদের জন্যই হেদায়েত বা পথপ্রদর্শক, অন্যের জন্য নয়। (অসমাপ্ত)

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  •   নীরব ঘাতক রক্তচাপ
  • গর্ভাবস্থায় কী খাবেন
  •   মাতৃস্বাস্থ্য ও মাতৃমৃত্যু কিছু কথা
  • সচেতন হলেই প্রতিরোধ ৬০ শতাংশ কিডনী রোগ
  •   হৃদরোগীদের খাবার-দাবার
  • ঘামাচি থেকে মুক্তির উপায়
  • মুখে ঘা হলে করণীয়
  • পায়ের গোড়ালি ব্যথায় কী করবেন
  • নীরব রোগ হৃদরোগ
  • পরিচিত ভেষজের মাধ্যমে অর্শের চিকিৎসা
  • অনিদ্রার অন্যতম কারণ বিষন্নতা
  • রক্তশূন্যতায় করণীয়
  • চোখে যখন অ্যালার্জি
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
  • রোগ প্রতিরোধে লেবু
  •  স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের যত্ন নিন
  • শিশুর উচ্চতা কমবেশি কেন হয়
  • গরমে পানি খাবেন কতটুকু ডা. তানজিয়া নাহার তিনা
  • অধূমপায়ীদের কি ফুসফুসের রোগ হয়?
  • বিষন্নতা একটি মানসিক রোগ
  • Developed by: Sparkle IT