প্রথম পাতা

বাজেট নিয়ে সিলেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ইউনুছ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৬-২০১৮ ইং ১৯:৩২:৫৮ | সংবাদটি ৬৪ বার পঠিত

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে গতকাল বৃস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের এ বাজেট উত্থাপন করেন তিনি। এটি দেশের ৪৭তম বাজেট।
তবে সিলেটের বিশিষ্টজনেরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকে এ বাজেটকে বাস্তবধর্মী, উন্নয়ন ও শিল্পবান্ধব, সময় উপযোগী ও গণমুখী বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবার অনেকে একে অবাস্তব, গরিবমারা, নির্বাচনমুখী, লুটপাটের বাজেট বলে মন্তব্য করেন।
গত অর্থবছরে (২০১৭-২০১৮) বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও এটি ১২তম বাজেট উপস্থাপন। এর আগে অর্থমন্ত্রী এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮২-৮৩ এবং ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন। অর্থমন্ত্রী টেকসই উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নকে প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য ও কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন। বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, ৮৫ বছর বয়সে এসেও অর্থমন্ত্রী যেভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তার প্রশংসা ও তাকে ধন্যবাদ জানান অনেকে।

সিলেট আওয়ামী লীগ ঃ ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, জেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, গণমুখী এ বাজেট পেশ করায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সিলেটের কৃতিসন্তান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ধন্যবাদ জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরো বলেন, এই বাজেটে এদেশের সাধারণ মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।

নাসিম হোসাইন ঃ সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বাজেটকে নির্বাচনমুখী একটি অবাস্তব ও লুটপাটের বাজেট বলে মন্তব্য করে বলেন, বাজেটে নির্বাচনের পূর্বে নেতাকর্মীদের লুটপাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে করর্পোরেটের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে এবং গণমানুষের বোঝা বাড়ানোর হয়েছে। কর্পোরেট কর কমানোর মাধ্যমে ব্যাংক লুটেরাদের আরো সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এ বাজেটকে গরীবের টাকায় ধনীদের লালনের বাজেট বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এ সরকার গণমানুষের সরকার নয়, তাই তাদের পক্ষে জনকল্যাণের বাজেট সম্ভব নয়।

খন্দকার সিপার আহমদ ঃ সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ ২০১৮-২০১৯ সালে বাজেটকে একটি উন্নয়ন ও শিল্পবান্ধব এবং সময়োপযোগী বাজেট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এই অবস্থায় এ বাজেট অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক। এ বছর বাজেটে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫শ ৭৩ কোটি টাকা। যা জিডিপি’র ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। করদাতা ও রাজস্ব বিভাগ সম্মিলিত ভাবে কাজ করলে এ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি বলেন, বাজেটে ৯ ধাপের ভ্যাট ব্যবস্থাকে ৫ ধাপে নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং নতুন কর আরোপের প্রস্তাব না করায় এবাজেট শিল্পায়ন ও ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য সহায়ক হবে। বাজেটে যোগাযোগ উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সিলেটের সাথে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের দাবি জানান।

ফারুক মাহমুদ চৌধুরী ঃ সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী সবাইকে খুশি করার বাজেট বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তবে এতে কেউই খুশি হবে না। এ বিশাল বাজেট লোক দেখানোর জন্য। এ বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের নেই। তাছাড়া বাজেটে ঘাটতি দেড় লক্ষ কোটি টাকা। এতে বাজেট উন্নয়ন না হয়ে, জনগণের বোঝার কারণ হবে। একে নির্বাচনী বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কাজ দেখানোর নামে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের নিকট বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাদের কারোই বাজেটের ব্যাপারে কোন উচ্ছাস-আগ্রহ দেখা যায়নি। দ্রব্য মূল্য না বাড়লেই তারা খুশি বলে মন্তব্য করেন।

সবজি ব্যবসায়ী, আলমগীর হোসেন ঃ বন্দরবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন টেলিভিশনে এবং ক্রেতাদের নিকট থেকে বাজেট সম্পর্কে শুনেছেন। তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার কথা শুনলেও বিস্তারিত জানিনা। বাজেট সম্পর্কে তার কোন আগ্রহ নেই। তবে দ্রব্য মূল্য না বাড়লেই তিনি খুশি।

গাড়ি চালক, হারুন আহমদ ঃ তিনি জানান-এইসব নিয়ে ভাবার কোন সময় নেই তার। সংসার কিভাবে চলবে সেই চিন্তাই অস্থির। তবে বাজেটের কথা টিভিতে শুনি এবং দেখি। এর পর শহরে নানা মিছিল মিটিং হয়। আমাদের দ্রব্য মূল্য, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া না বাড়লেই হলো। বেতন বাড়েনা, কিন্তু দ্রব্য মূল্য বেড়ে গেলে কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • মন্ত্রীসভা ছোট না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
  • ব্যারিস্টার মইনুল গ্রেফতার
  • রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার ইচ্ছা নেই, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই লক্ষ্য
  • অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বার্তা দিয়েছি
  • শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে এসে কাজ করছি
  • দুই মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল্যতালিকা নির্ধারণের নির্দেশ
  • সরকারি চাকরি আইন সংবিধানপরিপন্থী: টিআইবি
  • সাঈদা মুনা তাসনিম যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার
  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হর্ষ বর্ধণ শ্রীংলার সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে নতুন জোটকে স্বাগত জানাই
  • কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে সন্তোষ প্রকাশ
  • রেজিস্ট্রারী মাঠে মঞ্চ নির্মাণ কাজ শুরু , আজ আনুষ্ঠানিক প্রচারণা
  • ভরাট ও সংকোচনে মৃতপ্রায় কমলগঞ্জের ‘দেওছড়া’ উপজেলা মৎস্য অফিসের মতবিনিময়
  •   সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তারে অনুমতি লাগবে
  • কামালকে নিয়ে সংসদে আলোচনা চান এমপিরা
  • প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ
  • ওসমানীনগরে শাহ আজিজুর রহমান স্মরণে শোক সভা
  •   ওসমানীনগরে ডাকাত গ্রেফতার
  • রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখেছে
  • সিলেট সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতি লিখিত বরখাস্ত নকলনবিশ মাহমুদ ও উমেদার নাহিদসহ ৪ জন
  • Developed by: Sparkle IT