উপ সম্পাদকীয়

মাদক সমস্যার প্রতিকার

আমীরুল হোসেন খান প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৬-২০১৮ ইং ০১:১১:১২ | সংবাদটি ২৬ বার পঠিত

একেবারে সাদাসিধে ছেলে। অসম্ভব নম্র ভদ্র ও অমায়িক। বন্ধুর খোঁজে বাসায় গেলেই সালাম! চাচ্চু কেমন আছেন? কতদিন পরে এলেন। এতদিন কোথায় ছিলেন?
আগে বসে নেই তারপর তোর সব প্রশ্নের উত্তর দিব। বাবা বাবা ও বাবা চাচ্চু এসেছে। দেখতে দেখতে তোর ছেলেটা কত্ত বড় হয়ে গেছে রে। দোয়া করিস বন্ধু! এইচএসসি তে ভাল রেজাল্ট করল। অন্য কোথাও চান্স না পেয়ে নামকরা একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হল। টাকা পয়সা বড় কথা ছেলে মানুষ হোক এটাই চাওয়া। মাস কয়েক পর হঠাৎ করে দেখা।
বাবা কিরে তোর কি শরীর খারাপ? না চাচ্চু রাত জেগে পড়াশুনা করি তাই হয়তো। ইত্যবসরে ওর বন্ধুরা এল...। খুটিয়ে দেখছি বিধায় কেমন জানি চটজলদি সরে গেল। মনের ভিতর খচখচ করছে। কেমন জানি সংগতি নাই। ওর সাথে মেলে না। বন্ধুকে বললাম। নাহ রে তেমন কিছু না পড়াশুনার চাপ। পত্রিকা অফিসে আসা যাওয়া করি সামনে পড়লে চট করে সরে যায়। বিশেষ কাজে এক জায়গায় যাচ্ছি।
হঠাৎ করে দেখলাম বাইকে বসে গুলতানি মারছে ক’ বন্ধু। চাচ্চু আপনি এখানে? আমার মনেও ঠিক একই প্রশ্ন! এই এলাকা মাদক জগতের এক অভয়ারণ্য! ও এখানে কেন? গভীর রাতে বন্ধুর ফোন একটু বাসায় আসবি? সমগ্র বাসা তছনছ। প্রায় প্রতিদিন নানা অজুহাতে টাকা চাই। আজকে মা দেয়নি তাই এই অবস্থা! যা বুঝার বুঝে গেছি। বাইরে আয় সব বিস্তারিত বললাম। ও তাইতো আমার ছেলেতো কখনো এমন ছিল না! এখন কথা বলে লাভ নেই। ওর তোদের সবার সহযোগিতা দরকার। প্রায় ছয়মাস চিকিৎসা শেষ করে এখন মোটামুটি সুস্থ!
সবার কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয় না। মাদকের ভয়াবহ থাবায় যে একবার পড়েছে তার আর রক্ষে নাই। একটা গোটা পরিবার ধ্বংস করতে একজন মাদকসেবী যথেষ্ট। বর্তমানে আমাদের সমাজ মাদক নামক ভয়াবহ ক্যান্সারে আক্রান্ত! এ সময়ে মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার সাধুবাদ পাওয়ার দাবী রাখে। তবে প্রশ্ন উঠে নির্মূলের ধরণ নিয়ে। অন্য সব উপকরণ ছাড়া প্রতিদিন শুধুমাত্র পঞ্চাশ লক্ষ ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়ছে কিঞ্চিৎ মাত্র। পার্শবর্তী প্রতিবেশী দেশ থেকে বানের জলের মত মাদক আসে। নিত্য নতুন কৌশল নিয়ে হাজার হাজার মানুষ এ পেশায় জড়িয়ে। বলাবাহুল্য এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বহুল আলোচিত চিহ্নিত গডফাদার দের হাতে। তাদের নিয়ে শত শত ধারাবাহিক প্রতিবেদন পেপার মিডিয়া আসে। কখনো তার প্রতিবাদ মানহানির মামলা করতে দেখিনি। প্রমাণ হিসেবে সেসব হয়তো কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। আইনের ফাঁক গলে এসব রাঘব বোয়ালরা বরাবর ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যান। প্রমাণ নাই তাই উনারা আছেন বহাল তবিয়তে।খুচরো বিক্রেতা বা পাইকারদের ওপর খড়গহস্ত হয়ে আদৌ কি মাদক মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব?
টেকনাফসহ সব সীমান্ত পথে আসা মাদক নামমাত্র মূল্যে বহন করার জন্য বিপুল সংখ্যক লোক জড়িয়ে আছে। বেঁচে থাকার তাগিদে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা সহ দরিদ্র স্থানীয়রা ও পেশায়। টেকনাফ উখিয়া রামু কক্সবাজার ধুমধুমসহ সব সীমান্ত পথে রমরমা মাদক বাণিজ্য। স্থানীয় অনেক অনেক জনপ্রতিনিধি শত শত কোটি টাকার মালিক। সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকার সাথে সাথে প্রশাসনের আনুকূল্য। ঢাকা চিটাগংসহ দেশের সব বড় বড় বস্তিতে প্রতি রাতে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। এ বিপুল পরিমাণ অর্থের হাতছানি উপেক্ষা করা দুঃসাধ্য। শহর গ্রামের অলিগলি সর্বত্র সহজলভ্য। মাদকের সব রুট সব আখড়া পুলিশ প্রশাসনের জানা। তাদের অগোচরে কোন অবৈধ ব্যবসা চলতে পারে না। এ এমনি ভয়াবহ চক্র যাতে সবাই জড়িয়ে। প্রায়ই দেখা যায় ইয়াবাসহ পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরা হাতে নাতে ধরে পড়েন। সাসপেনশন বদলী সব হয় কিন্তু লোভের ফাদে অন্যরা জড়াবে না সে নিশ্চয়তা কিন্তু নাই। সমগ্র দেশের মাদকের এ বিশাল চাহিদার যোগান থেমে নেই। পর্দার আড়ালে কুশীলবরা ফুলে ফেঁপে ঢোল হচ্ছেন যথারীতি। সমাজ ও দেশের এসব প্রতিভূদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে মাদক যুদ্ধ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আগে সর্ষের ভূত তাড়ান তারপর আসবে সফলতা।
মাদকের কুফল সম্বন্ধে নতুন করে বলার কিছু নাই। একটি পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ধ্বংস করার জন্য এই মাদক। উচ্চবিত্ত পরিবারের কিছু কিছু বহুল আলোচিত নৃশংস ঘটনায় শিউরে উঠতে হয়। নিজের পিতামাতা ও রক্ষে পায় নি। নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ঘটনাবলী একই সব বর্বরতায় কোননা কোনভাবে জড়িয়ে আছে মাদক। রাষ্ট্রের সাথে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ জরুরী। নিজের সন্তান কোথায় যাচ্ছে কার সাথে যাচ্ছে জানা অবশ্যই কর্তব্য। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে গিয়ে কোন দুষ্টপাকে জড়িয়ে পড়ছে না তো? সন্তানের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করুন। ও যেন কখনো নিঃসঙ্গ না হয়। সে যাতে তার মন খুলে আপনার সাথে কথা বলতে পারে সে সুযোগটা দিন। সব সমীক্ষায় প্রমাণিত এই যে বিশাল তরুণ প্রজন্ম মাদকাসক্ত তাতে পরিবারের দায় সবচেয়ে বেশী। এতকিছুর পর ও যদি প্রাণপ্রিয় সন্তান কখনো মাদকে জড়িয়ে যায়, তবে তাকে ঘৃণা নয় একটু সহযোগিতা ভালোবাসা দিয়ে ফিরিয়ে আনুন আপন ভুবনে! ওরা দেশ তথা জাতির ভবিষ্যত।তারুণ্য সব সব প্রতিকূলতা জয় করতে পারে। সব লাজ ভয় শংকা দূরে ঠেলে নিজের ঘর পরিবার থেকে শুরু হোক এ যুদ্ধের!

 

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বাচ্চাটা একটা খেলনা ফোন চেয়েছিল
  • স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে কিছু প্রস্তাবনা
  • চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ
  • সিরিয়ার আকাশে শকুনের ভীড়-সামাল দিবে কে!
  • টের পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বকাপ প্রলয়
  • মাছের পোনা দেশের সোনা
  • শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল
  • যৌতুক, ইফতারি, আমকাঁঠলি বনাম নারী নির্যাতন প্রসঙ্গ
  • ঈদযাত্রায় ভোগান্তি রোধে ব্যবস্থা জরুরি
  • বজ্রপাত শনাক্তকরণ সেন্সর এবং কৃষকের সেন্স
  • মাদক সমস্যার প্রতিকার
  • শিক্ষা খাত ও জাতীয় বাজেট
  • ফুটবল বিশ্বকাপ ছড়িয়ে দিক সম্প্রীতির বার্তা
  • আসুন, আমরা মাদককে না বলি
  • মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন
  • ইতিকাফ
  • ট্রাম্পইজম, কর্তৃত্ববাদ : আমেরিকান উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বিপদ
  • রমজানের তাৎপর্য ও রোজার উপকারিতা
  • একটি তাৎক্ষণিক মিথস্ক্রিয়া
  • অর্থ বছরে দুটি প্রত্যাশা
  • Developed by: Sparkle IT