সম্পাদকীয়

পাট থেকে পলিথিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৬-২০১৮ ইং ০১:১২:৪০ | সংবাদটি ৪২ বার পঠিত

গত সপ্তাহে দেশে পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ‘প্লাস্টিক পুন ব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয় সারাদেশে। অর্থাৎ প্লাস্টিক পণ্যের অপকারিতাকেই এবার দিবসের মূল বিষয় করা হয়েছে। প্লাস্টিক বা পলিথিন পরিবেশ বিধ্বংসী। প্রাণী ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পলিথিন। সারা বিশ্বেই এখন এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। বিজ্ঞানীদের মতে, প্লাস্টিক পণ্যের লাগাম যদি এখনই টেনে ধরা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে মানুষ ও প্রকৃতি। সুতরাং এই বিপর্যয় ঠেকাতে পলিথিন বা প্লাস্টিকপণ্য বর্জনের কোন বিকল্প নেই। আর এই প্রেক্ষাপটে একটি ইতিবাচক খবর হলো- পাট থেকে পচনশীল পলিথিন আবিষ্কৃত হয়েছে।
বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন পাট থেকে পলিমার যা পাট পলিমার। ডক্টর মোবারক আহমেদ খান নামের এই বিজ্ঞানী ২০ বছরের গবেষণায় পাটের আঁশ থেকে উদ্ভাবন করেছেন এক ধরণের পলিথিন। যা পরিবেশ বান্ধব ও পঁচনশীল। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয় পাট থেকে পলিথিনের এই আবিষ্কার শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তাই বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে পারে পাটের সুদিন। কিন্তু এর বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে শুরুতেই। পাট থেকে পলিথিন উৎপাদন নামক একশ’ ৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে প্রকল্পটি।
পলিথিন শপিং ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরণের প্লাষ্টিক দ্রব্যে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। বিশেষ করে পলিথিন শপিং ব্যাগ এর ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত। কাঁচামাল থেকে শুরু করে তরল পণ্য, শুকনো দ্রব্য প্যাকেটজাত ও পরিবহণে মানুষ বলা যায় পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে ওঠেছে পলিথিনের ওপর। আর এই ব্যবহৃত পলিথিন শপিং ব্যাগ ফেলা হচ্ছে যেখানে সেখানে। এগুলো নালা নর্দমায় পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা ব্যহত করছে। পলিথিন যেহেতু পঁচনশীল দ্রব্য নয়, তাই এগুলো মাটির নীচে দীর্ঘদিন অক্ষত থাকে। ফলে কৃষিজমির উর্বরা শক্তি বিনষ্ট করছে এই পলিথিন। পলিথিন খাল, নালা, নদী, হাওর, বিল এমনকি সাগরের তলদেশেও জমাট হচ্ছে। তাই পলিথিন শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ববাসীর জন্যই বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে পলিথিনের বিরুদ্ধে আইন আছে। আইনে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পণ্যের মোড়কে পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু এই আইন কেউ মানছেনা।
পলিথিনের ওপর মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় পাটের ব্যাগ বা পাট পণ্যের ব্যবহার কমতে থাকে। আস্তে আস্তে পাটের উৎপাদনও কমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। পাটের উৎপাদনও বাড়তে শুরু করেছে। পাটের তৈরী বিভিন্ন দ্রব্যেরও উৎপাদন বেড়েছে। ঘোষিত হয়েছে পাটনীতি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘পাট পলিমার’। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে এই পাট পলিমার এর ব্যবহার শুরু হলে পাটের উৎপাদন বেড়ে যাবে, পরিবেশ বাঁচবে, বন্ধ হবে পলিথিন শপিং ব্যাগের অবাধ ব্যবহার। এই প্রেক্ষিতে পলিথিন বিরোধী আইন যথাযথভাবে কার্যকর করাও খুবই জরুরী। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সক্রিয় হওয়া দরকার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT