উপ সম্পাদকীয়

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি রোধে ব্যবস্থা জরুরি

রায়হান আহমেদ তপাদার প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৬-২০১৮ ইং ০১:১৫:৩৬ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেক কষ্ট সহ্য করে মানুষ গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায়। আর এই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য কারো মধ্যেই যেন চেষ্টা ও আন্তরিকতার অভাব দেখা যায় না। নাড়ির টানে মানুষ ছুটে চলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বাড়ি ফেরার সে যে কী আগ্রহ ও ব্যাকুলতা বলে বোঝানো কঠিন। মানুষ ছুটে চলে তার আপন ঠিকানায়, আপন সত্তায় মাটির টানে, নিজ ঠিকানায়। আর এই আনন্দের যাত্রায় কিছু সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োগ আপনার যাত্রাকে করতে পারে আরো উপভোগ্য। হোক ট্রেন, বাস বা লঞ্চ; গাদাগাদি করে চড়তে যাবেন না। অতিরিক্ত ভার বহন করতে যাওয়াটা বেশ ঝুঁকির। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের যে অবস্থা তাতে কষ্টের সীমা আরো হাজার গুণ বেড়ে যায়। ঈদের সাত দিন আগে থেকেই যানজট শুরু হয়ে যায়। এতে জনগণের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এ জন্য মহাসড়কের দিকে সর্বদাই নজর রাখতে হবে। সড়ক ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করতে হবে। তাহলে সব সড়কের অবস্থাই ভালো থাকবে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। রাস্তা ভালো হলে যানজট হবে না।ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ বাড়িতে যাবেই, এটা যেমন সত্য; সড়কপথ এত অল্প সময়ে নির্বিঘœ করা যাবে না, তা-ও মেনে নিতে হবে। ঈদের সময় যেহেতু চাপ বাড়ে, মহাসড়কের মেরামতের কাজ এত দ্রুত সম্ভব নয়। এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখলে যাত্রা নির্বিঘœ করা সহজ হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের বড় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। সারা দেশেই সড়ক-মহাসড়কের ভাঙাচোরা জায়গাগুলো সংস্কার করতে হবে।
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। জুনের ৮ তারিখের মধ্যে ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। ঈদে মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ঈদের আগে এবং পরে অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে উন্নয়নকাজ স্থগিত রাখতে হবে। যান চলাচল নির্বিঘœ করতে সড়ক দখলমুক্ত করতে হবে। সড়কের পাশ ঘেঁষে তৈরি সব স্থাপনা সরাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি। অস্থায়ীভাবেও দোকানপাট বসানো যাবে না। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে তৎপর হবে বলে আশা করি। লক্কড়ঝক্কড় মার্কা গাড়ি যেন রাস্তায় চলতে না পারে সে জন্য বিআরটিএকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরনো যানবাহন চালাতে হলে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তবেই নামাতে হবে। শিল্পাঞ্চলে বিশেষ পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া যায় কি না ভেবে দেখা দরকার। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়কে পুলিশের পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শৃঙ্খলা রাখতে হবে। ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে যান চলাচলে ব্যত্যয় ঘটুক তা কাম্য নয়। ঈদের সময় অতিরিক্ত ব্যবসা করার জন্য লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি, এমনকি নছিমনও হাইওয়েতে চলাফেরা করে। গাড়ির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে যানজট লেগেই থাকে। ঈদের আগে ও পরের তিন দিন হাইওয়েতে ট্রাক ও লরি বন্ধ রাখতে হবে। ট্রেনের বগি ও বাসের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে।
অনলাইনে টিকিট কেনার সুযোগ ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। সব রকম অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইওয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কালোবাজারে যেন টিকিট চলে না যায়। র্যাবের যে তৎপরতা চলছে, এটা যেন অব্যাহত থাকে। আর এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের সরাসরি তদারকি দরকার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় রাখতে হবে। ফিটনেস বিহীন গাড়ি ও অদক্ষ ড্রাইভারকে বাদ দিতে হবে। যত্রতত্র বাজার ও পার্কিং বন্ধ করতে হবে। মানুষের বিবেক সবচেয়ে বড় আদালত,এটা মনে রাখতে হবে ও মানতে হবে। ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালগুলোয় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়োগ দিতে হবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য। দিনের বেলায় কার্গো গাড়ি, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান এসবের চলাচল সীমিত করতে হবে। ঘরমুখো মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রেন ও বিভিন্ন গাড়ির টিকিট যেন কেউ ব্ল্যাকে বিক্রি করতে না পারে তার জন্য সতর্কবার্তা জারি করতে হবে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। রাস্তা সংস্কার করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ঈদের যাত্রায় বাস, ট্রেন ও নৌপথে বগি ও গাড়ি বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। এবার যেহেতু ঈদে ছুটি কম, তাই ছুুটি বৃদ্ধি করেও যানজট নিরসন করা সম্ভব। জল ও স্থলপথে সার্ভে করে ত্রুটি চিহ্নিত করা জরুরি।
ঈদের আগেই সব পথ চলাচল উপযোগী করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সব রাস্তার খানাখন্দ, ফেরিঘাট মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে হবে; মালিকদের সঙ্গে জরুরি সভা করে স্টিমার, লঞ্চ, বাস প্রভৃতির মেরামতকাজ শেষ করার তাগিদ দিতে হবে; লঞ্চ ও বাস পরিদর্শন করে দেখতে হবে সেগুলো নিরাপদ চলাচলের উপযোগী কি না। রেল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে কোচ মেরামতের কাজ হাতে নিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে সেবার হাত বাড়িয়ে দিলে ঈদ যাত্রা আনন্দমুখর হবে সন্দেহ নেই। স্বল্প দূরত্বে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিটে যাত্রী বহন করা যেতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ বিশেষ স্পটে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। দুই-তিন স্তরে নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যানজট নিরসনের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে। রাস্তার দুই পাশে বিঘœকারক কোনো স্থাপনা যেন না থাকে। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় থাকতে হবে। এতে সড়কপথের বিড়ম্বনা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত পদে পদে বিড়ম্বনা সইতে হয় ঘরমুখো মানুষকে। তবুও প্রিয়জনের সান্নিধ্যে যেতে পারার আনন্দে পথের বিড়ম্বনার স্মৃতি ও ক্লান্তি মুছে যায়। এ ক্ষেত্রে কালোবাজারি ও অযথা হয়রানি বন্ধে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পথের ক্লান্তি ভুলে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষ। প্রত্যেক মানুষ এবার তাদের স্বজনদের নিয়ে আনন্দে ঈদ উদ্যাপন করুক, এ প্রত্যাশা করছি। গত বছর ট্রেনের টিকিটের জন্য জমায়েত লোকদের পত্রিকায় ছাপানো ছবি দেখে মনে হচ্ছিল কোনো জনসভায় আগত ব্যক্তিদের ছবি। ঈদ যাত্রা পুরোপুরি নির্বিঘœ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষ চাইলে অনেকটাই নিরাপদ করতে পারে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে।
যানবাহন যত্রতত্রভাবে চালানো, যানবাহনকে রংসাইডে নিয়ে আসার জন্য বেশির ভাগ যানজটের সৃষ্টি হয়। ড্রাইভাররা যেন সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন পরিচালনা করে, হাইওয়ে পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘষামাজা করা পুরনো বাস ও লঞ্চ যেন কোনোভাবেই চালু করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদ আসে আর মানুষের বিড়ম্বনা বাড়ে, এ যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার অমানবিক কষ্টের মধ্যেও মানুষকে পড়তে হচ্ছে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের কবলে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই কাজে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ব্যবহার করছে। তারা ধরা পড়ছে, সাময়িক শাস্তি হচ্ছে, আবার বের হয়ে বর্ধিত আকারে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। এর থেকে নিস্তার পেতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একমাত্র ভরসা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এদের নির্মূল করতে পারলেই ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করা সম্ভব। পাশাপাশি রাস্তার কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে। যানজটের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আর টিকিট কালোবাজারি রোধ করতে হবে। সব শ্রেণির মানুষ ঈদের সময় ঘরমুখী হয়। নাড়ির টান বা প্রাণের টান যা-ই বলা হোক, সবাই টান অনুভব করে। বেঁধে দেওয়া ছুটির সময়ের মধ্যেই সব সারতে হবে এটা খুব বড় তাড়া। তাই সবাই ছুটে। আর জল-স্থল-আকাশপথে একসঙ্গে চাপ পড়ে যায়। সরকারি-বেসরকারি অফিসে আগে-পিছে ছুটির ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়।
সারা বছরের মোট ছুটি থেকে কেটে ঈদের সময় তিন-চার দিনের ছুটি বাড়ানোই শ্রেয়। মহাসড়কে পাশের অস্থায়ী দোকান ঈদের আগে উচ্ছেদ করা দরকার। দিনে ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে, সব অটো বা সিএনজি বন্ধ রাখতে হবে। দূরপাল্লার গাড়ি যেখানে-সেখানে থামানো যাবে না। গতিসীমা নিয়ন্ত্রিত থাকতে হবে, ওভারটেক নয়। ট্রেন, লঞ্চ বাড়ানো হলে ভোগান্তি কমবে, আনন্দময় হবে ঈদ যাত্রা। ঈদের সময় কর্মজীবী মানুষ প্রাণের টানে বাড়ি যায়। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পথে তারা নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। তাদের স্বস্তির জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া দরকার। টিকিটের কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা উচিত হবে না। পথে ডাকাতি-ছিনতাই রোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়কে-মহাসড়কে দিন-রাত টহলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সরকারি গণযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফেরার একমাত্র অবলম্বন হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর সর্বপ্রথম এই ঈদে যাত্রা সফল করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। সঠিক সময়ে টিকিট বিক্রি শুরু করা, ট্রেনসংখ্যা ও বগিসংখ্যা আরো বৃদ্ধি করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ দরকার। আর দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন ও বাসের ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। বাংলাদেশে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ হলো রেল। আর সড়কপথগুলোতে ট্রাফিক জ্যামের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয়। তাই সড়কপথগুলো ঈদের ছুটির আগে মেরামত করার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি কোনো চালক ট্রাফিক আইন মেনে না চলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনের যা শাস্তির কথা বলা আছে, সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি রেলপথে বাড়তি ট্রেন সংযুক্ত করতে হবে। যাতে ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়িতে যেতে পারে।
পাশাপাশি সব যাত্রীকে মনে রাখতে হবে, হকারদের কাছ থেকে কোনো জিনিস কেনাকাটা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘœ করাটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষ করে ঈদ যাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে যানজট চরম আকার ধারণ করে। এ নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এখন থেকেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই ঈদ যাত্রায় নির্বিঘœ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যেকোনো অনিয়ম রুখতে তাদের আরো কঠোর হতে হবে। বাস-ট্রেন-লঞ্চ থেকে শুরু করে সব ধরনের যানচালকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা আবশ্যক। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো এবং এ বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।এ ছাড়া গণমাধ্যম গুলোতেও প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। নিরাপদ হোক সবার পথযাত্রা।
লেখক : কলামিস্ট।

 


সাদা কাকের ব্যাতিক্রমী আয়োজন
শাহীনুর আহমেদ রাসেল
২ জুন (১৬ রমজান) নগরীর রিকাবীবাজারস্থ নজরুল মঞ্চে এক ব্যাতিক্রমী আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সাদা কাক’। উঁচুনীচুর ভেদাবেধ মিটিয়ে নগরীর দেড় শতাধিক ছিন্নমূল মানুষকে নিয়ে ইফতার করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যায়য়ের ছাত্রদের এ সংগঠন। সংগঠনটির এবারের নিবেদন ছিল ‘আপন পাতে অসহায়কে শামিল করা’। তাই নিজেদের গাঁটের পয়সায় অসহায় মানুষের জন্য ইফতারির আয়োজন করে তারা। আর সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেই ইফতারিতে হাজির হন সকলে। মানবিকতার ধর্ম প্রতিষ্ঠা লাভ করাতে, জাতভেদ ভুলে সকলেই ইফতারিতে বসেন একই কাতারে। যেখানে ছিলেন ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, চাড়াল, মাওলানা, সাংস্কৃতিককর্মী, চাকুরীজীবী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সকল শ্রেণির মানুষ। একসাথে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের উপস্থিতি ছিলো দেখার মত, মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
সংগঠটির এই আয়োজন ছিলো অনন্য। খোলা আকাশের নিচে এভাবে সব শ্রেণীর মানুষকে একসাথে আনা ছিলো যেকারো জন্যেই কষ্টসাধ্য। কিন্তু এরা তা পেরেছে। এই আয়োজনের পেছনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘সাদা কাক’ এর অন্যতম দুই সদস্য রায়হান হোসেন ও দেওয়ান সাকিবুল হক চৌধুরী। তাদের সুনিপুণ তৎপরতায় ইফতার অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে চালিয়ে যেতে সর্বাত্মক সাহায্য করেছে। একই সাথে উপকমিটির শৃঙ্খলায় ছিলেন তাহরীম বখত নাদিব, সপ্তর্ষি দেব সান, মিসবাহ আহমেদ রাহাত, জয় রবি দাশ ও সৌমিত্র দাশ। উপকমিটির আপ্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন দেওয়ান সাকিবুল হক চৌধুরী, শাওন আহমেদ, জয় গৌতম, গাফফার গোলাপ এবং তোফায়েল আহমেদ। অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন ঈশিতা ঘোষ চৌধুরী প্রথা, শাহীনুর আহমেদ রাসেল, শেখ মনিরুজ্জামান, সাদিয়া বেনজির ও মিসবাহ আহমেদ। সকলে তাদের ভালোবাসার অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। ফলে রিকাবীবাজারস্থ নজরুল মঞ্চপ্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিলো আনন্দের বাজার। যেখানে প্রতিবন্ধী রোজাদার ভিক্ষুক, শারীরিক অক্ষম ব্যক্তি, রোজাদার বয়স্ক হতদরিদ্র, রিক্সা ড্রাইভারসহ অনাথ অসহায়েরা সানন্দে এসেছিলেন। এছাড়া ‘সাদা কাক’ এর এই মহৎ কার্যক্রম জেনে এসেছিলেন নগরীর সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
ইফতার শেষ করে যাবার বেলায় কতিপয় বৃদ্ধা ভিখিরি আয়োজকদের জন্য নানান দোয়া করে যাচ্ছিলেন। এক ভিখিরি বৃদ্ধা অনুষ্ঠানে আসা দৈনিক সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক ফায়যুর রাহমানের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘পেট ভইরা ইফতারি করছি বাবা, দোয়া করি তোমরা অনেক বড় হও’। এই বলে তিনি বলে চলে গেলেন। তার কথায় সায় দিয়ে মাথা দুলাতে দুলাতে তার পিছু পিছু হুয়িল চেয়ার নিয়ে এগিয়ে গেলেন কয়েকজন প্রতিবন্দ্বী। এভাবেই কেটে যায় ‘সাদা কাক’-এর চমৎকার সন্ধ্যেটি।
‘সাদা কাক’ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আর তথাকথিত আবর্জনায় ফুল ফোটাতে কাজ করে। সমাজে উঁচুনীচু সকলেই মানুষ হয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকবে সম্মানের সাথে। দারিদ্র কোন বাঁধা হতে পারেনা। সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসে সকলের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিলে মুক্ত হবে মনুষ্যধর্ম। নিজের, পরিবারের, কাছের বন্ধুদের অন্তর থেকে আবর্জনা সরানোর মাধ্যমে সমাজের একেকজন একটা-একটা আবর্জনা সরানোর মাধ্যমে এরা সাদাকাকের ভূমিকা পালন করবে। সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। ‘সাদা কাক’ তাই সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর মৌলিক অধিকার আদায়ে একটুখানি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করে থাকে।
তাই আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে একটি ইভেন্ট খুলেছে সাদা কাক। ঈদের আনন্দকে অসহায়দের সাথে ভাগাভাগি করতে উদ্যোগ নিয়েছে ছিন্নমূল শিশুদের মধ্যে ঈদের জামা বিতরণের। আমরা ঈদ এলেই ৩-৪ টা জামা কিনি। মেগা শপিং মল থেকে দামি জামা কেনা আমাদের লক্ষ্য থাকে। কিন্ত

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সনদ অর্জনই কি শিক্ষার লক্ষ্য?
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • সিসিক মেয়র এবং আমাদের প্রত্যাশা
  • মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু
  • বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা
  • ১৫ আগস্ট ’৭৫ : ধানমন্ডি ট্রাজেডি
  • সেই দিনটির দুঃসহ স্মৃতি
  • মুক্তিযোদ্ধার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু
  • মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু
  • চিরঞ্জিব বঙ্গবন্ধু
  • ক্ষমা করো পিতা
  • এক নেতা এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ
  • পোয়েট অব পলিটিক্স
  • শুধু সাক্ষরতা বৃদ্ধি নয়, প্রকৃত শিক্ষা চাই
  • নাগরিক সাংবাদিকতা ও দায়বদ্ধতা
  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলন : আমাদের শিক্ষা
  • বঙ্গবন্ধু ও ১৫ই আগস্ট ট্র্যাজেডি
  • কান্নার মাস
  • ছাতকে সহকারী জজ আদালত পুনঃ প্রবর্তন প্রসঙ্গে
  • মধ্যপ্রাচ্য কেন এতো সংঘাত ও যুদ্ধ প্রবণ অঞ্চল
  • Developed by: Sparkle IT