উপ সম্পাদকীয়

মাছের পোনা দেশের সোনা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৬-২০১৮ ইং ০২:০৮:২২ | সংবাদটি ২৬৮ বার পঠিত

নদীমাতৃক এই দেশ বাংলাদেশ। পুকুর, ডোবা, খাল-বিল, নদী-নালা, সাগরে বিচরণশীল মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চৈত্র-বৈশাখ মাসে একটু শুকিয়ে গেলেও বছরের প্রায় সময়ই এ সমস্ত জায়গায় পানি পরিপূর্ণ থাকে। আর এ পরিপূর্ণ পানিতে পাওয়া যায় হরেক রকমের মাছ। মাছ বাঙালির প্রিয় খাবার। তাই প্রবাদ আছে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। ভূ-প্রকৃতির কারণে বঙ্গোপসাগর ব্যতীত বাংলাদেশের সর্বত্রই মিঠাপানি। মিঠাপানির মাছ সুস্বাদু বলে এর চাহিদাও বিশ্বজুড়ে। আমিষ জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস মাছ। আবার মাছজাত শিল্পের উপাদান হিসেবেও মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। সার তৈরি, পশু-পাখির খাদ্য, সৌখিন দ্রব্য তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে মাছের বিচিত্র ব্যবহার থেকেই এর গুরুত্ব বোঝা যায়। আবার মাছ সংরক্ষণাগার, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, বরফ তৈরির কারখানা, মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নির্মাণ ইত্যাদি শিল্পের সাথেও মাছের সম্পর্ক রয়েছে। এখনকার দিনে মাছের খামার স্থাপন করে, মাছের চাষের মাধ্যমে এবং সাগর থেকে মাছ ধরে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিদেশে মাছ রপ্তানী করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের মাছ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে মিঠা পানিতে যে সব মাছ পাওয়া যায় তার মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, চিতল, শোল, কৈ, মাগুর, শিং, চিংড়ি, টাকী, পুটি, টেংরা, বাইম, আইড়, পাবদা, পাংগাশ ইত্যাদি। বাংলাদেশের অসংখ্য রকমের মাছের মধ্যে রুই প্রধান। প্রবাদ আছে ‘শাকের মধ্যে পুুঁই, মাছের মধ্যে রুই।’ পুকুরে রুই মাছ বড় হয় বটে তবে পোনা ছাড়েনা। মাছের মধ্যে ইলিশ খুব জনপ্রিয়। এ মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু। ইলিশ মাছ পুকুরে হয় না এরা সাগরের লোনা পানির মাছ। বর্ষাকালে নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। বর্ষাকালে ডিম ছাড়ার জন্য এরা নদীতে আসে। রূপালি রংয়ের এ মাছটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় পদ্মায়। রুই মাছের মত কাতলা, মৃগেল এরা ¯্রােতের মধ্যে ডিম পাড়ে। পুকুরে পোনা ছাড়ে না। বাংলাদেশের হাওড়, বিল, পুকুর ও দীঘিতে প্রচুর কৈ, শিং, মাগুর মাছ পাওয়া যায়। জলাশয় ও পুকুরে মেরিলা, পুটি, টেংরা, পাবদা, খলমে, কাজলি ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়। বোয়াল, শোল, আইড়, বাইমও যেখানে সেখানে পাওয়া যায়। চিতল মাছে খুব বেশি আইশ থাকে। চিতল মাছ খুবই সুস্বাদু ও চাষযোগ্য মাছ। চিংড়ি মাছও যেখানে সেখানে পাওয়া যায়।
বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে মাছ চাষের নতুন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে, মাছের পোনা সরবরাহ করে নানা উপায়ে মাছ চাষের প্রতি সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। দেশের মজা পুকুরগুলো সংস্কার করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের সমস্যা মিটবে সেই সাথে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হবে। নদী-নালা, জলাশয়ের সংস্কার, কৃত্রিম মৎস্য প্রজনন ব্যবস্থা, পোনা সরবরাহ করা, পোনা মাছ ধরা বন্ধ করা, মাছ চাষ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, পরিবহনের ব্যবস্থা, ঋণদান ইত্যাদি দিক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে দেশের মৎস্য চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।
আশার কথা এই যে, মাছের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার মাছ চাষ বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মৎস্য উন্নয়ন সংস্থা গঠন করে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মৎস্য সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আইন করে ডিমওয়ালা মাছ, পোনা মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারেন্ট জাল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মাছ রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য একটি সাফল্যময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
লেখক ঃ অবঃ শিক্ষক

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভেজালের বিরুদ্ধে চাই আইনি যুদ্ধ
  • আত্মিক শুদ্ধির দ্বার খুলে দেয় এতেকাফ
  • শিশুর অপরাধ প্রবণতা
  • ধানচাষির বঞ্চনা ও খাদ্য নিরাপত্তা
  • নদীমাতৃক বাংলাদেশ
  • আমার পরানও যাহা চায়
  • যে দূষণ নিয়ে কেউ ভাবেন না
  • সাম্প্রতিক কথকতা
  • ভেজাল নির্মূলে যা প্রয়োজন
  • ফিরে দেখা ১৭ মে
  • বদলে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড
  • ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিÑঅব্যক্ত যন্ত্রণা
  • নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব কার?
  • সুবীর নন্দী
  • বিশ্বব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট
  • অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানব সম্পদ
  • প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সময়ের দাবি
  • তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান
  • সিলেটে ভেটেরিনারী সায়েন্সে ডিপ্লোমা চাই
  • সত্যায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ হোক
  • Developed by: Sparkle IT