সম্পাদকীয় নির্যাতিতের মর্মাঘাত লাঘবের জন্য যে সান্ত¦না বাণী হৃদয় থেকে নির্গত হয়ে উচ্চারিত হয়, তা-ই শ্রেষ্ঠ দান। -আল হাদিস

ডেইরি উন্নয়ন কাউন্সিল

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৬-২০১৮ ইং ০২:১১:১৭ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত

কিছুদিন আগে বাজারের প্যাকেটজাত তরল দুধ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। তাদের মতে, এই দুধ সরাসরি খেলে নানা ধরনের রোগের আশংকা রয়েছে। তবে এই দুধ ফুটিয়ে পান করা নিরাপদ। বাজারে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্যাকেটজাত তরল দুধ পাওয়া যায়। বলা যায়, এদেশের মানুষ বাজারের প্যাকেটজাত তরল ও গুঁড়ো দুধের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। অথচ অতীতে এমনটি ছিলো না। গ্রাম বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরেই গাভী পোষা হতো। নিজেদের উৎপাদিত দুধেই চাহিদা পূরণ হতো পরিবারের। এখন কেবল গাভীই নয়, গবাদিপশুর লালন পালনের ঐতিহ্যই হারিয়ে গেছে। হালচাষে গবাদিপশু লাগে না। জমিতে চাষ হয় যন্ত্রের লাঙ্গলে। দুধের নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ইতোপূর্বে গঠন করা হয়েছিলো ডেইরি উন্নয়ন কাউন্সিল। কিন্তু এর কার্যকারিতা নেই।
বাংলাদেশে প্রতি বছর যে দুধের চাহিদা রয়েছে, তার প্রায় আশি ভাগই আমদানী হয়, বিদেশ থেকে। বছরে কমপক্ষে ৫০ হাজার মেট্রিকটন গুঁড়ো দুধ আমদানী করা হয় বিদেশ থেকে। যার মূল্য প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা। প্রতি বছর প্রায় একই পরিমাণ গুঁড়ো দুধ আমদানী হয় বিদেশ থেকে। প্রধানত নিউজিল্যা-, ডেনমার্ক, অষ্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন, পোল্যা- ও চেকোস্লোভাকিয়া থেকে দুধ আমদানী করা হয়। আর অতীতে আমদানীকৃত এসব দুধের বিশ্ববাজারে চড়া মূল্য থাকায় আমাদের দেশেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বিশ্ববাজারে শুধু গুঁড়ো দুধ নয়, অন্যান্য পণ্যেরও দাম বেড়েছে ইতোপূর্বে। প্রায় এক দশক আগে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে প্রায় সবপণ্যের দামই নেমে আসে সহনীয় পর্যায়ে। দুধের দামও কমে আসে প্রায় অর্ধেকে। কিন্তু এর প্রভাব পড়েনি আমাদের দেশে। এখানে চড়া মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে গুঁড়ো দুধ বেশ কয়েক বছর ধরে।
একদিকে আমদানীকৃত দুধের দাম বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমানো হয় নি অপরদিকে স্থানীয়ভাবে দুধের উৎপাদন বাড়ছে না, কমছে না দামও। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জনসাধারণকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলার দিকেই ঝুঁকতে হবে। ঘরে ঘরে গবাদিপশু পালনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। আশার কথা এই যে, ইদানিং অনেক তরুণ এই ধরনের খামার গড়ে তুলেছে। অবশ্য তারা সেভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে না। সরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন সময় নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এটা ঠিক যে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে আমাদের দেশে উৎপাদিত দুধই সারা বছরের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
আমাদের আবহাওয়া, জনশক্তি, পরিবেশ সবই দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে সহায়ক। শুধু দরকার এগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। ২০০৮ সালের শেষের দিকে তৎকালীন সরকার গঠন করে ডেইরি উন্নয়ন কাউন্সিল। বলা হয়, ডেইরি শিল্পের উন্নয়নে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান এই কাউন্সিল। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও শিশুদের পর্যাপ্ত খাঁটি দুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষে গঠিত হয় এই কাউন্সিল। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে এলাকাভিত্তিক গাভী পালন, এ খাতের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণসহ নানা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান। সার্বিকভাবে দুধ ও মাংসর উৎপাদন বাড়িয়ে দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ করাই ছিলো এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য। কিন্তু এর কোন কার্যকারিতা চোখে পড়েনি এখনও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT