উপ সম্পাদকীয়

টের পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বকাপ প্রলয়

বিশ্বজিত রায় প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৬-২০১৮ ইং ০২:১৪:১৭ | সংবাদটি ৪৪ বার পঠিত

ফুটবলে ব্যাকুল বাংলাদেশ, কাঁপছে সারা বিশ্ব। যত সময় ঘনিয়ে আসছে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ফুটবল আবেগী আকর্ষণ। সেই আবেগে যুক্ত হচ্ছে সকল বয়সী মানুষ। তারা পছন্দের প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে উজাড় করে দিচ্ছে নিজেকে। প্রিয় দল ও প্রিয় ফুটবলারের শ্রেষ্ঠ দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ফুটবলপ্রিয় মানুষগুলো। পছন্দসই দল-তারকার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে চালিয়ে যাচ্ছে এক বাকযুদ্ধ প্রতিযোগিতা। ফুটবল বিশ্বকাপের এই উচ্চস্বর শোনা যাচ্ছে সর্বত্র। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার সবখানেই চলছে এই ফুটবল ফুটানি। প্রতিযোগী দলের সমর্থনকারী ফুটবল উন্মত্ত মানুষের মুখোমুখী ভাব বিনিময় বাদ দিলে সামনে চলে আসবে ভার্চুয়াল জগতের ফুটবল প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ময়দানকে প্রচার-প্রচারণার অন্যতম জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ফুটবল বিশ্বকাপের অগণিত দর্শকশ্রেণি। যেখানে থেমে নেই ফুটবল ঝড়। প্রিয় দলের পতাকা, পছন্দের খেলোয়াড়, সমর্থনযোগ্য নানা কথাবার্তা শোভা পাচ্ছে ফেসবুক ওয়ালজুড়ে। লাইক, শেয়ার, কমেন্ট বক্সে ফুটবল প্রলয়ের প্রতিক্রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
ফেসবুকে কার আগে কে সেরা ছবি, রসালো বচন, ফুটবল সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরবে সেই আকুলিত ধারায় নাম লেখিয়েছেন প্রায় সববয়সী মানুষ। আবার কেউ কেউ ফেসবুক ওয়ালকে ব্যবহার করছেন মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক ছবি ও শব্দ চয়নের অযাচিত মাধ্যম হিসেবে। পছন্দের দল ও প্রিয় খেলোয়াড়ের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে তারা ফটোশপের কারসাজি ব্যবহার করে অবাঞ্চিত পন্থা অবলম্বন করছে। সমর্থিত দল ও তারকা ফুটবলারকে সবার সামনে সেরা হিসেবে তুলে ধরতে নিচ্ছেন মিথ্যাচারের আশ্রয়। এভাবেই সত্য-মিথ্যার ও বাস্তব-অবাস্তবের ওপর ভিত্তি করে চলছে বিশ্বকাপপূর্ব লক্ষ-কোটি দর্শকের প্রতিযোগী তৎপরতা। ফেসবুক ওয়ালে যেমন চলছে ছবি ও কথার ফুলঝুরি তেমনি সরাসরি বাক বিনিময়ের টক-ঝাল-মিষ্টি মহরত বাংলাদেশকে মাতিয়ে রাখছে ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ মাত্রায়।
কোথায় নেই বিশ্বকাপ প্রভাব। শহরের সুরম্য অট্টালিকা থেকে পল্লীপথের টি স্টল, সবখানেই ফুটবল কথোপকথন। মুখে মুখে শুধুই একে অপরকে ঘায়েল করার রসাত্মক ভাবধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করতে না পারলেও সমর্থনের দিক দেখে বোঝার উপায় নেই যে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অনুপস্থিত। বাংলাদেশ নেই তাতে কি, ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী যেকোনো দেশকে নিঃসন্দেহে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। আবেগপ্রবণ বাঙালি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জাদুকরী মন্ত্রে গা ভাসিয়েছে। হলুদ-আকাশী রঙে রঙিন বাংলাদেশ যেন এক ভিন্ন রকম আনন্দে মেতে ওঠার প্রহর গুণছে। বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় মত্ত বাঙালি উন্মুখ হয়ে আছে খেলায় যুক্ত হওয়ার স্বাদ আস্বাদনে।
বিশ্বকাপ ফুটবল দেশব্যাপী ছড়িয়েছে উত্তেজনা বারুদ। সেই দহনে পুড়ছে বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়া। ফুটবল উন্মত্ত অগ্নিশিখায় পুড়ে খাঁটি হওয়া সোনালী আবরণ বিশ্বকাপ ট্রপির ঔজ্জ্বল্যতা বাড়িয়ে প্রতিযোগী দলের মর্যাদা রক্ষার অভিজাত পণ্যে পরিণত করেছে। বিশ্বের মর্যাদাশীল যে বিশ্বকাপ ট্রপি নিয়ে এত প্রতিযোগিতা, এত উত্তেজনা সেই বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাস জানা জরুরী। বিশ্¦কাপ ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। নির্বাচিত বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাকে এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু উরুগুয়েতে বিশ্বকাপ আয়োজনের অর্থ ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলোকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সফরে আসতে বাধ্য করা। এজন্য কোন ইউরোপীয় দেশ প্রতিযোগিতা শুরুর দুইমাস আগেও দল পাঠাতে সম্মত হয়নি। শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া, ও যুগোস্লাভিয়া থেকে দল আনাতে সক্ষম হন। মোট ১৩টি দেশ এতে অংশ নেয়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাতটি, ইউরোপ থেকে দু’টি ও উত্তর আমেরিকা থেকে দু’টি। প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় যাতে অংশ নেয় ফ্রান্স ও মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। ফ্রান্স ৪-১ এবং যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানে এতে জয়ী হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল করেন ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ত। ফাইনালে ৯৩,০০০ দর্শকের সামনে উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব লাভ করে। প্রথম দিকের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা আয়োজনের মূল সমস্যা ছিল আন্তমহাদেশীয় যাতায়াত ও যুদ্ধঘটিত সমস্যা। কয়েকটি দক্ষিণ আমেরিকান দল ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার জন্য ইউরোপে যেতে আগ্রহী থাকলেও কেবল ব্রাজিলই এই দুটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিতই হয়নি। পরে বিশ্বকাপ ধারাবাহিকতায় দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৮২ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২৪ করা হয়। এরপর ১৯৯৮ সাল থেকে দলের সংখ্যা ৩২-এ উন্নীত করা হয়।
আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক হিসেবে যদি বিশ্বকাপ ফুটবলের অতীত স্মৃতিকথা স্মরণ করতে যাই তাহলে আমার এই শৈশব কৈশোরের বিশ্বকাপ চলাকালীন অভিজ্ঞতার অকুটিল কথামালায় বাঙালির ফুটবলপ্রিয়তার নানা দিক ফুটে ওঠবে। তখন আমি দশ-বারো বছরের এক ক্ষুদে দর্শক। ফুটবল বিস্ময় কালোমানিক পেলে ও ফুটবল জাদুকর মেরাডোনার নাম শুনে শুনে ফুটবলের সাথে আমার পূর্ণ সখ্যতা গড়ে ওঠে। কৈশোরকালীন বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার উৎফুল্ল অবুঝ হৃদয় আজো পেছন ডাকে। বর্ষার প্রারম্ভেই শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে মেতে ওঠতো গ্রাম্য মানুষগুলো। আমিও হতাম তাদের চটপটে চঞ্চল সঙ্গী। রাতের আঁধারে বৃষ্টিপ্রবণ প্রকৃতি এবং চারপাশ পানিতে থৈথৈ ¯্রােতধারা পাড়ি দিয়ে ছুটতাম খেলা দেখার সন্ধানে। মায়ের বকুনি ও বাবার বারণ উপেক্ষা করে বয়োজ্যেষ্ঠ কারো পিছু নিতাম। তখন সারা গ্রাম খোঁজেও টেলিভিশনের দেখা মেলা ছিল ভারি ব্যাপার। যে বাড়িটিতে টেলিভিশন আছে সে বাড়িতেই ফুটবল দর্শকের সমাগম ঘটত। গাদাগাদি করে মাটিতে বসে খেলা উপভোগ করতাম। হায়রে, কিযে আনন্দ, কিযে উত্তেজনা, কিযে আফসোস। যে বয়সটায় ভালোমন্দ বোঝার পরিপক্কতাই অর্জন করতে পারিনি সেই কচি বয়সেই ফুটবলের জাদুকরী ঝংকার নিজেকে উতালা করে তুলত। আমার মতো এমন অসংখ্য পুচকে গেঁয়ো প্রাণ ফুটবল উত্তেজনায় মেতে উঠত। গ্রামীণ জনপদের সেই সাদাকালো টেলিভিশন বাড়িটি প্রায় তীর্থ ভূমিতে পরিণত হতো। শিশু-কিশোর ও ছেলে-বুড়ো উন্মাদের মতো ছুটে চলতো ফুটবল উপভোগ্য বাড়ির সরাসরি পর্দাপানে। সেই ফুটবল উত্তাল উন্মাদনা থেকে নিজেকে কখনো সামলাতে পারিনি। বিশ্বকাপের পুরোনো অতীত বাস্তবতা আর বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রঙ-রূপ কতই না ভিন্নতর।
অতীতের সাদাকালো বিশ্বকাপ বাস্তবতা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল যুগে অবস্থান করছে। পুরোনো দিনের কাপড়ে তৈরি পাতাকার বদলে সর্বত্র দেখা মেলছে ডিজিটাল প্রিন্টিং পতাকা। সমর্থনকারী দলীয় পতাকা ও প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের পথঘাট। বিশ্বকাপ শুরু হতে আরো বেশ কিছুদিন বাকি, তারপরও থেমে নেই বাঙালির বিশ্বকাপ নাচন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা পতপত করে উড়ছে বাংলার আকাশে-বাতাসে। বাঙালির প্রাণে দোলা দিয়ে যাচ্ছে মেসি-নেইমারের শৈল্পিক ফুটবলের অনিন্দ্য অনুভূতি। বাংলাদেশে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দল ও খেলোয়াড়ের পক্ষাবলম্বনকারী সমর্থক থাকলেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তুলনায় একেবারে হাতে গোণা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই দলের খেলোয়াড় ও দেশ দুটোর অগণিত অধিবাসী বাঙালির এই ফুটবল প্রিয়তা নিয়ে আদৌ কিছু জানেন কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বিশ্বকাপ প্রারম্ভ ও চলাকালীন সময়ের বাংলাদেশ দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে, বাঙালি কি আসলে দেশের প্রতি ভালোবাসা বিকিয়ে দিচ্ছে? আসলে তা নয়। মান মর্যাদায় বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। যেহেতু বাংলাদেশ ফুটবলে একেবারে দুর্বলতম দল, বিশ্বকাপ বিচ্ছিন্ন, তাই বাঙালি সেই ফুটবল ভালোবাসা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সেরা দল, সেরা খেলোয়াড়ের প্রতি উৎসর্গ করে নিজেদের আবেগ, আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ গ্রহণ করছে বলেই প্রতীয়মান হয়। এছাড়া অন্যকিছু নয়। ফুটবলে নেতিয়ে পড়া বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ আসলেই নতুন উদ্যামে জেগে ওঠে। তখন তাদের প্রাণে বেজে ওঠে ফুটবল বিশ্বকাপের থিম সং, দেহ আবৃত্ত হয় পছন্দসই খেলোয়াড়ের জার্সিতে, উৎফুল্লতায় ভেসে ওঠে মন, মুখে উচ্চারিত হয় ফুটবল উন্মাদী প্রলাপ। ফিফা বিশ্বকাপ দিয়ে যায় কাজকর্ম দ্রুত সম্পাদনের তাগিদ। এককথায় ফুটবলে প্রকম্পিত হয় পুরো জাতি।
বিশ্বকাপের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে থিম সং। ফিফা বিশ্বকাপের এই উজ্জীবিত গান অনেকের কণ্ঠে বেজে ওঠে। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮-র এবারকার থিম সং হচ্ছে ‘মুহূর্তটা উপভোগ করে নাও’। জানা যায়, ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ থেকে থিম সং সংস্কৃতির প্রচলন। এর পর থেকেই রিকি মার্টিনের ‘কাপ অব লাইফ’, কুইন্সের ‘উই আর দ্য চ্যাম্পিয়নস’, শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’, পিটবুল আর জেনিফার লোপেজের ‘উই আর দ্য ওয়ান’... এমন সব মন-মাতানো গানই শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে বিশ্বকাপের নানা আসরে। শুরুতে গান ছিল শুধুই শোনার, প্রযুক্তির উত্কর্ষের সঙ্গে যোগ হয়েছে ভিডিও। এখন তো ইউটিউবে বিশ্বকাপের থিম সং প্রকাশের পর থেকেই আলোর গতিতে বাড়ে ‘ভিউ’ এর সংখ্যা! রাশিয়া বিশ্বকাপের থিম সংয়েও থাকছে তারার মেলা। ‘লিভ ইট আপ’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন ডিপলো, সংগীতায়োজনও করেছেন তিনি। কণ্ঠ দিয়েছেন উইল স্মিথ, নিকি জ্যাম ও ইরা ইস্ত্রেফি। ১৫ জুলাই, বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক আগে, মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে সরাসরি পারফরম করবেন গানের শিল্পীরা। সেই অপেক্ষায় আছেন বিশ্ব ফুটবলের দুনিয়াধারী দর্শকশ্রেণি।
রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ বাংলাদেশের মতো সারা পৃথিবী নিঃসন্দেহে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে। বিশ্বের মনমাতানো এই আসর সামনে রেখে ফুটবলপ্রিয় মানুষেরা নানা সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কে হাসবে শেষ হাসি, কার হাতে উঠবে সোনায় মুড়ানো মর্যাদার বিশ্বকাপ, কে জিতবে গোল্ডেব বুট, কে চুমু খাবে গোল্ডেন বলে, এমন নানা সমীক্ষায় আটকে যাচ্ছেন ফুটবলপাগল রঙ বেরঙের মানুষগুলো। সেই প্রতীক্ষার জোয়াড়ে ভাসছে পুরো পৃথিবী। এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে বাঙালি বাংলাদেশ।
উত্তেজনাকর বিশ্বকাপ ফুটবলে উপভোগ্য আবেদন সর্বত্র ছড়াবে হৈহুল্লোর লাফালাফির চূড়ান্ত মাত্রা। জয়ের আনন্দে নাচবে বাংলাদেশ, গাইবে বিজয়ী গান। পটকা ফুটিয়ে হোলি খেলবে ফুটবলে আত্মহারা বাঙালি। তবে এই উন্মত্ত উত্তেজনার মাঝে যেন কোনো অশুভ অমঙ্গলজনক আপদ এসে হাজির না হয়। ফুটবলের ক্ষণিক আনন্দ যেন আজীবনের কান্নায় রূপান্তরিত না হয়। অতি উৎসাহী সেজে বিপজ্জনক কিছু করে বসলে আনন্দের বদলে বিষাদময়তা এসে ভর করবে। সকলকে অকল্যাণকর অযাচিত আনন্দ উদযাপন থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো মতেই যেন অলক্ষুণে ছোঁয়া আমাদের এ আনন্দযাত্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে। সকলকে এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অবশেষে বিশ্বকাপ ও বাঙালির সফলতা কামনা করছি। জয়তু বাংলাদেশ।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • তামাক : খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বাধা
  • প্রশাসনের দৃষ্টি চাই : শব্দদূষণ চাই না
  • যাতনার অবসান হোক
  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরি
  • যুবসমাজের অবক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার
  • বিশ্বকাপে অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট
  • মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই
  • মাদক থেকে দেশ উদ্ধারের অঙ্গীকার
  • পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগান
  • তোমাকে শ্রদ্ধা লেবুয়াত শেখ
  • সামাজিক অবক্ষয় এবং এর প্রতিকার
  • সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ঙ্কর রূপ
  • শিশুর জন্য চার সুরক্ষা
  • বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট ও প্রতিক্রিয়া
  • সম্ভাবনার অঞ্চল সিলেট
  • স্বপ্নের বাজেট : বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ
  • বাচ্চাটা একটা খেলনা ফোন চেয়েছিল
  • স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে কিছু প্রস্তাবনা
  • চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ
  • সিরিয়ার আকাশে শকুনের ভীড়-সামাল দিবে কে!
  • Developed by: Sparkle IT