উপ সম্পাদকীয়

চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ

দুলাল শর্মা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:৪২:১৫ | সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

পৃথিবী নামক গ্রহটি মহান সৃষ্টিকর্তার অনেক রহস্যময় সৃষ্টির একটি, যার এগিয়ে চলা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। ব্যাপক পরিবেশগত অবক্ষয় আমাদের এই গ্রহটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই আধুনিক বিশ্বের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব হল প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি বিরুপ আচরণ থেকে বিরত থাকা ও এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মানুষ প্রকৃতির সন্তান, প্রকৃতির মাঝেই বেঁচে থাকে মানুষ, পশু, পাখি, কীট পতঙ্গসহ নানা প্রজাতি। যদি প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তবে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীও হারিয়ে ফেলবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। তাই মানব সভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
বায়ু, পানি, শব্দ দূষণ, ভূমিক্ষয়, গাছপালা নিধন, পাহাড়, টিলা কাটা, নদী-খাল, বিল, পুকুর ভরাট, খাদ্য দূষণ সহ নানা দূষণে পৃথিবী নামক আমাদের এই গ্রহটি মানুষ বসবাসের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। উক্ত কারণগুলো বর্তমান বিশ্বের পরিবেশ দূষণের মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত হলেও অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়ও প্রাকৃতিক সম্পদের অবস্থান ইত্যাদি প্রকৃতিগত কারণে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মানুষ যেহেতু এই পরিবেশের অন্যতম অংশ তাই পরিবেশের ভারসাম্য বিঘিœত হলেই মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে হলে প্রয়োজন দূষণমুক্ত পরিবেশ। কারণ-গাছপালা, জীবজন্তু, পানি, মাটি, বাতাস নিয়ে আমাদের এই চারপাশের যে পরিবেশ তা আজ এতটাই বিপন্ন হয়ে পড়েছে যে, সমগ্র মানবজাতির কাছেই তা হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন পৃথিবী থেকে বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশেও উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের অন্তত কয়েকশ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। এবং সারা বিশ্বের এখনও যেটুকু টপিক্যাল ফরেস্ট বা গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের অরণ্য, জৈব বৈচিত্রে যা সব থেকে সমৃদ্ধ, টিকে আছে প্রতিদিন তার এক শতাংশ করে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই তথ্য প্রকাশিত। গত দশকেও যে হারে অরণ্য ধ্বংস হত, বর্তমানে তার থেকে পঞ্চাশ শতাংশ দ্রুতহারে তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রাকৃতিক অরণ্যের মাত্র পঁচিশ শতাংশ আর অবশিষ্ট আছে। শিল্প বিপ্লবের কাল থেকেই এই ধ্বংসের গতি দ্রুততর হয়েছে। এবং শিল্পের রসদ জোগাতেই একদিকে হাজার হাজার মাইল অরণ্যাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অপরদিকে মানব জীবনের পক্ষে এই শিল্পের দূষণ ক্রমশই উঠে আসছে ঘাতকের ভূমিকায়।
নদী সমুদ্রের পানি এমনকি মাটির নীচের পানিও দূষিত হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাটির উর্বরা শক্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষত নগর জীবনের বাতাস এতটাই কলুষিত ও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে সে দূষণজনিত রোগ ও মৃত্যুর ঘটনা হু-হু করে বাড়ছে। নবজাত শিশুও সেই দূষণের কঠিন থাবাটি এড়াতে পারছেনা। বিদেশের কোনও শহরে বাতাসে এত অক্সিজেন কমে গিয়েছে যে, সেখানে রাস্তার ধারে ধারে পেট্রোল পাম্পের মতই গড়ে উঠছে ‘অক্সিজেন বুথ’। যেখানে ঢুকে পথযাত্রীদের কিছুটা অক্সিজেন ভরে নিতে হচ্ছে। এমনকি চাল, গম, শাক, সবজি, মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি কোনও খাদ্যই আমরা আজ আর নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে খেতে পারছিনা। কারণ এইসব খাদ্য উপাদানের মধ্যেই কোনও না কোনওভাবে রাসায়নিক পদার্থ ও কীটনাশকের এমন রেশ থেকে যাচ্ছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর। এবং আমাদের চারপাশের পানি, মাটি, বাতাসের এই দূষণমাত্রা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।
পরিবেশের আসন্ন বিপর্যয়কে প্রত্যক্ষ করেই হয়ত বিজ্ঞানীরা ১৯৭২ সালে জুন মাসে ‘স্টকহোমে’ মিলিত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তারপর থেকে প্রতি বছরই ৫ই জুন এই দিবসটি পালন করা হয় সারা বিশ্বজুড়ে। পরিবেশ রক্ষায় আইন-কানুন তৈরি হয়েছে, বছর বছর আন্তর্জাতিক সম্মেলনও হচ্ছে। গৃহীত হচ্ছে নানা প্রস্তাব। কিন্তু সেইসব প্রয়োগ বা কার্যকর করতে সব দেশ সমান আগ্রহী নয়। তেমন সচেতনও নয় এবং কখনও কখনও নিজেরাই আইন ভঙ্গকারীর ভূমিকা পালন করছি।
ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন যানবাহন গুলি টনটন দূষিত পদার্থ ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবছর ঢাকা শহরে কেবল দূষণের কারণে মৃত্যু ঘটছে হাজার হাজার মানুষের। সমস্ত দেশে বড় বড় পুকুর ভরাট করে তৈরি হচ্ছে বহুতল ভবন। বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চাষীদের বিঘের পর বিঘের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারখানার সিসা, এসিড, ক্লোরাইড গ্যাস, ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে পরিবেশ দূষণের কারণেই-হাঁপানি, শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ, ফুসফুস, চোখ-ত্বক, ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই আসুন-আমরা পরিবেশকে রক্ষা করি, তার প্রতি যতœবান হই, আমাদের ও আগামী প্রজন্মকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে সবাই পরিবেশের প্রতি সচেতন হই।
[লেখক : কবি]

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে যা করণীয়
  • জাতিসংঘ দিবস আজ
  • নির্বাচনী ইশতেহার এবং ভোটারদের করণীয়
  • ইয়েমেন সংকট : কে কার সঙ্গে লড়াই করছে?
  • বৃটিশ আমলে সিলেটের প্রথম আইসিএস গুরুসদয় দত্ত
  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
  • প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন কাম্য
  • ইতিহাসের একটি অধ্যায় : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান
  • সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি থামানো যাবে না?
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • Developed by: Sparkle IT