বিশেষ সংখ্যা

ঈদ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ

রুহুল ইসলাম মিঠু প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:৫৩:২৬ | সংবাদটি ১১৯ বার পঠিত

বছর ঘুরে বারে বারে আসে প্রতি বছর ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর কথাটি আরবি থেকে এসেছে। রমজানের রোজা শেষে এ ঈদ আসে বলে এরই নাম ঈদুল ফিতর। সমগ্র মুসলিম মিল্ল¬াতের দুটি ঈদের মধ্যে একটি ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহা উৎসব। এটি আরবী হিজরী সনের ১০ম মাস, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। রমজান মাসের পূর্ব নাম হলো ‘রমজানুল মোবারক’। বরকতের মাস রমজান। মহিমাময় শাওয়াল। এ মাসের প্রথম দিনই ঈদ বা উৎসব। এ দিনে যাকাতুল ফিতর বা ছদকাতুল ফিতর অর্থাৎ ফিতরা প্রদান করা হয় বলে এরই নাম ঈদুল ফিতর।
ঈদের দিন মুসলিম মিল্ল¬াতের জন্য একটি আনন্দের দিন। মনের সব কষ্ট, দুঃখ দুর করে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে মান অভিমান ঝেড়ে ফেলে দিয়ে হাতে হাত, বুকে বুক মিলিয়ে সবার দেহ মন এক হওয়ার আনন্দ হলো ঈদের আনন্দ। হিংসা ঘৃনা, লোভ লালসা, অহংকার, রাগ বিরাগ, ক্রোধ যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার আনন্দের স্বাদই হলো ঈদুল ফিতর। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, সৌহাদ্য, স¤প্রীতির আনন্দ ঈদুল ফিতর।
রাসুলে করিম (স:) বলেন রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহুর্ত রয়েছে, একটি হলো যখন সে ইফতার করে, দ্বিতীয়টি হলো যখন সে তার মাবুদ আল্ল¬াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে (বুখারী)।
রোজাদার প্রতিদিন ইফতার করে, আবার পরের দিন রোজা রাখে, এটি হলো ছোট ইফতার। কারণ এটির পর আবারও রোজা আসে। ইফতার বা ঈদুল ফিতর হলো রোজা পূর্ণ করার পর আহার গ্রহণ করা, পূর্ণ রমজান মাস রোজা পালন শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সকালে যখন রোজাদার মিষ্টি মুখ করে তখন সে এক বছরের জন্য বড় ইফতার করে। ঈদুল ফিতর রোজাদার মুমিন মুসলমানদের জন্য পরম আনন্দের দিন। প্রতিটি জাতি গোষ্ঠি নির্দিষ্ট দিনে আনন্দ করে। ধনীরা আনন্দ করে তা নয়, গরীব অসহায় মুমিন বান্দারা তা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে না। ধনী গরিব সবাই মিলে ঈদের খুশী ভোগ করবে। ঈদুল ফিতরের সময় ধনীদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদুল ফিতর, যা রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস মাহে রমজান। পবিত্র রমজানকে যারা ইবাদত বন্দেগী হিসাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন, তাদের জন্য ঈদ খুশীর বার্তা নিয়ে আসে। ঈদ দিয়েছেন আল্লাহ পাক রাব্বুল আল আমিন। তা পালন করতে হবে মহান আল্লাহ পাকের বিধান ও রাসুল (সঃ) নির্দেশিত নিয়মের মাধ্যমে। সেজন্য ঈদে সব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শ ও সুন্নত নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের রাত হলো ইবাদতের বিশেষ রাতে বেশী বেশী নফল ইবাদত বন্দেগীতে নিজেকে মশগুল রাখা। ঈদের আগেই শরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করা। যেমন- হাত পায়ের নখ কাটা, গোঁফ ছোট করা ও চুল কাটা।
ঈদের দিন সকালে গোসল করা। নতুন পোশাক বা সাধ্য মতো ও সামর্থ অনুযায়ী সুন্দর ও উত্তম ইসলামী সুন্নতি পোশাক পরিধান করা। আতর সুগন্ধি যা ইসলামী তা ব্যবহার করা। ঈদের দিন সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। অভাবী গরীব এতিমদের যথাসাধ্য ফিতরা প্রদান করা। এগুলোই আল্ল¬াহ পাকের নেক বান্দার কাজ। বিভিন্ন বিপদ আপদ দুর করতে হলে গরীব মানুষের হক্ব দিতে হয়। এই হক্ব আল্ল¬াহ নির্দেশিত। ধনীদের যা আয় হয় তার মধ্যে গরীবের হক্ব থাকে চল্লিশ ভাগ। তবে ইসলামী নীতি ও শিক্ষা যথাযথভাবে সমাজে পুরোপুরি প্রবর্তিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে তা অনুস্মরণ করতে পারলে সমাজে বিশৃংখলা কমে যাবে। রমজানে রোজা রাখা, রোজা শেষে ঈদুল ফিতর উদযাপনের মাধ্যমে হাসি খুশি ইহাই ইসলামের অভিন্ন গৌরবের মাধুর্য্য বহন করে। ইসলামী ব্যবস্থাপনা সম্পদের সুষম বন্ঠনকে সুনিশ্চিত করে। শুধুমাত্র আত্মার পরিশুদ্ধির ওপর কেন্দ্রীভূত না করে বরং ইনসাফ ভিত্তিক বিধান প্রদান করে। একটি সুন্দর সুস্থ সমাজের বুনিয়াদ রচনা করে ইসলাম।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT