বিশেষ সংখ্যা

আকাশ ভরা মেঘ

ডা. এম এ সালাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:৫৫:০৫ | সংবাদটি ২০৮ বার পঠিত

ঐতিহ্যবাহী শালিমারবাগ, লাহোর, পাকিস্তান। বাগ একটি উর্দু শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে বাগান। আসলে এটা একটি বিশাল মনোরম পার্ক যার খ্যাতি গোটা এশিয়া জুড়ে। পার্কটির পরতে পরতে মোঘল সভ্যতার ছোঁয়া রয়েছে। সম্ভবত: কোন মোঘল স¤্রাট বিনোদনের জন্য এই ঐতিহাসিক পার্কটি তৈরি করেছিলেন এবং সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যুগে যুগে এর শ্রীবৃদ্ধি হয়ে চলেছে। এবং প্রতিটি যুগের মানুষের মন-মননশীলতার ও অভিরুচির ছায়া পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ, লক্ষণীয় বস্তুটি হচ্ছে বৃক্ষায়নের চমৎকার শৈলী। গোটা পার্ক বেস্টন করে লম্বা লম্বা ঝাউগাছের সারি একই উচ্চতায় মাথা তুলে নীলাকাশের পানে তাকিয়ে আছে। জোরে বাতাস বইলে এরা একই সাথে নৃত্যের ছন্দে মাথা দোলায়। নয়নাভিরাম দৃশ্য। ঝাউ গাছের পরে আছে মাল্টা ও আপেল গাছের সারি। বিভিন্ন বর্ণের পাতাবাহার গাছের সারি। তারপর গুণী শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো সাজানো-গোছানো বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান। লাল-নীল এবং সাদা গোলাপের সমারোহ। একবার তাকালে চোখ আটকে থাকে। মন চায় দিনভর দেখি। এমটি মনে হয় প্রকৃতি উজাড় করে তার সৌন্দর্য-মাধুর্য ঢেলে দিয়েছে এই শালিমারবাগ-এ। বসন্তে এই পার্কে পা রাখলেই মনে পড়ে যায় বিশ্বনন্দিত কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ রফির সেই ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড প্রাপ্ত বিখ্যাত গানটি ঃ ‘বাহারঁও ফুল বর্ছাওঁ, মেরা মেহবুব আঁয়া হ্যাঁয়; হাওয়াওঁ রাগ নিবাওঁ, মেরা মেহবুব আঁয়া হ্যাঁয়’ অর্থাৎ ‘ওগো বসন্ত অজ¯্র ফুল বর্ষণ কর, আমার প্রিয়া এসেছে। ওগো পবন ধীরে বহ, আমার প্রিয়া এসেছে।’ এই গানটির মূর্চ্ছনায় আর গোলাপের মাধুর্য এবং নির্যাসে প্রতিটি তরুণ-তরুণীর রক্তে শিহরণ জাগে আর আক্ষেপ করে বলে ঃ ‘হায়, আমার মনের মানুষটি যদি এই ক্ষণে পাশে থাকত।’ এই পার্কে বিনোদনের যাবতীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। বিশ্রামের জন্য মোগল ধাঁচে তৈরি দামী মার্বেল পাথরের চেয়ার এবং পাতাবাহার গাছের ফাঁকে ফাঁকে কিছু দূর দূর অসংখ্য বেঞ্চ রয়েছে সেখানে বসে প্রেমিক যোগল মনের আনন্দে কথা বলতে পারে, জড়িয়ে ধরে কিস করতে পারে। রয়েছে বর্ণিল পানির ঝর্ণা, চিলড্রেন কর্নার এবং ছোট ছোট কফি হাউস। এখানে এখন বসন্তকাল। বাতাসে মৃদু উষ্ণতার প্রলেপ। পড়ন্ত বিকেলের দ্রুত পালিয়ে যাওয়া রোদের কোমল পরশে, ঝিরঝির বাতাসে অবগাহন করে ফুরফুর মেজাজে বাদাম চিবুতে চিবুতে পায়চারি করছিল দারুন সুদর্শন এক বাঙালি যুবক। স্লো মোশনে হাঁটতে হাঁটতে যুবকটি লক্ষ্য করল কফি হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে বিমানবালাদের স্টাইলে খোঁপাবাঁধা আকাশী রঙের শাড়ীপরা কাঁধে ছোট্ট একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে ধবধবে ফর্সা অসাধারণ সুন্দরী একটি মেয়ে কফি খাচ্ছে। যুবকটি দ্রুত সামনে এগিয়ে গিয়ে হাসিমুখে বলল ঃ ‘হাঁই, তুমি নিশ্চয়ই বাঙালি? মেয়েটি ফিক করে হাসল। মনে হলো হঠাৎ একগুচ্ছ জ্যোৎ¯œা ঝরে পড়ল। সরু গোলাপী ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে আকর্ষণীয় পরিপাটি মুক্তাদানার মতো দাঁতগুলো ঝিলিক দিয়ে উঠল। যুবকটি মুগ্ধনয়নে তাকিয়ে রইল। মেয়েটিও পলকহীন নেত্রে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মুচকি হেসে বলল ঃ ‘হ্যাঁ, আমি বাঙালি এবং বাংলাদেশী। কিন্তু তুমি কে? আর আমাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করার অধিকার কোত্থেকে পেলে?’ যুবকটি হেসে বলল : ‘বন্ধুকে ‘তুমি’ বলাই শ্রেয়, আপনি আপনি নয়।’ মেয়েটি নিঃশব্দ হাসলো এবং বলল : ‘বন্ধু! চেনা নাই, জানা নেই, বন্ধু হলাম কি করে? আগে কখনো, কোথাও তোমাকে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।’ যুবকটি বলল : ‘তুমিও তো ‘তুমি’ বলে আমার প্রশ্নের জবাব দিয়েছ। বন্ধু নাহলে তুমি বলতে পারতে? পারতে না।’ ঐ যে কিশোর কুমারের সেই বিখ্যাত গান ঃ ‘এক পলকের একটু দেখা, আরেকটু বেশি হলে ক্ষতি কি?’ আমাদের চার চোখের মিলন হল আর অমনি আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম। এটাই নিয়ম এবং ভালোলাগার পূর্ব শর্ত। হ্যালো বলে ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল : আমি নিয়ামুল কবীর ববি, ঢাকা থেকে। লাহোর ভার্সিটিতে পিএইচডি করছি। মেয়েটি হাসিমুখে শ্যাকহ্যান্ড করে বলল : ‘আমি সামসুন্নাহার হেনা, চট্টগ্রাম থেকে। আমিও লাহোর ভার্সিটিতে এমএস করছি। কিন্তু আশ্চর্য, এতদিন আমাদের পরিচয় হলোনা কেন?’ ববি বলল : ‘কারণ, এই ঐতিহাসিক পার্কটি অধীর আগ্রহ নিয়ে আমাদের অপেক্ষায় ছিল। শালিমারবাগ-এর ইচ্ছে ছিল, তোমার-আমার পরিচয় এবং প্রেম এখান থেকে শুরু হোক যাতে এই কাননটি কালের সাক্ষী হয়ে-ইতিহাসের পাতার অবস্থান করে।’ হেনা বলল : ‘ববি আমারও মনে হচ্ছে তোমার ধারণাটিই ঠিক। আমরা দু’জনই এমনি একটি আকাশ ভরা মেঘের ফাঁক দিয়ে একফালি জ্যোৎ¯œা ঝরার অপেক্ষায় সময় পার করছিলাম। আজ জ্যোৎ¯œা ফুটেছে, আমরাও নিজ নিজ মনের মানুষটিকে পেয়ে ধন্য হয়েছি। এক নজরে প্রেম হয় কথাটি শুনে শুনে বড় হয়েছি, আজ তার বাস্তব রূপ দেখলাম। ববি, আমি কোন ভনিতা করবনা, সত্যিকার অর্থে আমি তোমাকে দেখা মাত্র ভালোবেসে ফেলেছি আর এই ভালোবাসা আমৃত্যু অম্লান, অক্ষত থাকবে, এবার তোমার মনের কথাটি বল।’ ববি শ্যাকহ্যান্ডরত অবস্থার তার বাম হাত এনে হেনার হাতের উপর রেখে আপ্লুত কণ্ঠে বলল : ‘মাই ডিয়ার হেনা, তোমার হাত যখন একবার ধরেছি, কেয়ামাৎ পর্যন্ত এই বন্ধন অম্লান ও অটুট থাকবে, এটা আমার প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞা।’ হেনা মুক্তা ছড়ানো হাসি দিয়ে বলল : ‘মাই সুইট ববি, আমি বিশ্বাসে নিলাম এবং আশঙ্কামুক্ত হলাম’। কফি হাউসের ছেলেটিকে ডেকে বলল : ‘এ্যই বাচ্চু ইদার আওঁ। ইয়ে মগ লে যাওঁ, আওঁর দু-মগ কফি লে-কে আওঁ।’ ছেলেটি হাসিমুখে বলল ঃ ‘ইয়েস ম্যাডাম, আঁভি লাঁয়ী।’
ববি ও হেনা সামনের মার্বেল পাথরের তৈরি বেঞ্চিতে গিয়ে বসল। কফি খেতে খেতে ববি জিজ্ঞাসা করল : ‘হেনা তুমি থাক কোথায়?’ হেনা বলল : ‘ভার্সিটির ফরেন স্টুডেন্ট ডরমেটরিতে থাকি। আমার রুমমেট ইন্দোনেশিয়ার একটি মেয়ে, নাম তার সুজানা। মেয়েটি খুব ভালো এবং একজন দক্ষ রাঁধুনী। আমরা কেন্টিনের রাঁধা পছন্দ করিনা। সব ব্যবস্থা আছে, আমরা নিজেরা রেঁধে খাই। ভালো কথা, তুমি কোথায় থাক?’ ববি বলল : ‘খুব কাছেই। ষাট নম্বর লিয়াকত রোডে। এটা ছোট্ট একটা বাংলো প্যাটার্নের কটেজ। আমার বাসার পাশেই তাজমহল হোটেল। হোটেলে খাই আবার কখনো নিজে রেঁধে খাই। মন্দনা, দিন ভালোই কাটছে। সময় পেলে বাসায় এসো। দু’জনে মিলে চুটিয়ে গল্প করব।’ হেনা হাসিমুখে বলল : ‘নিশ্চয়ই আসব। আর এখন তো আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে’। ক্রমেই ববি-হেনার ভালোবাসা প্রগাঢ় আসক্তিতে পরিণত হল, প্রতিদিন অন্তত: একবার সাক্ষাৎ করা জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়ালো। আজ পার্কে পায়চারি করতে করতে সন্ধ্যা নেমে এলো। ববি বলল : ‘হেনা, চল আমার বাসায়। আজ তুমি কফি তৈরি করবে এবং দু’জনে বসে গল্প করতে করতে খাব।’ হেনা বলল : ‘উত্তম প্রস্তাব। চল যাই’। বাসায় পৌঁছে হেনা বলল : ‘বাহ, চমৎকার কটেজ তো। মনে হচ্ছে পুরানো আমলের কোন সৌখিন ব্যক্তি কটেজটি তৈরি করেছিলেন। কটেজটির নির্মাণ শৈলীর সাথে একটি ইতিহাস-ইতিহাস গন্ধ আছে। যাক, এসো, কফি তৈরি করি।’ ববি মুগ্ধ নয়নে কিছুক্ষণ হেনার দিকে তাকিয়ে রইল। হেনা ববির চোখের সামনে হাত নেড়ে বলল : ‘হ্যালো, কিসের ধ্যানে মগ্ন তুমি?’ ববি বলল : ‘মাই সুইট হেনা, তোমাকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। হেনা, তুমি যদি একটিবার আমার চোখ দিয়ে তোমাকে দেখতে তাহলে তাজমহলের মোগল স¤্রাজ্ঞী মমতাজকে দেখার আর কোন বাসনা থাকত না। আমি নিশ্চিত, মমতাজ তোমার চেয়ে বেশি সুন্দরী ছিল না। হেনা তুমি অনন্যা, আমার স্বপ্নের রাজকুমারী। সমস্ত পৃথিবীর বিনিময়ে আমি তোমাকে চাই। তুমি শুধু আমার এবং চিরকাল আমারই থাকবে।’ হেনা জ্যোৎ¯œাঝরা হাসি দিয়ে বলল : ‘ওগো আমার হৃদয়ের স¤্রাট, প্রাণপ্রিয় হবু স্বামী, দয়া করে একবার আমার চোখ দিয়ে তোমাকে দেখ, দেখবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে একটি শুকতারা আকাশে ঝিলমিল করছে। আমি এই তারার পানে চেয়ে চেয়ে জীবন কাটিয়ে দেব। তুমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, অফুরন্ত সম্পদ। আমি মুগ্ধ, আমি বিমোহিত। এটা এক মিরাকল, চাইলেই পাওয়া যায় না। আমি অসাধারণ ভাগ্যবতী, তোমাকে পেয়ে ধন্য হয়েছি। ভয় হয়, কখনো যদি এই বন্ধনে ফাঁটল ধরে তাহলে বেঁচে থাকার আমার সমস্ত অবলম্বন শেষ হয়ে যাবে। আমি ধ্বংস হয়ে যাব।’ ববি ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে হেনাকে জড়িয়ে ধরে কপারে চুমু খেয়ে বলল : ‘হেনা, জীবনে কখনো ভুল করেও বন্ধনে ফাটল, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বাক্যগুলো উচ্চারণ করবে না। এই জাতীয় অলুক্ষণে কথা আমি শুনতে অভ্যস্ত নই।’ হেনা ববির কাঁধে মাথা রেখে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল : ‘ববি আমাকে ক্ষমা কর। এই জাতীয় কথা আর জীবনে কখনো উচ্চারণ করব না। আসলে আমি একটু ইমোশন্যাল হয়ে কথাগুলো বলেছি। এমনটি হোক, কস্মিনকালেও প্রত্যাশা করবনা।’ ববি বলল : ‘ঠিক আছে হেনা। তোমাকে ধন্যবাদ। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়েছে, চল কফি খেতে খেতে দু’জনে মিলে ডিনার রেডি করি।’ হেনা আবেগী হাসি দিয়ে বলল : ‘এসো, আজ আমি, রাঁধবো।’
খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে ড্রয়িংরুমে এসে ববি বলল : ‘হেনা, ভিসিআর-এ তোমাকে এখন বলিউডের সুপারহিট ছবি, মোগল-ই আজম দেখাব। পঞ্চাশ দশকের ছবি। ছবিটি তৈরি করেছিলেন ভারতের স্বনামখ্যাত প্রডিউসর, ডাইরেক্টর মেহবুব খান। অভিনয় করেছেন মেগাষ্টার দিলিপ কুমার ও মধুবালা। ছবিটি আজও বলিউডের সুপারহিট ছবিগুলোর শীর্ষে অবস্থান করছে। মোগল স¤্রাট আকবর-এর শাহজাদা সেলিম ও শীষ মহলের অনিন্দ সুন্দরী প্রধান নর্তকীর সাথে প্রেমের অনবদ্য কাহিনী।’ হেনা বলল : ‘হ্যাঁ ছবিটির নাম শুনেছি, প্রশংসাও শুনেছি কিন্তু কখনো দেখার সুযোগ হয়নি। আজ যখন সুযোগ পেয়ে গেছি, দেখে নেই, লাগাও।’ ছবি শুরু করে ববি এসে সোফায় হেনার পাশে বসে তার ডান হাতখানি তার কোলে নিয়ে মালিশ করতে লাগল। হেলা জ্যোৎ¯œা ঝরা হাসি দিয়ে বলল : ‘কি হলো, বাটার মারছ মনে হচ্ছে। তোমার মতলব ঠিক আছে তো?’ ববি মুচকি হাসি দিয়ে বলল : ‘হেনা, তোমার এত সুন্দর বাহুযুগল দেখলেই ছুঁতে ইচ্ছে করে। এতে তো দোষের কিছু নেই।’ হেনা নিঃশব্দ হেসে বলল : ‘আরে না, এতে দোষের কি আছে। বেশ, ভালো করে টিপে দাও। সত্যিই আমার হাতে ব্যথা করছে!’ ছবি শেষ হলে হেনা বলল : ‘ও-মাই-গড। রাত পৌণে দু’টা বাজে। ববি আমাকে দিয়ে এসো।’ ববি বলল : ‘তাই তো, রাত অনেক হয়েছে। চল তোমাকে দিয়ে আসি।’ দরজা খুলে বারান্দায় এসে দেখে প্রবলবেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। আকাশ ভরা মেঘ। এক্ষুণি প্রবল বর্ষণ শুরু হবে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। কোন যানবাহনের চিহ্নটি নেই। হেনা ভিতরে এসো। এই দুর্যোগময় রাতে বাইরে বেরুনো মোটেই ঠিক নয়। রাতটা এখানেই কাটিয়ে যাও।’ হেনা বলল : ‘কি আর করা। আবহাওয়া মোটেই অনুকূলে নয়। তা তোমার খাটতো একটা, আমি ঘুমাব কোথায়?’ ববি বলল : এটা কোন সমস্যাই নয়। তুমি ঘুমাবে ঐ খাটে আর আমি ঐ সোফায়। সোফাটি খুবই আরামদায়ক। দিনের বেলায় এই সোফায় আমি বিশ্রাম নেই।’ হেনা বলল : ‘তোমার যেমন মর্জি। চল ঘুমিয়ে পড়ি। বাতি নিভিয়ে দাও। তবে ডীমলাইট জ্বালিয়ে রেখো। ও-কে গুডনাইট।’ বিছানায় গা এলিয়ে দিতে দিতে রহস্যের হাসি দিয়ে হেনা বলল : ‘ববি মনে রেখো, কোন বিশেষ আবদার নিয়ে আমার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবেনা! মনে থাকবে?’ ববি তৎক্ষণাত জবাব দিল : ‘খুব মনে থাকবে। হেনা তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও ডারলিং’। গভীর রাত। ববি অনুভব করল তার কপালে কোমল ঠোঁটের ছোঁয়া এবং পরক্ষণেই ফোটা ফোটা তপ্ত অশ্রু তার গাল বেয়ে ঝরছে। ববি দেখলো হেনা তার উপর ঝুকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ববি বিচলিত কণ্ঠে বলল : ‘হেনা তুমি কাঁদছো কেন? তোমার কি হয়েছে? তোমার চোখে অশ্রু।’ হেনা বলল : ‘ওগো, ওগুলো অশ্রু নয়, আমার প্রেমের রেনু ঝরে ঝরে পড়ছে। আমি মনের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ করে হেরে গিয়ে তোমার কাছে ছুটে এসেছি। ওগো, আমাকে ‘প্রেম সোহাগে’ ভরে দাও। সুখ দাও, তৃপ্তি দাও। আমি তৃষ্ণার্থ, আমার তৃষ্ণা নিবারণ কর।’ ববি বলল : ‘মাই সুইট হেনা। আমিতো তোমার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম। এসো আমার বুকে।’ বলে, হেনাকে জড়িয়ে ধরে চুমোয় চুমোয় ভরে দিতে লাগল। বাইরে প্রবল ঝড়ো হাওয়া, ভিতরে দুটি ক্ষুধার্ত শরীরের লাগামহীন উল্লাস। ভোরের আলো যখন ফুটলো, ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হেনা মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। ববি তৃপ্তির হাসি নিয়ে ধবধবে ফর্সা হেনার অতি মায়াবী মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। তার ঘন কালো এলোমেলো চুলগুলো শ্রাবণের বারিধারার মতো মুখের উপর দিয়ে কোমর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে মেঘের ফাঁক দিয়ে একফালি চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। ববির স্বগতোক্তি ঃ ‘হে বিধাতা, প্রেম আছে বলেই তোমার এই পৃথিবীটা এত সুন্দর, আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত। প্রেম নেই, জগৎ অন্ধকার, মানুষ বসবাসের অনুপযোগী।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT