বিশেষ সংখ্যা

ঈদের চেতনা ও আনন্দ

মোঃ দিলশাদ মিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:৫৫:৪৯ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

বছর ঘুরে আবার এল পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। আরবি শব্দ ঈদ অর্থ খুশি বা আনন্দ। হৃদয় থেকে স্বতঃউৎসারিত আবেগ-উচ্ছ্বাসকে আনন্দ বলা হয়। ঈদ উৎসব মুসলিম মিল্লাতের জাতীয় উৎসব। সারা মুসলিমগণ বছরে দু’বার এ উৎসব পালন করে। একটি ঈদ-উল-ফিতর, অন্যটি ঈদ-উল-আযহা।’ ঈদ মানেই আনন্দ ও খুশির উৎসব। ঈদ শব্দটি এসেছে আরবি শব্দমূল ‘আউদ’ থেকে। এর অর্থ এমন উৎসব, যা ফিরে ফিরে আসে, পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়, রীতি হিসেবে গণ্য হয় প্রভৃতি। এর অন্য অর্থ খুশী-আনন্দ। এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নানা নিয়ম কানুন পালনের পর উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর; অন্যকথা রোজার ঈদ। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেয়া। আরেক অর্থে বিজয় দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর যে উৎসব উদযাপন করা হয়, তা-ই ঈদ-উল-ফিতরের উৎসব। বিজয় শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গোটা রমজান মাস রোজা রেখে আল্লাহভীরু মানুষ তা ভেতরের সব রকমের বদভ্যাস ও খেয়ালখুশিকে দমন করার মাধ্যমে একরকমের বিজয় অর্জন করেন। সেই অর্থে এটি বিজয় হিসেবেও দেখা যায়। সব মিলিয়ে ঈদ-উল-ফিতরকে বিজয় উৎসব বলা যেতে পারে। ঈদ-উল-ফিতরের প্রতিটি অনুশাসনে ইবাদতের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া এদিন প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে সত্যনিষ্ট জীবন যাপনের তাগিদ এবং মানবতার বিজয়বার্তা। মানবজাতির তথা মুসলমানদের মহামিলনের উৎসব হলো ঈদ। আমাদের জাতীয় জীবনেও সাংস্কৃতিক জীবনে ঈদ একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। ঈদ মুসলমানদে ধর্মীয় উৎসব। ঈদ নিছক আনন্দই নয়। এর আমেজের সাথে জড়িত আছে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ। আল্লাহর নির্দেশে দীর্ঘ এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধন মাধ্যমে আমরা যে তাকওয়া ভিত্তিক চরিত্র গঠনের অনুশীলনী করে থাকি, তার সমাপনী উৎসব ঈদুল ফিতর নামে অভিহিত। ঈদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি গান ও কবিতা লিখেছেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার লেখা-ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ। এ গানটি না শুনলে ঈদ যেন পূর্ণতা হারিয়ে ফেলে এছাড়া, ‘ঈদ মোবারক’ ‘কৃষকের ঈদ’ ও ‘ঈদের চাঁদ’ নজরুলের বহুল আলোচিত কবিতা।
কবি কায়কোবাদ ‘ঈদ আবাহন’ নামে একটি কবিতা লিখেছেন। সৈয়দ এমদাদ আলীর ‘ঈদ’ কবিতা। গরীব-দুঃখী ও অসহায়দের মনের আকূতি প্রকাশিত হয়েছে কবি তালিম হোসেনের ‘ঈদের ফরিয়াদ’। কবি সুফিয়া কামাল তাঁর ‘ঈদের চাঁদ’ কবিতা লিখেছেন। কবি মঈনুদ্দিন সাম্যবাদী পত্রিকায় ‘ঈদুল ফিতর’ নামে কবিতা লিখেছেন। কবি আশরাফ আলী খানের ‘ঈদ’ শীর্ষক কবিতা লিখেছেন। ‘সাওয়ালের চাঁদ কে সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন। সমাজে ঈদের খুশির প্রভাব সম্পর্কে কবি আ.ন.ম বজলুল রশিদ তাঁর ‘ঈদ আসে’ কবিতায় লিখেছেন-ঈদ আসে হাসিখুশি তোমাদের আমাদের সকলের ঘরে। অধিকাংশ কবি সাহিত্যিক ঈদের দিনকে খুশির হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
মুসলিম মিল্লাতের জন্য ঈদ উৎসব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং ইসলামের মহানবী ও রাসুল মুহাম্মদ (সা:)। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বছরে দুটি নির্দিষ্ট দিনে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ঈদ উৎসব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তখন থেকে বিশ্বের সকল মুসলিম নিয়মিত ঈদ উৎসব পালন করে আসছে। হযরত আনাস (রা:) থেকে হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসুল (সা:) যখন মদিনায় উপস্থিত হলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, মদিনাবাসীরা দু’টি জাতীয় উৎসব পালন করে। আর এ জাতীয় পালনার্থে তারা খেল-তামাশা ও আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করতো। রাসুল (সা:) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন ঃ “তোমরা এই যে, দু’টি দিনে জাতীয় উৎসব পালন কর এর মূল উৎস ও তাৎপর্য কী? তারা বলল ঃ ইসলামের পূর্বে জাহেলিয়াতের যুগে আমরা এ উৎসব এমনি হাসি-খেলা ও আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমেই উদযাপন করেছি, এখন পর্যন্ত সেটাই চলে আসছে।” একথা শুনে রাসুল (সা:) বললেন আল্লাহতা’য়ালা তোমাদের এ দুটি উৎসবের দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দু’টি দিন, ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা দান করেছেন। অতএব পূর্বের উৎসব বাদ দিয়ে এ দু’টি দিনের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানাদি পালন করতে শুরু কর। রাসুল (সা:) আবু বকর (রা:) কে উদ্দেশ্য করে বলেন-‘প্রত্যেক জাতির আনন্দ উৎসব রয়েছে আর আমাদের আনন্দের দিন হলো-ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।”
মানুষকে তাকওয়ার গুণসম্পন্ন করাই সিয়াম সাধনার লক্ষ্য। তাকওয়া হলো আল্লাহ তায়ালার ভয়জাত সাবধানতা, যা মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। তাকওয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা অনেক বর্ণনা করেছেন-‘আল্লাহকে ভয় কর, এবং জেনে রাখ তোমাদেরকে অবশ্যই তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর মনে রেখ, তিনি তোমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ দেখছেন। (সুরা মায়েদা-০৭)
সুরা আল-ইমরানের ১০২নং আয়াতে “আল্লাহ বলেন-হে ঈমানদার আল্লাহকে ভয় কর, যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত। এবং মুসলমান না হয়ে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না।” সুরা মায়েদা ৪নং আয়াতে বলেছেন-আল্লাহর আইন ভঙ্গ করাকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণ করেন খুব দ্রুত।” সুরা আহযাব এর ৭০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।” তাকওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন-বস্তুত আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি সে যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। (সুরা হুজুরাত-১৩) আমাদের বৃহত্তর ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তাকওয়ার প্রয়োগ রয়েছে যেমন এ ব্যাপারে সুরা হুজুরাতের ১০নং আয়াতের ঘোষণা-“মুমিনগণ পরস্পরের ভাই, অতএব ভাইদের মাঝে সংগঠিত বিবাদ-বিসম্বাদ মিটমাট করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেন আমরা পরহেজগার বা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারি। রাসুল করীম (সা:) বলেছেন যে লোক রমজানের মাসে রোজা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেছেন-রোজা ও কোরআন রোজাদারদের জন্য শাফায়াত করবে।” আবার রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (সা:) বলেন-যে লোক মিথ্যা কথা ও মিথ্যার আমল পরিত্যাগ করলো না, তার খাদ্য ও পানীয় পরিত্যাগ করার আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী) রাসুল (সা:) বলেছেন-রোজাদারদের জন্য দু’টো আনন্দ। একটি ইফতার করার সময় এবং ২য়টি তার মালিক মুনীব খোদার সাথে সাক্ষাত লাভের সময় ঈদের নামাজ শেষে ইমাম সাহেব যে খুতবা দিয়ে থাকেন তার মূল বক্তব্যই হয়ে থাকে বাস্তব জীবনে রোজার শিক্ষাকে কাজে লাগাবার উপদেশে ভরপুর। ঈদের এই দিনে কার জন্য সত্যিকারের খুশীর দিন আর কার জন্যে শান্তির সংকেত স্বরূপ তাও প্রচলিত ঈদের খুতবাগুলোতে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে প্রচলিত ইদের খুতবাগুলোতে সাধারণত তিনটি জিনিষের উল্লেখ আমরা পেয়ে থাকি ঃ এক. যে নতুন পোষাকে উল্লাস করে তার ঈদ প্রকৃত ঈদ নয়। প্রকৃতপক্ষে আজকের এই দিন তার জন্যই ঈদের বা খুশির দিন যে বিগত এক মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আখেরাতে আল্লাহ তা’য়ালার শাস্তি সম্পর্কে ভীত-শংকিত হয়েছে। দুই. ঈদের এই দিন নেককার বা সততা অর্জনের সক্ষম ব্যক্তির জন্যই ঈদের বা খুশীর দিন। আর যারা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেদের এই পর্যায়ভুক্ত করতে পারেন না তাদের জন্য ঈদের আনন্দের পরিবর্তে ভীতিপ্রদ দিন। তিন. এমনি এক ঈদের দিনে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা:) এর ভূমিকা ও তুলে ধরা হয়ে থাকে এক ঈদের দিনে অন্যরা যখন আনন্দ-উল্লাসে মত্ত তখন হঠাৎ দেখা গেল, খলিফাতুল মুসলেমীন ঘরের ভিতরে ক্রন্দনরত। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, আমীরুল মুমিনীন আজ তো খুশির দিন আমরা সবাই আনন্দিত, আর আপনি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ক্রন্দনরত, ব্যাপার কি? আমীরুল মু’মিনীন বললেন, যদি তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে থাকে যে, তাদের সিয়াম সাধনা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়েছে, তাহলে তারা আনন্দ উল্লাস করতে পারে। আমার তো জানা নেই, আমার রমজানের সিয়াম সাধনা কবুল হয়েছে কিনা। মূলত মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফার এই ঘটনাটিই আমাদের সকলের জন্য শিক্ষণীয়। অতএব, ঈদের এই দিনটি সামষ্টিকভাবে আল্লাহর হুকুম পালনে সক্ষম হওয়ার কারণে মুসলিম মিল্লাতের সামষ্টিক জীবনের জন্য খুশির এবং আনন্দের দিন হলেও ব্যক্তির জন্য দিনটি আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণের দিনও বটে। আমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠতের ঘোষণা দেই এবং কৃতজ্ঞতার প্রকাশস্বরূপ তারই সমীপে সেজদাবনত হই দু’রাকাত নামাজের মাধ্যমে।
রোজার মাধ্যমে বিত্তবানরা বুঝতে সক্ষম হয়েছে গরীবের ক্ষুৎ-পিপাসা কষ্ঠ। তাইতো একই সমাজের সমমনা মানুষ হিসেবে তাদেরকে স্বাবলম্বী করবার এক মহান শিক্ষা দিতেই ঈদের আগমন। এ আনন্দ সকলকে নিয়ে এক সাথে একভাবে হৃদয়ের বন্ধনকে মজবুত করার জন্য দেয়া হয়েছে। সুতরাং ইসলামে ঈদ আনন্দের সাথে অবারিত ক্ষমা পাবার সুবর্ণ সুযোগ, পরিচ্ছন্ন পরিমার্জন ও মানবতাবাদকেও এক সাথে গেথে দিয়েছে। ঈদ উৎসবের মূল চেতনাকে ধারণ করেই এটা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে হবে। ঈদ ধনী গরীবের সব মানুষের মহামিলনের বার্তা বহন করে। ঈদের দিন ধনী-গরীব, বাদশা-ফকির, মালিক-শ্রমিক, নির্বিশেষে সব মুসলমান এককাতারে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় এবং একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে সাম্যের জয় ধ্বনি করেন গড়ে ওঠে সবার মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদের জামায়াতে পার্থিব সুখ-শান্তি, স্বস্তি আর পারলৌকিক মুক্তি কামনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সেই সঙ্গে বিশ্বশান্তি দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও সংহতি কামনা করা হয়। ঈদ ধর্মীয় বিধি বিধানের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস নেয় এবং পরস্পরের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা হলো জগতের সব মানুষের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। পৃথিবীর সর্বপ্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানিমুক্ত হোক। সন্ত্রাসের বিভীষিকা দূর হোক। অন্তরদ্বন্দ্ব আর নাশকতা দূর হোক। সমাজ ও রাষ্ট্র হোক মাদকমুক্ত। আগামী দিনগুলো সুন্দর ও সৌন্দর্যমন্ডিত হোক। হাসি-খুশি ও ঈদের আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সংযম সৌহার্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ পরিব্যাপ্তি লাভ করুক এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। এক মাসের তাকওয়া অনুশীলনকে ধারণ করে যেন বাকী ১১ মাসের পথ চলতে পারি এই হোক প্রতিজ্ঞা। তাই আসুন, ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিই সবার মনে-প্রাণে মালিক-শ্রমিক, কৃষক-মজুর, জেলে-কুমার, ধোপা-মুচি সবাই ঈদের আনন্দ-উৎসব উপভোগ করতে পারে। ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংগত হবে। ভেদাভেদ নয় বরং মুসলিম সমাজে ইসলামের আদর্শে ঈদ উদযাপিত হোক এ প্রত্যাশা রইল পবিত্র ঈদ-উলÑফিতরের দিনে, ঈদ-মোবারক!“ সফল হোক সকলের ঈদের খুশি।
লেখক : প্রভাষক, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT