বিশেষ সংখ্যা

ঈদ যাত্রা হউক আনন্দময় ও উপভোগ্য

সৈয়দ আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:৫৭:৩১ | সংবাদটি ২৪ বার পঠিত

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে দ্রুতগতির গাড়ি তৈরী সহ নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে প্রসস্ত সড়ক-মহাসড়ক তৈরী করে কিভাবে মানুষের যাত্রাপথকে আরামদায়ক করা যায় সে চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সড়ক দুর্ঘটনা, নিরাপত্তা ও যাত্রী ভোগান্তির পরিমাণ শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্যও তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর আমরা দুর্নীতির অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকার কারণে গাড়ি তৈরীতো দূরের কথা, সড়ক-মহাসড়ক তৈরীর কাজে বরাদ্দকৃত টাকা ও উপকরণ যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। অন্যদিকে ভাঙাচোরা সড়ক সময়মত বা সংস্কারতো করছিই না বরং রাস্তায় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ভোগান্তি সৃষ্টি করে কিছু বাড়তি পয়সা আদায় করা যায় তার চেষ্টায় মগ্ন থাকি। এমন বাস্তবতায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মহাসড়কগুলোতে অবৈধ বাজার, অস্থায়ী দোকান, অবৈধ গাড়ি স্ট্যান্ড, ফিটনেসহীন গাড়ি চলাচল, রাস্তায় চাঁদাবাজি, উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে যাত্রাপথে দীর্ঘ যানজটে পড়ে যাত্রীগণকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে বলে আগেভাগেই জানিয়েছিল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।
সিলেট বিভাগকে দ্বিতীয় লন্ডন বলা হয়, কেননা সিলেটবাসীর বিদেশী স্বজনরা রেমিটেন্স প্রেরণ করার কারণে তাদেরকে স্বাভাবিক খরচের জন্যতো বটেই, বিশেষ করে রোজার মাসে বাহারী ইফতারী ও ঈদ আনন্দ উপভোগের জন্য আহাজারী করতে হয় না বরং ঈদ উপলক্ষে প্রচুর কেনাকাটার জন্যও আলাদা অতিরিক্ত অর্থ পাঠিয়ে থাকে। তাই ঈদ উপলক্ষে বাড়তি আনন্দ উপভোগের জন্য দেশে বসবাসকারী আত্মীয়গণ একে অন্যের সাথে মিলিত হয়ে থাকে। প্রাচুর্য্যতা ও স্বভাবসুলভ অলসতার কারণে সিলেটবাসী অন্য জেলাতে চাকুরি করতে না চাইলেও ইদানিং কালে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রচুর চাকুরিজীবী রয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকার গার্মেন্টসগুলোতে যারা চাকুরি করেন তারা প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য সড়ক-মহাসড়কে ট্রেন বা বাসের যাত্রী হবেন। সিলেটগামী ঈদ যাত্রীগণের যাত্রা নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আনন্দদায়ক হউক।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ভাঙা ও খানাখন্দে ভরপুর হওয়ায় গাড়ির গতি হবে মন্থর, তার উপর অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, সিএনজি, অটোরিক্সা, ভটভটি, নসিমন ইত্যাদি কম গতির গাড়ির কারণে মহাসড়কগুলোতে হবে যানজট। নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার ফলে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাবে। ফলে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠতে হাট বাজার, গাড়ির স্ট্যান্ড, ফিটনেসহীন গাড়ি ফলে পুলিশসহ দলীয় ক্যাডারদের চাঁদাবাজি হয় স্থানে স্থানে সৃষ্টি হবে যানজট ভোগান্তিতে পড়তে হবে যাত্রী ও পথচারীবৃন্দ। তাছাড়া ধীর গতির কারণে ছয় ঘন্টার রাস্তা সিলেট আসতে সময় লাগবে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা। গাড়ি বা যানবাহনে অতিরিক্ত সময় বসে থাকা যে কতটুকু বেদনাদায়ক তা ভোক্তভোগী ছাড়া বুঝা কঠিন। তার ওপর রমজান মাস ফলে ভোগান্তির পরিমাণ হবে আরও বেশি নাজুক।
আসন্ন ঈদের সময় ঘরমুখো অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে যাতে বিঘœ সৃষ্টি না হয় সেজন্য গত ৮ জুনের মধ্যে সকল সড়ক-মহাসড়কগুলো যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের। কিন্তু কে শুনে কার কথা বরং ঘোষিত সময়ের পূর্ব থেকেই যানজটে নাকাল হয়েছে ঢাকা-সিলেট সহ সারা দেশের মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবৃন্দ। এতেকরে যাত্রীবৃন্দ সময় ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী যাত্রীবৃন্দসহ পরিবহন ব্যবসায়ীবৃন্দ।
যারা টিকেট পাননি বা সময় হাতে আছে এবং অবসর তারা ঈদ যাত্রার পূর্বেই যাত্রা শুরু করে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রীজ থেকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত প্রায় ২২৬ কি.মি রাস্তা চারলেনে উন্নতি করা সম্ভব হয় তবে বর্তমান ছয় ঘন্টার স্থলে মাত্র তিন ঘন্টায় ঢাকা থেকে সিলেট পৌঁছানো সম্ভব হবে। বর্তমান খানাখন্দকে ভরা রাস্তায় চলাচলে যে কষ্ট ও ভোগান্তি তারও কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। সড়ক পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট ও যাত্রীদের নানা দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মানুষ রেল ভ্রমণকেই পছন্দ করেছিল কিন্তু ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকেট না পেয়ে, বাধ্য হয়েই বাসের যাত্রী হয়েছেন অনেক যাত্রী। আকাশ পথের ঈদ যাত্রায় আকাশ ছোঁয়া ভাড়া হওয়ায় অনেকের পক্ষেই প্লেনের টিকেট ক্রয় সম্ভব নয়। তাই বিপুল পরিমাণ কর্মজীবী মানুষ যারা ঈদে স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার জন্য ঢাকা-সিলেট রোডের যাত্রী তারা নির্বিঘেœ, নিরাপদে, নিজ ঘরে পৌঁছে ঈদ আনন্দ উপভোগ করুক এই কামনা করছি।
ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে সরকারের যেমন আন্তরিকতার অভাব ছিল না তেমনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী বাস মালিক, ড্রাইভার ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের ও আন্তরিকতার অভাব নেই। তারপরও যাত্রী সাধারণের দীর্ঘ যাত্রার অসুবিধা, ভোগান্তি, দুর্ঘটনার কারণ যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। যতটুকু সম্ভব সবাই সচেতন হলে ঈদ যাত্রায় দুর্ঘটনাসহ সকল দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমে আসবে এবং নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা মানুষগুলো আপনজনের সাথে নিরাপদে নির্বিঘেœ ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং কাম্য। ঈদ মোবারক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT