বিশেষ সংখ্যা

ঈদ ভাবনা ও প্রত্যাশা

আবু মালিহা প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:৫৮:১৩ | সংবাদটি ৬০ বার পঠিত

ঈদুল ফিতর। মহা আনন্দের দিন। মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম। এ দিনে মুসলমানদের অন্তর ভরে উঠে খুশির আমেজে। ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ ভুলে সকলে মিলে একত্র হয় ঈদগাহের ময়দানে। মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত বারিধারার মত ঝরে পড়ে কুল কায়েনাতে। মহা মিলনের দিন এ ঈদুল ফিতর। তবে এ ঈদুল ফিতরের স্বার্থকতা আসবে তখনই যখন প্রতিটি মুসলিমের অন্তর এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বময় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালায়।
আজ বিশ্বময় মহা সংকটে নিমজ্জিত। মানবতা প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি। পৃথিবী জুড়ে অশান্তির দাবানল। মজলুম মানবতার চিৎকারে ভূ-প্রকম্পিত। হায়েনাদের দাপটে গোটা পৃথিবীতে জাহান্নামের পরিবেশ সৃষ্টি করে চলেছে। মানবতা মুখ থুবড়ে পড়েছে। জালিমদের অত্যাচারে গোটা মানবতা আজ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। অশুর তান্ডবে বিভীষিকা ছুটছে প্রতিটি প্রান্তরে। রিক্ত হাহাকার ধরণীতে মজলুমদের কাতর কন্ঠের আহাজারী বিশ্বময়। তাই সঙ্গত কারণে আজ এ প্রশ্ন বিশ্বব্যাপী এ দানবীয় কর্মকান্ডের শেষ কোথায়। তাই কালামে পাকে মহান আল্লাহ তায়ালার এ প্রসঙ্গে আহবান ‘আর তোমাদের কি হয়েছে, তোমরা কেন আল্লাহর পথে লড়াই করছ না ঐ অসহায় দুর্বল নারী-পুরুষ ও শিশু সন্তানদের জন্য যারা দুর্বল ও অসহায় হওয়ার কারণে তাদের উপর নির্যাতন ও জুলুম করা হচ্ছে। জুলুম ও নির্যাতনের কারণে আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করতেছে, ‘হে পরওয়ারদেগার! আমাদেরকে জালেম এ অধ্যুষিত এলাকা থেকে বের করে নাও নতুবা তোমার পক্ষ থেকে দরদী, সাহায্যকারী বন্ধু পাঠাও’। (সূরা আন নিসা-৭৫) তাই আজ সময় এসেছে মানুষের পাশে দাঁড়াবার। ঐ সমস্ত জুলুমবাজ যারা সমাজের উপর নানা প্রকার জুলুমের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে নিয়োজিত। যারা সমাজের অসংখ্য মানুষের দাবী দাওয়াকে উপেক্ষা করে আত্মক্ষমতা ও সম্পদকে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য ছলে বলে কৌশলে আধিপত্য বজায় রাখার অপপ্রয়াসে লিপ্ত।
ঐ সকল জালেমদের ব্যাপারে মানবতার মুক্তি দূত মহানবী (সাঃ) বলেন, (আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত) তোমার ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে স্বৈরাচারী জালেম হোক অথবা মজলুম। এক ব্যক্তি বলল হে আল্লাহর রসুল। সে যদি মজলুম হয়, আমি তাকে সাহায্য করব। আপনার কি মত, যদি সে জালেম হয় তবে আমি তাকে কি করে সাহায্য করতে পারি? তিনি বলেন, তাকে জুলুম করা থেকে বিরত রাখ, বাধা দাও। এটাই তাকে সাহায্য করা (বুখারী)। তাই ঈদুল ফিতরের এই ঊষালগ্নে আমাদের ব্রত হোক মানবতার কল্যাণে এদের জুলুম থেকে নিবৃত্ত করা। প্রকারান্তরে ঈদ সর্বস্তরের মানুষের জন্য বয়ে আনুক সাম্য সংহতি এবং প্রীতির বন্ধনে ঐক্য ও ভালবাসার। প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটুক বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে আত্ম প্রত্যয়ী হওয়ার। জালেম প্রকৃতির মানুষ থেকে সমাজের মানুষের নিষ্কৃতি দানের লক্ষ্যে কর্ম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার। ভেদাভেদহীন সমাজ সৃষ্টিতে ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষার ভিত্তি গড়তে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমুন্নত করতে হবে। বিশ্ব মুসলিমের আজ এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সজাগ ও সচেতন হিসাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিংহ শার্দুলের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে নতুন সমাজ বদলের লক্ষ্যে। যেখানে থাকবে না ভুখা নাঙ্গা মানুষের ভিড়। থাকবে না কলহ কোন্দল পাপিষ্ট সমাজের নিষ্পেষণ। আবাল বৃদ্ধ বনিতাদের যেখানে থাকবেনা আহাজারি। নিত্য সুন্দর ও সমুজ্জল পৃথিবী গড়ে উঠবে সোনালী প্রভাতের আলোয়। যেখানে রণভেরী কান্ডারী জেগে উঠবে এই বলে,
‘জীবনের চেয়ে দীপ্ত মৃত্যু তখনি জানি
শহীদি রক্তে হেসে উঠে, যবে জিন্দেগানী’
তাই আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই মহান দিনে আমরা সকলেই যেন, সেই শিক্ষা নিতে পারি, যে শিক্ষায় আমাদের নিত্য দিনের গ্লানি দূর করে পবিত্র সুখী সুন্দর জীবনের সূচনা করতে পারি। মানব জীবনের কালিমা দূর করে বেহেশতী সওগাতে যেন রেঙে উঠতে পারি। ঈদগাহের বিশাল জামায়াত থেকে যেন বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও মহামিলনের অকৃত্রিম সুর বেজে উঠুক। এই প্রত্যাশা প্রতিটি মুসলমানের। আসুন আমরাও জাতীয় কবির ভাষায় গেয়ে উঠি-
‘শহীদি ঈদগাহে দেখ আজ জমায়েত ভারী
হবে দুনিয়াতে ফের ইসলামী ফরমান জারী।’
বিশ্বময় মানবতার জয়গান গেয়ে উঠুক। সাম্য-মৈত্রীর ঐক্য বদ্ধনে গড়ে উঠুক বিশ্ব সমাজ। ঈদুল ফিতরের দিনে এই হোক সকলের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT