উপ সম্পাদকীয়

স্বপ্নের বাজেট : বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

মোহাম্মদ কামরুল আনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৬-২০১৮ ইং ০১:২৪:৪১ | সংবাদটি ৬২ বার পঠিত
এখন বাজেটের সময় এখন বাজেটের মাস। ৭ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বিশাল বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সব চেয়ে বড় একটি বাজেট। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ৪৭ তম বাজেট। আর এ বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে গেলেন। তিনি বর্তমান সরকারের সময় টানা দশ বছর ধরে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আর সে হিসেবে টানা দশ বছর বাজেট পেশের রেকর্ড এখন তার ঝুলিতে। শুধু তাই নয় তিনি ১২ বার বাজেট পেশ করে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এর আগে সিলেটের আরেক গৌরব এম সাইফুর রহমানও তিন দফায় বারটি বাজেট দিয়েছিলেন। তবে টানা সর্বোচ্চ দশ বার বাজেট দেওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরই। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ শুধু সর্বোচ্চ সংখ্যাক বাজেটই পেশ করেননি বরং তার কাজের মাধ্যমে দক্ষতা, যোগ্যতা, সফলতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। এ পর্যন্ত ৪৭টি বাজেটের মধ্যে ৩০টি বাজেটই পেশ করেছেন সিলেটেরই তিন কৃতি সন্তান, তিন জন অর্থমন্ত্রী। এম সাইফুর রহমান ১২টি, আবুল মাল আবদুল মুহিত ১২টি এবং শাহ এএমএস কিবরিয়া ৬টি। ১৯৮২-৮৩ অর্থবছরে আবুল মাল আবদুল মুহিত যখন প্রথম বাজেট পেশ করেন তখন সে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৪ হাজার ৭ শত ৩৮ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসে তার ১২তম বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে, ব্যয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকায়। আয় ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা আর ঘাটতি হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বিনিয়োগ জিডিপির ৩৩.৫৪ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ, প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশ, ভ্যাট স্তর কমে পাচ স্তরে আর মাথাপিছু আয় ১৯৫৬ ডলার। তিনি শুরু করেছিলেন ৪ হাজার থেকে আর নিয়ে গেছেন ৪ লাখ এ। হাজার থেকে লাখ। এটা বাংলাদেশের উন্নয়নের ও সক্ষমতারই স্বাক্ষর বহন করে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এটাও একটা বড় প্রমাণ। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটা তার গৌরব করারই কথা। এখন একটু আমরা এক নজরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১২টি বাজেটের আকার দেখে চলে যাবো বর্তমান বাজেটের আলোচনায়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম বাজেটের আকার ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি। এখন শুরু করি দ্বিতীয় বাজেট থেকে। তার দ্বিতীয় বাজেট ছিল ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে যার আকার ছিল ৫ হাজার ৮ শত ৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তার দ্বিতীয় বাজেটের আকার বৃদ্ধি ঘটে ১ হাজার ১ শত ৫৮ কোটি টাকা। আর এ দু বাজেটই ছিল এরশাদ সরকারের সময়। তারপর দৃশ্যপট থেকে আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিদায় ঘটে। আবির্ভাব ঘটে অন্য অর্থমন্ত্রীদের। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন অর্থমন্ত্রীরা বাজেট দিয়েছেন। সেই সব বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা সময় সময় হয়েছে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ২০০৯ সালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০০৯-১০ অর্থবছরে তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ১ শত ৭০ কোটি টাকার তার তৃতীয় বাজেট দেন। চতুর্থ বাজেট দেন ২০১০-১১ অর্থবছরে যার আকার ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার। পঞ্চম বাজেট ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকার ২০১১-১২ অর্থবছরে। আর ষষ্ঠ বাজেট ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেন, যে বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকায়। সপ্তম বাজেট পেশ করেন ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যার আকার ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। আবুল মাল আবদুল মুহিতের অষ্টম বাজেট ছিল ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। বাজেট ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার। আবুল মাল আবদুল মুহিতের নবম বাজেট ছিল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। বাজেট ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার। আবুল মাল আবদুল মুহিতের দশম বাজেট ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। বাজেট ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার। আবুল মাল আবদুল মুহিতের এগারো তম বাজেট ছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিজের ভাষায় বার তম বাজেট ২০১৮-১৯ হতে যাচ্ছে তার জীবনের শেষ বাজেট। যা ইতিমধ্যে মহান জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে। যদিও তিনি আবার এও বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে তিনি আবার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে রাজি আছেন। যাই হোক ইতিমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ হয়েছে এবং বাজেট নিয়ে বিভিন্ন মহল বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন, কেউ বা তা চুলচেরা বিশ্লেষণও করছেন। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা বিভিন্ন হেডিং ও লীড নিউজ করেছে বাজেট নিয়ে যা দেখলে এবারের বাজেট সম্পর্কে বিভিন্ন মহলের একটি ধারণা পাওয়া যাবে। কেউ বলছেন এটা হচ্ছে মুহিত ম্যাজিক বাজেট। দৈনিক জনকন্ঠের লীড নিউজ হচ্ছে, সমৃদ্ধির সোপানই লক্ষ্য। দশকজুড়ে বাজেট পেশের অনন্য রেকর্ড আওয়ামী লীগের, কৃতিত্বের ভাগীদার মুহিতও। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. খলীকুজ্জামানের প্রশংসা, প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ যথার্থ হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে ব্যবসায়ী সংগঠনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শিক্ষা উন্নয়ন খাতে ৫৩ হাজার কোটি টাকার সর্বোচ্চ বাজেট প্রস্তাব। আরও এক হাজার প্রাইমারী স্কুল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুহিত। বাজেটে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বিশেষ গুরুত্ব, ২০ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব। কৃষকের স্বার্থরক্ষায় চাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ২ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬৪ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। উৎসবমুখর সংসদ ভবন।। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন। যায়যায়দিন পত্রিকার নিউজ হচ্ছে, ভোটের হিসাব শেষ বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেট নির্বাচনমুখী, গতানুগতিক ঃ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ভোটার আকর্ষণের বাজেট বলছে বিএনপি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও ভাতা বাড়ছে। সঞ্চয়পত্রে অপরিবর্তিত সুদহার, কমেছে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। মানবজমিন হেডিং দিয়েছে, নির্বাচনী উচ্চাভিলাষ। রাজনৈতিক বাজেট, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটে সর্বজনীন পেনশনের রূপরেখা। বাজেটে শিল্প-ব্যবসাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে। দৈনিক ইত্তেফাক, ভোটের ও লুটপাটের বাজেট ঃ বিএনপি। বাজেটের নামে সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করছে ঃ মঈন খান। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন। সমকাল পত্রিকার লিড নিউজ হচ্ছে- বড় বাজেট, ভাবনায় ভোট। সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী। চলতি বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তাই এ বাজেটের একটি বিরাট রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আমরা দেখেছি প্রতি বছরই বাজেটের আকার আকৃতি বৃদ্ধি পেতে আছে। বর্তমান সরকার অনেক বড় বড় ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, পদ্মা রেললিংক, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রভৃতি। যে প্রকল্প গুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন সাধিত হবে। তাই সঠিক ভাবে বাজেট বাস্তবায়নও বড় একটি ব্যাপার। এ বাজেট নিয়ে বিভিন্ন জনের মতামত ও বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ ও ভাষ্য বা বিশ্লেষণ আমি তুলে ধরেছি। এখন বাজেট উচ্চাভিলাষী হউক, রাজনৈতিক বা নির্বাচনমুখী বা গতানুগতিক বা ভোটের হিসাব যে নামেই এ বাজেটকে আখ্যায়িত করি না কেন মূল বিষয় হচ্ছে বাজেটের বাস্তবায়ন। মূল চ্যালেঞ্জই হচ্ছে বাজেটের যথাসময়ে যথাযথ বাস্তবায়ন। বাজেট হচ্ছে সরকারের সম্ভাব্য আয় ও সম্ভাব্য ব্যয়ের অগ্রীম হিসাব। যা প্রতি বছর জুন মাসে জাতীয় সংসদে পেশ করেন দেশের অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশের বাজেট সাধারণত ঘাটতি বাজেট(উবভরপরঃ ইঁফমবঃ)। অর্থাৎ সম্ভাব্য ব্যয় থেকে সম্ভাব্য আয় কম হয়ে থাকে। অর্থাৎ আয় কম, ব্যয় বেশি। উন্নয়নশীলদেশে উন্নয়নের জন্য অনেক বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে হয় বলে আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হয়ে থাকে। জাতীয় সংসদে পেশ করার পূর্বে বাজেট মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করে অনুমোদন করানো হয়। সে হিসেবে এ বছরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভায় উক্ত বাজেট অনুমোদন করে অর্থমন্ত্রী তা মহান জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন। এখন জাতীয় সংসদে পেশকৃত বাজেট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। ২৯ জুন অর্থবিল পাস হবে। তারপর ৩০ জুন জাতীয় সংসদ বাজেট পাশ করবে। পেশকৃত বাজেটে অনেক পরিবর্তনও আসতে পারে। সংসদ সদস্যদের আলোচনা বা পরামর্শে অর্থমন্ত্রী অনেক কিছু বাদ দিতে পারেন আবার অনেক কিছু সংযুক্তও করতে পারেন। ১লা জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর। যে বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে তা হচ্ছে মূল বাজেট, এ বাজেট এরকম শেষ পর্যন্ত থাকবে না, সেটা সংশোধিত হবে আর সেটা হবে সংশোধিত বাজেট আর শেষ পর্যন্ত যতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটা হবে প্রকৃত বাজেট। তাহলে দেখা গেলো বাজেট হতে পারে- সুষম বাজেট (ইধষধহপবফ ইঁফমবঃ), ঘাটতি বাজেট (উবভরপরঃ ইঁফমবঃ), উদ্বৃত্ত বাজেট (ঝঁৎঢ়ষঁং ইঁফমবঃ), রাজস্ব বাজেট (জবাবহঁব ইঁফমবঃ), মূলধনী বাজেট (ঈধঢ়রঃধষ ইঁফমবঃ), মূল বাজেট, সংশোধিত বাজেট এবং প্রকৃত বাজেট। এখন দেখা যাক এ বাজেটের ফলে কোন কোন দ্রব্য গুলোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমদানি শুল্ক, সম্পুরক শুল্ক আরোপ ও হারের পরিবর্তনের কারণে কিছু কিছু পণ্য দ্রব্যের দাম যে ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে আবার কিছু কিছু পণ্য দ্রব্যের দাম হ্রাসও পেতে পারে। যে সব পণ্য দ্রব্যের দাম বাড়তে পারে সে গুলো হলো- আমদানি করা মোড়কজাত মধু, চুইংগাম, চকলেট, বাদাম, সিরিয়াল, ওটস, পুরনো গাড়ি, মোবাইল ব্যাটারির চার্জার, ২০০০ ভোল্ট পর্যন্ত ইউপিএস ও আইপিএস, বাইসাইকেলের আমদানি করা যন্ত্রপাতি, এনার্জি ড্রিংকস, প্রসাধন সামগ্রী, সিগারেট ও বিড়ি, গোসলখানার সরঞ্জাম, পলিথিনের ব্যাগ, পশমি সামগ্রী, ইত্যাদি। আবার দাম কমতে পারে- হাইব্রিড গাড়ি, ক্যান্সার ও কিডনি জাতীয় রোগের প্রতিষেধক, পাউরুটি, বনরুটি, বিস্কুট, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল, স্থানীয় কারখানায় উৎপাদিত ফ্রিজ, রড, প্লাস্টিক ও রাবারের হাওয়াই চপ্পø, গো-খাদ্য, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত মোটরসাইকেল, গুড়ো দুধ, বল পয়েন্ট, স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত আমদানি করা বাস ও টায়ার টিউব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট আকারে বড় হচ্ছে। আবার বাস্তবায়নের হার কমছে। ফলে বাজেটের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি মনে করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বাড়তি কিছু সুবিধা থাকবে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বিভিন্ন খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা সুষ্ঠু ও সময়মতো খরচ হবে কি-না। জনগণ এর সুফল পাবে কি-না। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক উর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, বিশাল এ বাজেট বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের বছরে বাজেটে এর প্রতিফলন থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিছু ক্ষেত্রে কর ছাড় দেওয়া হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা আরও বাড়বে। নতুন করারোপ হবে না। এসব পদক্ষেপ তো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করা হবে। তবে বড় বাজেট বাস্তবায়নে মানসম্মত খরচের পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমান সরকার এ বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস সময় পাবে। সম্ভবত ডিসেম্বরের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে। অর্থবছরের বাকী ছয় মাস পাবে নির্বাচিত নতুন সরকার। যদি বর্তমান সরকার আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসে তাহলে এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হবে না। এ সরকারই হবে নির্বাচিত নতুন সরকার। হয়তো আমরা পেতে পারি নতুন কোনো অর্থমন্ত্রীকে। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বলা যায় এ সরকার আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং এ বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সমস্যা থাকার কথা না। লেখাটি শেষ করবো অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথা দিয়ে, তার ভাষায় এটা নির্বাচনী বাজেট বা ভোটার তুষ্টির বাজেটও নয়। বাজেট সব সময় জনগণের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই দেওয়া হয়। এটাও সে রকম একটি বাজেট। আমরা আশা করি বিশাল বাজেট সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে এবং দেশ আর এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আশা করি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জেও সফল হবেন আর এর মাধ্যমে তার নাম লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে।। লেখক : প্রভাষক, কলামিস্ট।
শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী
  • অধ্যাপক ডাক্তার এম.এ রকিব
  • শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা
  • প্রবীণদের প্রতি নবীনদের কর্তব্য
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • শরৎকাল
  • বাংলাদেশের সঠিক জনসংখ্যা কত?
  • বিশ্ব-বরেণ্যদের উপাখ্যান আতাউর রহমান
  • মিয়ানমারের একগুঁয়েমি ও মিথ্যাচার
  • Developed by: Sparkle IT