উপ সম্পাদকীয়

বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট ও প্রতিক্রিয়া

এডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৮ ইং ০১:৩৪:৫৬ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

সিএনএন-এর রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরিদ জাকারিয়া তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত বই, ‘দি ফিউচার অব ফ্রিডম : ইললিবারেল ডেমোক্রেসি এট হোম এন্ড এব্রড’-এ সারা বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রগুলোতে উদার গণতন্ত্রের স্থলে অনুদার গণতন্ত্রের উত্থানের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলো উদার গণতন্ত্রের বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত মূলনীতি থেকে সরে আসছে এবং সরকারগুলো প্রকাশ্যেই দেশের সংবিধান, আইনের শাসন, জনগণের মৌলিক অধিকার ও লিবার্টিজ, সংবাদ মাধ্যমসমূহের স্বাধীনতা ইত্যাদির মতো বিষয়গুলোর স্বীকৃত নীতিগুলো উপেক্ষা করে অনুদার গণতন্ত্রের দিকে ঝুঁকছে-যা কী-না কর্তৃত্ববাদী এবং এমনকী, সর্বাত্মকবাদী শাসন পদ্ধতিকে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।
২০০৩ সালে বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী পনের বছরের প্রান্তে এসে এটি বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট উদাহরণ আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠছে যে, উদারনৈতিক গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়ছে, এবং দেশে দেশে এবং এমনকী, উদারনৈতিক গণতন্ত্রের ল্যাবরেটরিজ বলে খ্যাত খোদ আমেরিকার শাসন ব্যবস্থায়ও উদার গণতন্ত্রের বুকের ওপর অনুদার গণতন্ত্র জেঁকে বসছে। দি ফাইনানসিয়াল টাইমসে লিখিত এক প্রবন্ধে রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইউ লুইস মন্তব্য করেছেন,-‘গণতন্ত্র এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে (ক্লোজার টু কলাপস)’।গণতন্ত্রের চরম দুর্দশায় ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেতেলিন অলব্রাইট। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকারদের প্রায় অধিকাংশই মনে করছেন ১৯৩০ সালের দিকে গণতন্ত্র যেমনটি বিপন্ন দশায় পড়েছিলো এবং ইউরোপে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিলো, তেমনটাই বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের বিপর্যয় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এবং বিধ্বস্ত গণতন্ত্রের বুকের উপর ফ্যাসিবাদ, কর্তৃত্ববাদ এবং সর্বাত্মকবাদের ভয়াবহ বিপদ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে। উদাহরণ দিয়ে বলা হচ্ছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক মতাদর্শ আমেরিকার উদারনৈতিক গণতন্ত্রের গৌরবকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং একই সঙ্গে বিশ্ব ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ছ্ েরাশিয়ার পুতিন, মিসরের জেনারেল সিসি, তুরস্কের এরদোয়ান, ভেনেজুয়েলার মাদোরো, হাঙ্গেরীর ভিক্টর অরবান, ভারতের মুদি প্রভৃতি সরকারগুলোর উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে যে, এগুলো নির্বাচিত সরকার বটে কিন্তু শাসন পরিচালনায় উদারনৈতিক গণতন্ত্রের আদর্শ ও মূলনীতি থেকে সরে এসেছে এসব সরকারগুলো এবং এসব সরকারগুলো স্পষ্টত: কর্তৃত্ববাদের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে।
হার্ভাডের রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ইয়াসিকা মউঙ্ক তাঁর বিখ্যাত বই ‘দি পিপল ভার্সাস ডেমোক্রেসি’তে মন্তব্য করেছেন, সরকারগুলো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে গণতন্ত্রের ধারা থেকে সরে আসে এবং সংবাদ মাধ্যম, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, ধৈর্য্য, সিভিল লিভার্টিজ, জনমত ইত্যাদি বিষয়গুলো উপেক্ষা করে থাকে। এসব সরকারগুলো সংবাদ মাধ্যমগুলোর স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করে এবং এমনকী, সংবাদ মাধ্যমগুলোকে জনগণের শত্রু বলে আখ্যায়িত করে, যেমনটা সাবেক সোভিয়েত নেতা স্ট্যালিন বলেছিলেন। আর ইদানীংকালের অপরাপর কর্তৃত্ববাদী শাসকদের ন্যায় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সংবাদ মাধ্যমকে জনগণের শত্রু বলে অভিহিত করেছেন এবং বলতে গেলে তিনি মিডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এ ধরনের মন্তব্য এবং মিডিয়ার ওপর শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার প্রচেষ্টা অনুদার গণতন্ত্রের এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণ। অনবৎুংঃুিঃয টহরাবৎংরঃু ড়ভ ডবষবং এর আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রফেসর জেফ ব্রাইডক্স এর মতে, অনুদার গণতন্ত্র এবং অনুদার অটোক্রেসির উত্থান একবিংশ শতাব্দীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
উদারনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য গত দশক ছিলো মন্দকাল এবং এর থেকে উত্তরণের স্পষ্ট কোনো পথ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং গণতন্ত্রের ভগ্নদশাই স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমেই। তাই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউসের মতে, ‘গণতন্ত্র এখন সংকটে।’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্ট্রংম্যান শাসকের অভ্যুদয় হওয়ার কারণে উদারনৈতিক গণতন্ত্র বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এসব নেতৃত্ব বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের একক হাতে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করে বলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে পড়ে বলে উদারনৈতিক গণতন্ত্র অনুদার গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হয় এবং উদ্ভব হয় কর্তৃত্ববাদী একনায়ক শাসকের। হার্ভার্ডের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদ্বয় স্টিভেন লেভিসস্কি এবং ডানিয়েল জিভলাট-তাঁদের বিখ্যাত বই, ‘হাউ ডেমোক্রেসিস ডাই’-এ দেখিয়েছেন কি করে এ সকল শাসকরা ক্ষমতা নিজেদের হাতে কেন্দ্রীভূত করে থাকে। এরা চারটি কৌশল প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের একক হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে সর্বাত্মকবাদী শাসন কায়েম করে। এই চারটি কৌশল হলো, (১) জাতির নিকট গণতন্ত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো অঙ্গীকার করেনা। (২) এরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সহ্য করে না। (৩) এরা সংঘাত উসকে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করে। (৪) এরা সংবাদ মাধ্যম ও সিভিল লিবার্টিজের মতো বিষয়গুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকে।
উদার গণতন্ত্রে উদার রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো-যেমন : স্বাধীন বিচার বিভাগ, মুক্ত-স্বাধীন গণমাধ্যম ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের মতামত, ইচ্ছা-প্রত্যাশা প্রভৃতি প্রতিফলিত হয়ে থাকে। তাই অনুদার শাসকদের নিকট এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে। কেননা, এসব শাসকের সর্বাত্মক ক্ষমতা অর্জনের পথে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবন্ধক বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য কৌশল গ্রহণ করে অগণতান্ত্রিক শাসকেরা। এভাবেই অনুদার গণতন্ত্রের ভিত্তি ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করে এসব শাসকেরা। উদারনৈতিক গণতন্ত্রের বুকের ওপর আবার দু’ধরনের অনুদার গণতন্ত্রের চর্চা করতে দেখতে পাওয়া যায়। যেমন-অনুদার গণতন্ত্র বা মৌলিক অধিকার ব্যতীত অনুদার গণতন্ত্র এবং আনডেমোক্রেটিক লিবারেলিজম বা অধিকার ব্যতীত গণতন্ত্র। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় এ দুটি ধারার গণতন্ত্রের রাজনৈতিক লড়াই চলছে। এ ধরনের লড়াইয়ের ফলে উদার গণতন্ত্র এখন সংকটে পড়েছে। উদার গণতন্ত্রের রাষ্ট্রের সংখ্যা কমে আসছে। অথচ, গণতন্ত্র মানুষের অধিকার ও স্বকীয়তার স্বীকৃতি দেয় এবং গণতন্ত্রে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা স্বীকার করা হয়। রাজনৈতিক পন্ডিতরা তাই বলেন, ‘উইদাউট ডেমোক্রেসি দেয়ার আর নো রাইটস, উইদাউট রাইটস দেয়ার ইজ নো টলারেন্স, উইদাউট টলারেন্স দেয়ার ইজ নো জাস্টিস এন্ড উইদাউট জাস্টিস, দেয়ার ইজ নো হোপ।’
অথচ, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এটিই বাস্তবতা যে, গণতন্ত্র বিপন্ন। গত বছর পরিচালিত ইকোনোমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের ‘ডেমোক্রেটিস ইনডেক্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৬৭ দেশের অর্ধেক সংখ্যক দেশেই গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের অবনমন হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ১১.৪ শতাংশ দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে এবং এগুলোর মোট জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪.৫% শতাংশ। ৫৭টি দেশের গণতন্ত্রকে ‘ভঙ্গুর গণতন্ত্র’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৪.৮% শতাংশের বসতি হলো এসব দেশে। আমেরিকাকে এ তালিকায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, হাইব্রিড রেজিমজ ২৩.৪% এবং অথোরোটিয়ান রেজিমজ ৩১.১% বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এ সকল শাসনাধীন রাষ্ট্রে যথাক্রমে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৬.৭% শতাংশ এবং ৩৪% শতাংশ লোকসংখ্যার বসতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
‘মুক্ত মতামত আক্রমণের শিকার, ‘এ ধরনের সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে ২০১৭ সালের ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে। ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ০৫% শতাংশ মানুষের বসতি হলো প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসিত রাষ্ট্রসমূহে। আর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার তৃতীয়াংশের বসতি হলো কর্তৃত্ববাদী বা অগণতান্ত্রিক শাসনাধীন দেশগুলোতে। এ পরিসংখ্যান মতে ২০১৭ সালে বিশ্বের দেশগুলোতে গণতন্ত্রের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।
এদিকে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক ফ্রিডম হাউজ সতর্কতা দিয়ে বলেছে,-‘ডেমোক্রেসি ফেইসড ইটস মোস্ট সিরিয়াস ক্রাইসিস ইন ডিকেডসা।’ ফ্রিডম হাউজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ২০১৭ সালে বিশ্বের ৭১টি রাষ্ট্রে গণতন্ত্র অবনমিত হয়েছে এবং ৩৫টি রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের স্বাধীন মুক্ত রাষ্ট্রের সংখ্যা ৮৮, যেখানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৫% শতাংশ বা ২.৯ বিলিয়ন মানুষের বসতি। আর ৫৯ দেশ ফ্রি নয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এ সকল রাষ্ট্রে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫% শতাংশের বসতি রয়েছে। আংশিক ফ্রি রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে ৫৮টি রাষ্ট্র। এ সকল রাষ্ট্রে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১.৮ বিলিয়নের বসতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক অর্থে, গণতন্ত্র অর্থাৎ উদারনৈতিক গণতন্ত্রের দেশের সংখ্যা কমে আসছে। এর স্থলে অনুদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ১৯৩০ সালের পরে বর্তমানের ন্যায় গণতন্ত্র এমন বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে আর কখনো পড়েনি। গণতন্ত্রের বিপর্যয় মানে অগণতান্ত্রিক শাসন, কর্তৃত্ববাদী বা সর্বাত্মকবাদী শাসনের উদ্ভব। এ ধরনের শাসন পদ্ধতি জনগণের জন্য এবং এমনকী, বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হোক
  • সিলেটের ডাক
  • নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে
  • সিলেটের ডাকের শিশুমেলা
  • সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল : পরিবেশ-প্রতিবেশ
  • এরদোগানের শাসনে তুরস্কের ভবিষ্যৎ
  • বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নদী রÿার্থে করণীয়
  • পয়ত্রিশ বছরে সিলেটের ডাক
  • আমরা কি কেবল দর্শক হয়েই থাকব?
  • কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও আমাদের আইন
  • স্মার্টফোনে বন্দি জীবন
  • দৃষ্টিপাত নেশার নাম ড্যান্ডি!
  • আইনজীবী-সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম চৌধুরী
  • সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল কবে শেষ হবে?
  • রাস্তাটির সংস্কার চাই
  • প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি
  • শিক্ষা ব্যবস্থা
  • আবর্জনা সমস্যা : উৎপাদনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে
  • উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজন
  • সিটি নির্বাচন : কাকে ভোট দেব?
  • Developed by: Sparkle IT