উপ সম্পাদকীয়

শিশুর জন্য চার সুরক্ষা

সোহেল আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৮ ইং ০১:৩৫:২৫ | সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

একটি বৃক্ষকে সঠিকভাবে বেড়ে তুলতে যেমন বীজ বপন থেকে শুরু করে তার যতেœ সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হয়, ঠিক তেমনি একটি মানব শিশুকে গড়ে তুলতে এবং তার প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে তার প্রতি প্রকৃতি ও মনুষ্য সৃষ্ট যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখতে সর্বদা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হয়। তাকে শারীরিক মানসিক উভয় দিকে সুস্থ্য-সবল রাখতে বুদ্ধি ও সঠিক উপায়-উপকরণের জ্ঞান অন্বেষণ করতে হয়। জ্ঞান লাভ করতে হয় কাদা মাটির শিশুর মানসিক অবস্থা বুঝে পরিবেশ-পরিস্থিতির আলোকে গড়ে তুলার অনুসঙ্গ সম্পর্কে। যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা থেকে দূরে রেখে একজন মনোবিজ্ঞানীর ভূমিকায় তার মন-মনন বুঝে সঠিক সময়ে উপযুক্ত ঔষধ ব্যবহার করার জ্ঞানও অর্জন করতে হয়। একটি চারা গাছকে যেমন সুন্দরভাবে বেড়ে তুলতে তার উপযোগী সকল কাজ সুচারুরূপে সু-সম্পন্ন করতে হয়, ঠিক তেমনি শিশু সন্তানের বেলায়ও উপযুক্ত কাজগুলোর সূচারুরূপে সম্পাদন প্রয়োজন। যেসব শিশুদের আমরা এমনসব প্রতিকূল পরিস্থিতি উত্তরণে যোগ্য করতে সক্ষম হই, তারাই দেশ-জাতির যোগ্য হয়ে এক সময় কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে। আর যারা এসবের কোনটিই পায় না, তারা নিজে দুঃখ-দুর্দশার জীবন অতিবাহিতের পাশাপাশি সামাজিক নানা ব্যাধির উৎপাদক হয়ে সমাজে অশান্তির আগুন জ্বালায়। সঠিক সময়ে সঠিক ঔষধ ব্যবহার করতে না পারার কারণে জন্ম দানকারী মাতা-পিতাও সন্তানের এমন কুকর্মে অনুতপ্ত হন; ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে নিজেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।
মনে পড়ে ছোটবেলায় পড়া একটি ছড়ার কথা। ‘আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে, কাঁচা ইঁট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে। রোদে জলে টিকে রঙ পাকা কই তাহারে’। কাদা মাটিকে যেমন ফরমা বন্দি করে আগুনে পুড়িয়ে ইট বানানো হয়; সেই ইট রড, সিমেন্টের সংমিশ্রণে হাজার টন সহ্য উপযোগী ইমারত যেমন তৈরি করা হয়; তেমনি শিশু বেলায় সন্তানদের সুনাগরিক তৈরির অনুসঙ্গে অভ্যস্ত করে জীবনব্যাপী তা পরিচালনার ফরমাবন্দি করে তাতে মজবুতি দান করতে পারলে, তার দ্বারা পরিবার সমাজের পাশাপাশি রাষ্ট্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অর্জিত হয়। কেননা, শিশু যদি সে সময়ে মন্দ কোন অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যায় তাহলে জীবনব্যাপী এর প্রভাব থাকে। আচরণবাদের প্রবক্তা রাশিয়ান শরীর বিজ্ঞানী স্যার আইভান পেট্রোভিছ প্যাভলভ প্রাণীর আচরণ নিয়ে গবেষণার ফলাফলে বলেন, মানুষ বা প্রাণী যে আচরণে অভ্যস্ত হয়ে যাবে জীবনব্যাপী তাকে সে আচরণই তাড়া করবে। মানুষের জীবনের সর্বক্ষেত্রে এমন আচরণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। শিশুবেলা সঠিকভাবে হাত ধোয়া, ব্রাশ করানো, খাবার-দাবার, চলাফেরা ইত্যাদি শেখানো সব বিষয়ই পরবর্তী জীবনে তার আচরণ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আলোচিত এসব অভ্যাস তৈরিতে কাজ করতে হয় আমরা যারা শিশুদের অভিভাবক তাদের। দুঃখের বিষয়, আমরা অভিভাবকরা এসব বিষয়ে মনযোগী তো নয়-ই বরং তাদের ক্ষতি সাধনে ভাঙ্গার কাজে ব্যস্ত। উক্ত প্রবন্ধে তেমন কিছু বিষয় নিয়েই আলোচনা করার অভিপ্রায়।
প্রথমেই আসি ধূমপানের বিষয়ে। ধূমপান বিষপান তা সকলেই জানেন। ধূমপান মানে জেনে-শুনে বিষ পান তা প্রমাণিত। বিশ্বে ধূমপানে প্রতি সেকেন্ড একজন লোক মারা যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ লাখ লোক ধূমপান জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। মারা যায় মোট মৃত্যুর ১৬ ভাগ। এতো কিছুর পরেও সাময়িক কিছু উত্তেজনা ও সুখের আশায় আমরা ধূমপান ত্যাগ করতে পারি না। দেশে জনসংখ্যার ৫৫ ভাগ কোন না কোন ভাবে তামাক সেবনে অভ্যস্ত। ফলাফলে নিজেতো মরছিই, সাথে অন্যদেরও জীবন আয়ু কমিয়ে দিচ্ছি। পরিবারে বাবা-ভাই ধূমপান করেন। হাটে মাঠে সর্বত্র দেদারছে ধূমপান চলে। শিশু তা দেখে ধূমপান যে স্বাস্থ্যহানিকর, নিজের ও সমাজের ক্ষতির কারণ তা বুঝে উঠতে দু’টানার মধ্যে পড়তে হয়। নিরূপায় শিশু প্রতিবাদ করতে পারে না। তাকে কোলে নিয়ে ঘনিষ্ঠজনের ধূমপানে তার বলার কিছু থাকে না। এমন পরোক্ষ ধূমপান শিশুটির অপরিপক্ক তন্ত্রে রোগের সূচনা ঘটায়। তার বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার আর্থিক ক্ষতির সমু¥খীন হয়। অন্ধকার হয় শিশুর ভবিষ্যৎ। শিশুর ভবিষ্যৎ এমন অন্ধকার করার অধিকার কারো নেই। দেশে প্রতিনিয়ত পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে বহু মানুষ। তার মধ্যে শিশু অন্যতম। ধূমপানের আইন আছে প্রয়োগ নেই। সকাল থেকে রাত; শীত কিংবা গরম, স্থান কাল পাত্রের বিবেচনা না করে ধূমপান করা হয়। মাঠে ঘাটে যেন ধূমপানের প্রতিযোগীতা চলে। গ্রামাঞ্চলের কোন হাটে প্রবেশ করলে ধূমপায়ীর অতিষ্ঠতায় বেশিক্ষণ থাকা দায়। সংজ্ঞায়িত পাবলিক প্লেসে ধূমপান অপরাধ হলেও তা কেউ মানছে না। কোমলমতি শিশুদের সর্বনাশা এমন ধূমপানের ছোবল থেকে রক্ষা করতে চীরতরে ধূমপানের মূলোৎপাটনে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরী।
দুই. দ্বিতীয়ত যে বিষয়টির আলোচনা অতীব জরুরী, তা ‘শিশুর নিরাপদ পুষ্টিকর’ খাবার নিয়ে। আমরা খাবার খাই শক্তি ও দেহাঙ্গের সূচারূ পরিচালনা ও বৃদ্ধির জন্য। আর উক্ত উদ্দেশ্য সাধনে সঠিক সময়ে উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ প্রয়োজন। কিন্তু আমরা ইচ্ছে থাকলেও তেমন খাবার খেতে পারছি না। কারণ, দেশে খাবারে ভেজাল আছে কিনা তার পরীক্ষা না করে, বরং কোনটায় কত পরিমাণ ভেজাল আছে তা করাই শ্রেয়। তরি-তরকারি থেকে শুরু করে ভোজ্যপণ্য, এমনকি শিশুদের খাবারেও ভেজালের অস্বিত্ব মিলে। জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (আইপিএইচ)’র এক জরিপে বাচ্চাদের খাবার কেকে ৭০%, বিস্কুটে ৪৬%, চাটনিতে ৮৩% ভেজাল পাওয়া যায়। বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা)’র ঢাকার ২৯টি এলাকায় এক পরীক্ষায় আমে ৮২%, কলায় ৯১%,মালটায় ১০০%, আপেলে ৫৯%, আঙ্গুরে ৯৫%, খেজুরে ৭৭% ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। জরিপের এমন ফলাফল আমাদের আতঙ্কিত করে। যেখানে উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের দ্বারা দেহাঙ্গের সুচারূ বেড়ে তুলা জরুরী, সেখানে রীতিমত খাবারের সাথে নানা রোগের বীজ বুনে দেয়া হচ্ছে। সচেতন পিতা-মাতা দ্বিধাগ্রস্থ! সন্তানকে কী খাওয়াবেন, কেমনে খাওয়াবেন এ চিন্তায়? গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশর মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি দিন দিন হ্রাস পােেচ্ছ। মানুষের এমন বৃদ্ধি হ্রাসে ভেজাল, ফরমালিনের ভূমিকাই যে প্রধান তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই একটি শিশুকে সুস্থ সবল করে বেড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকা দরকার। তাকে দিতে হবে সুষম খাবার। মুখ রোচক বাজারের ফাষ্ট ফুডের উপর তার আসক্তি কমাতে হবে। তিন বেলার পাতে উপাদান সমৃদ্ধ সকল খাবার রাখতে হবে। তাকে শর্করা পেতে খাওয়াতে হবে চাল থেকে তৈরি খাবার। আমিষ পেতে খাওয়াতে হবে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল। ভিটামিন পেতে খাওয়াতে হবে ফলমূল ও রঙ্গিন শাকসবজি। ঠিক সেভাবে ¯েœহ পেতেও খাওয়াতে হবে পরিমাণ মতো তৈল জাতীয় খাবার। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে দৈনিক একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ২৭০ থেকে ৪৫০ গ্রাম শর্করা, ৪৮ গ্রাম আমিষ (মাঝারি সাইজের ১-৪ পিস মাছ বা মাংস,আধা কাপ ডাল), ১০০ গ্রাম শাক ও ২০০ গ্রাম সবজি খাওয়ার মাধ্যমে ভিটামিন এবং ২-৩ টেবিল চামচ তৈল খাওয়ার মাধ্যমে ¯েœহের প্রয়োজন। একটি শিশুর বেলায় এ সবই খাওয়াতে হবে বয়স অনুযায়ী সঠিক পরিমানে। বয়সভেদে পরিমান কম-বেশি করতে হবে। পানিও খাওয়াতে হবে পর্যাপ্ত পরিমানে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মতে দিনে একজন মানুষের ৪৩ মিলিলিটার পানি পান উচিৎ। সাথে সাথে উত্তম অভ্যাসাদীরও অনুশীলন করাতে হবে। শিশুদের খাবারের এতোসব অভ্যাসে অভ্যস্ত করার প্রধান ও একমাত্র দায়িত্ব পালনকারী হবেন তার পিতা-মাতা। বাবা পরিকল্পনানুযায়ী বাজার করে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন উপাদান সমৃদ্ধ খাবার (শাক, সবজি, মাছ, ডিম, দুধ, মাংস, ডাল) আনবেন এবং মা ঠিক তেমনি রুটিন অনুযায়ী রান্না করে সন্তানদের খাওয়াবেন। শিশুরা এমন উত্তম অভ্যাসে সারা জীবন যাপিত করবে। সুঠাম-সুচারূরূপে বেড়ে উঠবে। এক সময় তার অধিনস্থদেরও সে তাতে অভ্যস্ত করাবে। ধারাবাহিক প্রজন্ম পরস্পরা এমন অভ্যাসে অভ্যস্ত হবে। দেশের মানুষ সুস্থ সবল থাকবে; দেশ উন্নত হবে।
তিন. শিশু বড় হবার সাথে সাথে নানান বিষয়ে সে জ্ঞান লাভ করে। প্রথমে সামগ্রিক, পরে নির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়, বস্তু সম্পর্কে সে জানতে পারে। আমরা যেমন এক শিখেই এক’শো শিখিনি; যোগ, বিয়োগ না শিখে যেমন গুণ ভাগ শিখিনি, তেমনি একটি শিশু ধীরে ধীরে তার বয়স অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শিখবে এটাই স্বাভাবিক। অল্প বয়সে তাকে পড়া-লেখার জন্য প্রেসার দেয়া যাবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে বইয়ের বোঝা ও মুখস্ত বিদ্যা শিশুর শারীরিক মানসিক উভয়টির বিকাশে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, শিশুর ওজনের ১০ শতাংশের বেশি বইয়ের ওজন হবে না। আমাদের সে বিষয়ে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমরা তা মানছি না। শিশুদের পন্ডিত বানাতে আমরা ব্যস্ত। যেমন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা স্কুলগুলো শিশুদের চাপ দেয়, তেমনি আমরা অভিভাবকরাও এক ধাপ এগিয়ে থেকে শিশুকে কষ্ট দেই। শিশুকে এ-প্লাস পেয়ে ক্লাসে সর্বোচ্চ নাম্বারধারী হতেই হবে, এটা কেমন কথা! অভিভাবকরা যেমন জোর করে তাকে খাওয়াবেন, তেমনি জোর করে তাকে পড়াবেনও। প্লে-নার্সারীতে পড়–য়া এমন একটি শিশুকে কেন ক্লাসে সর্বোচ্চ নাম্বারধারী হতে হবে এটা বুঝে আসে না। এটা অসুস্থ এক সংস্কৃতি। শিশুকে ধারণ ক্ষমতার বেশি দিলে সে নেবে কেমনে? পড়ার এমন চাপে শিশুরা মানসিক বিকাশের নানা অনুষঙ্গের সাথে যুক্ত হতে পরে না। শিশু বয়সে এ সকল শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হলো, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়া ও সামাজিক হওয়ার জ্ঞান রপ্ত করা। তাকে তো এ সময়ে জজ, ব্যারিস্টার তৈরি উদ্দেশ্য নয়। পড়ালেখার বহু সময় তার সামনে পড়ে আছে। এখন মাত্র তার শুরু। অযথা চাপ দিয়ে পড়া লেখার প্রতি তার অনীহা সৃষ্টি করবেন না। তার ফাউন্ডেশন মজবুত করুন।
চার. এ পর্যায়ে আলোচিত বিষয় হলো শিশুর নানা মন্দ কাজের প্রতি আসক্তি নিয়ে। শিশুদের আসক্তি বলতেই স্বাভাবিকভাবে চলে আসে নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি আসক্তির কথা। বর্তমানে শিশুদের না খাইয়ে সারা দিন ডিভাইস চালানোর সুযোগ দিলে সে মা-বাবাকে কোন জ্বালাতন করবে না। দীর্ঘ দিনের এমন অভ্যস্ততায় এক সময় সে আনাড়ি, বদরাগী ও আসক্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আমাদের বুঝতে হবে, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়গুলো হলো ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি)। থ্রি-ডি মানে থ্রি-ডাইমেনশন। যা গভীরতা, উচ্চতা ও দৈর্ঘ্যরে সমন্বয়ে গঠিত। আর টিভি গেইমের বিষয়গুলো দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) অর্থাৎ- টু-ডাইমেনশন । শিশুরা টিভি ও গেইমে দেখা বিষয়গুলো বাস্তবে অনুশীলন করতে চায়। তখনই তারা সামঞ্জস্য না পেয়ে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দেয়। ঘটনা ঘটে গেলে তখন আর কোন নীতি বাক্য, ভালো-মন্দের জ্ঞান কর্ণকুহরে প্রবেশ করে না। উল্টা জেদ ধরে নানা আগ্রাসী ভূমিকায় সে অবতীর্ণ হয়। নিদ্রাহীন, ক্ষুধামন্দা ও বদরাগী করে তুলে তাকে। শারীরিক স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগায়। শরীরের পাশাপাশি তার মনও ভালো থাকে না। পড়া-লেখায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করে। সন্তানের এসব কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে পূর্বেই নিজে সতর্ক হওয়া। শিশু নতুন কিছু দেখলে আকৃষ্ট হয়। তাই শুরুতেই মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার, টিভির ব্যবহার সীমিত ও প্রয়োজনে তার থেকে দূরে রাখুন। এসব ক্ষেত্রে আবেগী হয়ে গর্বের সহিত সন্তানকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাথে বন্ধুত্ব গড়ার সুযোগ দেবেন না। নিজে বই পড়ার অভ্যাস করুন। সন্তান পড়তে শিখলে তার উপযোগী বই পড়তে উৎসাহিত করুন। তার আশে-পাশে বই রাখুন। অবসরে তাকে গল্প, ছড়া পড়ে শুনান। ছোটবেলায় তাকে সাহিত্যের অনুরাগী করে তুলতে পারেন। পত্রিকা পড়ার অভ্যাসও করাতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ টিভি না দেখিয়ে গঠনমূলক অনুষ্ঠান নিজে সঙ্গে থেকে দেখান। প্রয়োজনে এসব বিষয় নিয়ে তার ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে আলোচনা করুন। ছুটির দিনে কাছে বা দূরে কোথায়ও বেড়াতে নিয়ে যান। সর্বোপরি সন্তানকে ভালোর সঙ্গী বানাবেন, কালের উদ্ভাবনী কোন ডিভাইসের নয়। আশা করি সকলেই সেই পথে হাঁটবেন।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী
  • অধ্যাপক ডাক্তার এম.এ রকিব
  • শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা
  • প্রবীণদের প্রতি নবীনদের কর্তব্য
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • শরৎকাল
  • বাংলাদেশের সঠিক জনসংখ্যা কত?
  • বিশ্ব-বরেণ্যদের উপাখ্যান আতাউর রহমান
  • মিয়ানমারের একগুঁয়েমি ও মিথ্যাচার
  • Developed by: Sparkle IT