ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য তথ্য কোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৮ ইং ০১:৩৭:১৬ | সংবাদটি ৩৫ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
(তাং-সোমবার ২২ কার্তিক ১৪০৭ বাংলা ৬ নভেম্বর ২০০০ খ্রি./ দৈনিক গিরিদর্পণ, রাঙামাটি)।
পর্বতাঞ্চল নিয়ে সরকারের রাখ ঢাক বেদনাদায়ক। সন্তু বাবুদের হুমকি ধমকি এক টানা বর্ষিত হচ্ছে, তবু কর্তারা চুপ। এর কারণ কি এটাই যে, সন্তু বাবুরা জং জেহাদে ঝাপিয়ে পড়ে আবার দেশটাকে উৎসন্নে নিক্ষেপ করবেন সে ভয়। অথবা কারণ এটাই যে, চুক্তিতে মাত্রাতিরিক্ত ছাড় দেয়া হয়েছে, যা বাস্তবে মস্ত বড় ভুল, সুতরাং পিছু টান। প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করা ও যায় না, চুক্তি বাস্তবায়নটাও ঠেকান বিব্রতকর। এই উভয় সংকটে সরকার দোটানায় অস্থির। তাই কখনো চুপ, কখনো ক্ষীণ কণ্ঠে সরব। হ্যাঁ চুক্তি বাস্তবায়ন হবে, হচ্ছে এবং ৮০% বাস্তবায়ন তো হয়েই গেছে। এ সব দুর্বল অভিব্যক্তি। আসলে চুক্তি ও আইনে উপজাতীয় পক্ষ যে কোণঠাসা সে রহস্য উদঘাটনে তারা অক্ষম।
এ কথাও প্রকাশ্যে জোর গলায় বলে দেয়া উচিত : চুক্তিতে তত্ত্ব ও অথ্যগত অনেক ভুল হয়ে গেছে, যে জন্য উভয় পক্ষ দায়ী। এহেতু উভয় পক্ষকে পুনরায় সংশোধিত চুক্তিতে উপনীত হতে হবে। ভুলগুলো হচ্ছে :
ক) প্রশাসনিক ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো ইউনিট নয়। সুতরাং হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েল ও সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে, স্থানীয় শাসনের ক্ষমতায় আঞ্চলিক পরিষদ গঠন বেআইনি।
খ) বাংলাদেশ ইউনিটারী ষ্টেট। এটি রাজনৈতিক বিভাগ মুক্ত। আঞ্চলিকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দান বা স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা দান, যুক্তরাষ্ট্র বা ফেডারেল ব্যবস্থাধীন বিষয়। সুতরাং সংবিধানের ১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুসারেও আঞ্চলিক পরিষদ গঠন বে-আইনি। হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েল তিন পার্বত্য জেলার স্বীকৃতি নেই, সুতরাং জেলা পরিষদও আইনসঙ্গত নয়।
যেহেতু সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ও শান্তি কাম্য, তাই সরকার জনসংহতি সমিতি নেতৃবৃন্দের দাবীগুলোকে নমনীয় ভাবে বিবেচনা করেছেন এবং এটাও বিবেচনাধীন ছিলো যে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর বিদ্রোহী নেতৃবৃন্দ, বাস্তবতার আলোকে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন করবেন এবং তত্ব তথ্য ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে রাজী হবেন। সরকারের এই আশাবাদের পক্ষে যুক্তি হলো : চুক্তিকালে বিদ্রোহী পক্ষ তাদের পাঁচ দফা দাবি নামার প্রথম দফায় ব্যক্ত, সংবিধান সংশোধন পূর্বক আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদানের দাবিটি, হুবহু অর্জনের প্রতি অনড় ছিলেন না। কারণ তাদের জানা ছিলো : সংবিধান সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংসদীয় সংখ্যা গরিষ্ঠতা সরকারের নেই। সুতরাং এ দাবিতে অনড় থাকা মানে চুক্তি না হওয়া। তবু আঞ্চলিক পরিষদ গঠন একটি মুখরক্ষামূলক ব্যবস্থা। সম্ভাব্য রিট মামলায় সুপ্রীম কোর্টের দ্বারা বাতিল হওয়ার আগে, উভয় পক্ষকে আবার এই মুখ রক্ষার চুক্তিতে উপনীত হতে হবে যে, চুক্তি থেকে আঞ্চলিক পরিষদ ব্যবস্থা বাদ দেয়া হলো।
এ কথাও প্রকাশ্যে বলে ভুল স্বীকার করতে হবে যে, গোটা পার্বত্য এলাকা বিরোধীর অঞ্চল নয়। পার্বত্য জেলা পরিষদের এখতিয়ার জাতীয় অঞ্চলের উপর প্রযোজ্য নয়। এ হিসেবে ভূমি কমিশনের এখতিয়ার থেকেও জাতীয় এলাকা মুক্ত। জরিপের মাধ্যমে জাতীয আর পরিষদীয় এলাকার সীমা নির্ধারণ হওয়া ছাড়া ঢালাও বাঙ্গালখেদা আন্দোলন আর উপজাতীয় অধিকার প্রয়োগ বেআইনী। সুতরাং চুক্তি ও আইনে নি¤েœাক্ত সংশোধনী আনা প্রয়োজন।
ক) জরিপের মাধ্যম জাতীয় ও পরিষদীয় এলাকা নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট করা হবে। নির্দিষ্ট নিজস্ব এলাকা নিয়েই পরিষদ গঠিত ও পরিচালিত হবে। ভূমি কমিশনও তাতে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পরিষদীয় এলাকা নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক জেলা ইউনিট গঠিত হবে।
খ) সংবিধানের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলী যথাযথ পালিত হবে। জেলা পরিষদ আইনকে তার সাথে সামঞ্জস্যশীল করা হবে।
গ) জেলা পরিষদ বহির্ভুত জাতীয় অঞ্চল হবে, সার্বজনীন মুক্তাঞ্চল ও সর্বতঃভাবে উপজাতীয় হস্তক্ষেপ মুক্ত। তাতে কারো কোনো অগ্রাধিকার কোটা ও পদ সংরক্ষণ প্রযোজ্য হবে না। নির্বাচনে মনোনয়ন মান্য হবে।
ঘ) সাম্প্রদায়িক মিশ্র জনবসতি অক্ষুণœ থাকবে।
ঙ) জন প্রতিনিধিত্ব হবে বাধা হীন অবাধ ও সংরক্ষণ মুক্ত। অবাধ গণতন্ত্রই হবে চর্চনীয় ও ক্ষমতা লাভের মাধ্যম।
এ কথা অনস্বীকার্য্য যে, জনসংহতি সমিতি নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছেন। সর্বত্র চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন ও উৎপীড়ন চলছে। সন্তু বাবু চুক্তি বহির্ভুত বিষয় বাঙালি প্রত্যাহারের জেদ ও তাদের ভোটাধিকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রেখেছেন। এতে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা ও হিংসা পূর্ণ মনোবৃত্তিরই প্রকাশ ঘটছে।
গোটা পর্বতাঞ্চল উপজাতীয় জমিদারী নয়। এটি বাঙালির ও স্বদেশ ভূমি। এখানে উভয় জনগোষ্ঠী আছে ও থাকবে। কেউ কারো করুণার পাত্র বা অধীনস্থ প্রজা এ ধারণা ভুল। সন্তু বাবুদের উগ্র কথা বার্তায় কৌতুকই জাগে। এটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সুলক্ষণ নয়।
বাস্তবতাকে সন্তু বাবুরা অবহেলা করছেন। বাঙালিদের আরাকান ও আসাম থেকে বিতাড়ন সম্ভব হয়নি। স্বদেশের অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে তাদের বিতাড়ন করা যাবে, এ কথা কেবল অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি মাত্র আশা করতে পারে।
হিসাব অনুসারে পার্বত্য অঞ্চলের ৪৬৫২.৯৬ বর্গ মাইল এলাকা জাতীয় সম্পত্তি। তাতে বনায়ন, বসতি স্থাপন বন্দোবস্তি ও ইজারাদান শিল্প স্থাপন ইত্যাদি কাজে সরকারের অবাধ অধিকার বিদ্যমান। এতে কারো আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়। আপত্তিকারীদের তাতে কোনো ভূম্যাধিকারও নেই। এ কথাটি পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে বাধা নেই। তা না করাতে সন্দেহ হয় : সরকার সম্ভবতঃ নিজ ক্ষমতা ও অধিকার সম্বন্ধে গভীরভাবে সন্দিহান, অথবা পর্বতাঞ্চল ও চুক্তিসম্বন্ধে অজ্ঞ।
সরকার আগে পার্বত্য বিষয়াদি ও চুক্তি তলিয়ে দেখুন। চুক্তির সীমারেখা অধিকার ও ক্ষমতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হোন। সমস্যা সমাধানে অক্ষমতায় পার্বত্য বিষয়াদি কোল্ড ষ্টোরেজে চিরদিনের জন্য ভরে রাখা সমীচিন নয়।
সন্তু বাবু তো বলেই দিয়েছেন : পুরাতন কর্মসূচিতে ফিরে যাবেন। এই হুমকির পাশাপাশি সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ এই বিদ্রোহী ব্যক্তির পক্ষে বেমানান। তবু এই পদে তাকে রাখা ও গালি খাওয়া নিরেট তোয়াজ। সরকার এমন গো বেচারা, ভাবতে বিস্ময় লাগে। তাকে চুক্তির অর্থ বোঝান আবশ্যক।
[চলবে]

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম মিয়ারচর
  • বিভীষিকাময় একাত্তর শ্বাসরুদ্ধকর পাঁচঘণ্টা
  • সিলেটের প্রথম সংবাদপত্র এবং কবি প্যারীচরণ
  • সিলেটের প্রথম সাংবাদিক, প্রথম সংবাদপত্র
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • মুক্তিযোদ্ধা নজরুল এবং অন্যান্য
  • বানিয়াচং সাগরদিঘী
  • খুন ও ধর্ষণ করেছে চরমপন্থিরাও
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • গ্রামের নাম পুরন্দরপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • জামালপুর একটি সমৃদ্ধ জনপদ
  • জীবন নিয়ে খেলছেন এডলিন মালাকারা
  • সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • মৃৎশিল্পের চিরকালীন মহিমা
  • পাক মিলিটারির ৭ ঘণ্টা ইন্টারগেশন
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ঐতিহ্যবাহী গাজীর মোকাম
  • ইসলাম ও ইতিহাসে মুদ্রা ব্যবস্থা
  • Developed by: Sparkle IT