উপ সম্পাদকীয়

সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ঙ্কর রূপ

এ কিউ এম হাবিবুল্লাহ প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০১৮ ইং ০১:৩৭:৩৯ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা যেমন অনেক কিছু পেয়েছি তেমন হারিয়েছিও অনেক কিছু। যার কিছুটা ফিরে পেলেও একশভাগ পাওয়া কোনোদিনও সম্ভব হয়নি, আর হবেও না। দিনে দিনে আমাদের সংবাদ প্রাপ্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠছে এই সোশ্যাল মিডিয়া। বিশেষ করে ফেসবুক। কিন্তু আমরা ক’জনে জানি এই জগতে দিনে হাজার হাজার মিথ্যা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এখানে আমরা যেটাকে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ধরে নিয়েছি হতে পারে সেটাই একটি ভুয়া মাধ্যম। সেদিন দেখলাম দেশের একটি জনপ্রিয় পত্রিকার নামে একশটির উপর ভুয়া পেইজ আছে। এভাবে প্রত্যেকটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের নামে আরো বহু ভুয়া পেইজ রয়েছে সে সকল পেইজ দিয়ে আপনাকে আমাকে বিভ্রান্ত করানোর জন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট সংবাদ ছড়ানো হয়। আর আমরা বাঙালিরা একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। আমরা অনেক সময় সত্য-মিথ্যার বাছ-বিচার না করেই কোনো বিষয় নিয়ে এলাহি কা- করে ফেলি। হয়তো পরোক্ষণে বুঝতে পারি সংবাদটা ভুয়া ছিল, কিন্তু ততক্ষণে যে ক্ষতি হয়ে যায় তা অপূরণীয়। সমপ্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর আম খাওয়া নিয়ে যে কা-টি ঘটে গেল তা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। সেখানে কিন্তু উপ-উপাচার্য স্যার যে ভূমিকা নিয়েছিলেন তা মোটেও অযৌক্তিক ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের সামনে যে দু’জন শিক্ষার্থী আম পেড়ে বস্তাবন্দি করেছিল, তাদের একজন ছিল মানসিক সমস্যাগ্রস্ত এবং শুধু তাকেই পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কি জেনেছি? সম্পূর্ণ উল্টা এক চিত্র। তারপরে সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে, ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে নিয়ে যা হয়ে গেল তাও কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণেই।
এ ধরনের ঘটনা এই দুটিই নয়,এরকম আরো বহু ঘটনা ঘটেছে এইরকম মিথ্যা, বানোয়াট, ভুয়া সংবাদের কারণে। এইরকম অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানোর জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। সত্যতা যাচাই-বাছাই না করে কোনো স্পর্শকাতর বিষয় আমলে নেওয়া যাবে না, বিশ্বাস করা যাবে না, মন্তব্য করা যাবে না। একই সঙ্গে এই সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষকেও আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ গেল একদিকের কথা অন্যদিকে এই সোশ্যাল মিডিয়ার আরো অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে এই সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বিপথগামী হচ্ছে, মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে, পড়াশুনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, খেলাধুলা ছেড়ে দিয়ে দিনরাত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। এর ফলে বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এতশত নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এর ইতিবাচক দিককেও আমরা একেবারে অস্বীকার করতে পারি না। যেমন ধরুন, রাজন হত্যার বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেই জনমত গড়ে উঠেছে। সবশেষে বলব, খারাপ জিনিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্ব আমাদের হাতের মুঠোয় থাকবে। তরুণ প্রজন্ম আর বিপথগামী হবে না।
লেখক : শিক্ষার্থী।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নয়
  • আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রাণে
  • বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা
  • জনসচেতনতাই পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারে
  • এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর কথা
  • এই অপসংস্কৃতির অবসান হোক
  • সৈয়দ সুমন আহমদ
  • পানিশূন্য তিস্তা
  • বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারের গ্যাড়াকলে গ্রাহকরা : দায় কার?
  • পরিবহন ধর্মঘট এবং জনদুর্ভোগ
  • পানি সমস্যা সমাধানে নদী খনন জরুরি
  • শব্দসন্ত্রাস
  • মাধবপুর : যাতায়াত দুর্ভোগ
  •   তাফসীরুল কুরআন
  • ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর পুরস্কার নির্ধারিত
  • প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রাহ.) ও সাদাকায়ে জারিয়া
  • আল্লাহ নামের তুলনা নেই
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন
  • স্বীকৃতি, শোকরিয়া ও রাষ্ট্রের আদর্শ নাগরিক
  • ধর্মঘটের নামে মানুষকে জিম্মি করা মানবাধিকার পরিপন্থি
  • Developed by: Sparkle IT