সম্পাদকীয়

সড়কে ঝরলো ৫৫ প্রাণ

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০৬-২০১৮ ইং ০৩:০২:২১ | সংবাদটি ৪৫ বার পঠিত


ঈদের ছুটিতে ৫৫ জনের প্রাণ ঝরেছে সড়কে। ঈদের আগের বৃহস্পতিবার রাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনায় এদের প্রাণ যায়। এ সময় আহত হয়েছেন শতাধিক। এই পরিসংখ্যান কেবল ঈদের ছুটির দিনগুলোর। এছাড়াও প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে। আর প্রতিটি ঈদে বেড়ে যায় এই দুর্ঘটনার মাত্রা। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতি বছর শুধু বেড়েই চলেছে। মহাসড়কে তিন চাকার হালকা যান চলাচল বন্ধ করা সহ নানা উদ্যোগ নেয়ার পরও কমছেনা দুর্ঘটনার হার। দেখা গেছে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১৫ ভাগ।
দেশে প্রতি বছর গড়ে চার হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার লোক। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ২০ থেকে ২৫ গুণ বেশি। এশিয়ায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই হার দশ গুণ বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। গবেষকদের ধারণা, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী দুই দশকে দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই কেউ না কেউ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হবে। তাছাড়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত নেই, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যায় যথাযথ উদ্যোগ নিলে। কঠোর আইন প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্টরা সচেতন হলে এ ব্যাপারে সফলতা আসবে।
সারাদেশের ২৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক পথে চলাচল করে লাখ লাখ যানবাহন। এই সড়কপথে যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত তার অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমেই ধরা যায় চালকদের অসতর্কতা, অনভিজ্ঞতা। তারপরে রয়েছে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সিগন্যাল অমান্য করা, যান্ত্রিক ত্রুটি, অপর্যাপ্ত-অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, অতিরিক্ত যানবাহন, মাদকাসক্ত চালক, গাড়ির ফিটনেস না থাকা, ওভারটেকিং, চালকদের বিশ্রামের অভাব, ঘন কুয়াশা, ঝড় বৃষ্টি, ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি ইত্যাদি। দুর্ঘটনা রোধে চালকদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সেই সঙ্গে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের পাশাপাশি চালক, শ্রমিক, আরোহীসহ পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে। চালকদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা ও সড়ক ডাকাতি রোধে চালু করা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। কিন্তু তারা কাজের কাজ কিছ্ইু করছে না। উল্টো অনেক সময় তারা নিজেরাই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সড়কপথ নিরাপদ করতে হলে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে মালিক-চালকদের। বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে চালকদের অসতর্কতা ও অদক্ষতার জন্য। তাই বেশি সতর্ক করতে হবে চালকদের। ওভারটেকিং বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে চালকদের উদ্বুদ্ধ করতে কর্মসূচি রয়েছে বিআরটিএ’র। কিন্তু তারা সেটা করছে না। ভুয়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রণয়ন করতে হবে কঠোর আইন। যাতে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার বিধান থাকতে হবে। সর্বোপরি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় যতোগুলো মামলা হচ্ছে তার বিচার হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটির। আবার মামলার নিষ্পত্তি হলেও অপরাধীর তেমন কোনো সাজা হয় না। এই অবস্থার নিরসন করতে হবে খুব তাড়াতাড়ি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT