উপ সম্পাদকীয়

যাতনার অবসান হোক

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:১৫:৩৫ | সংবাদটি ৪৫ বার পঠিত

সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাচনটি একেবারে দোরগোড়ায়। দলীয় প্রার্থীরা যার যার মনোনয়ন লাভ করতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। আশা করবো যোগ্যতমরাই এই অতি গুরুত্বপূর্ণ নগরটির কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের জন্য লড়াই করবেন নির্বাচিত হওয়ার উদ্দেশ্যে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন আকারে, অবয়বে আর কর্মে বিরাটাকায়। মানুষ সকল নাগরিক সুবিধাও পেতে চায়। একটি সাবেক পৌরসভাকে সিটি বা নগর হিসাবে কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত করনে যে পরিশ্রম ও মেধার প্রয়োজন সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান মেয়র সাহেব দিবানিশি কাজ করেই যাচ্ছেন। নানামুখী উন্নয়ন ভাবনা তাঁর রয়েছে বলে মনে হয়। রাস্তায় বাতি জ্বালানো থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার জলাবদ্ধতা নিয়েও তিনি ভাবিত বলে মনে হয়। তিনি কাজ শুরু করেছেন নগরবাসির কল্যাণার্থে। সুরমা নদীর এপার-ওপার দু’দিকেই রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিধি। তাই অবস্থা আর বাস্তবতা বিবেচনায় প্রকল্প, পরিকল্পনা প্রভৃতি গ্রহণ করা হচ্ছে। জানিনা ফললাভ কতোটুকু হচ্ছে বা হবে। নগরবাসী কিন্তু যে একেবারে নাখোশ সেটি বলা যাবে না।
এতোকিছু আমাকে লিখতে হলো কয়েকদিন আগে ফুটপাতে বসা ফেরীওয়ালাদের সাথে সংঘটিত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটি বিবেচনায় নিয়ে। ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করণ এ মেয়র সাহেবকে যেতে হবে কেন! আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীরাইতো সেটি করবেন। অন্যদিকে হকাররাও মরিয়া। নানা খরচা দিয়ে নাকি তারা তাদের ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশন চাচ্ছে জনস্বার্থে ফুটপাত সমূহ অবৈধ দখলমুক্ত করতে অন্যদিকে হকারবৃন্দ চাচ্ছেন যে কোন মূল্যে নিজের ও পরিবার সদস্যদের মুখে দু’মুঠো অন্ন জোগাবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। হকারদের বোধহয় বিকল্পভাবনার জায়গা নাই। পথচারীদেরও দখলীকৃত ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নেমে আপন জীবন বিপন্ন না করে উপায় নাই। উভয় পক্ষই পড়েছেন বিপাকে। কে কার স্বার্থ ত্যাগ করবে আর কে কার জীবন রক্ষা করবে। অনতিবিলম্বে হকারবৃন্দকে বিকল্প এবং স্থায়ী ব্যবসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। ঢাকার বঙ্গবাজার বা গুলিস্তান হকার মার্কেট প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এ জাতীয় ব্যবস্থা করতে অপারগ কেন বুঝতে পারিনা। সিলেটে যে কথিত হকার মার্কেটটি রয়েছে সেটিকে বিস্তৃত ও বহুতল দালানে পরিণত করে ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা অতীব প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে এ সকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা একটি বিশেষ গোষ্ঠির (নি¤œবিত্ত) দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে থাকে। তারা নি¤œবিত্ত সীমিত আয়ের মানুষের ভরসাস্থল।
তারা আরো বেশি ক্রেতাবান্ধব হতে পারতেন যদি ঘাটে ঘাটে নজর নেওয়াজ দিয়ে রাস্তায় বসতে হতো না। বারবার পত্রপত্রিকায় দেখে থাকি বিভিন্ন ফাঁড়ি, লাইনম্যান, পাতিনেতা এমনকি গুন্ডাপান্ডাদেরও বখরা দিয়ে তারা নিজ ব্যবসা নির্বিঘœ করে থাকেন। এটি অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলার একটি বড় নজীর। অসহায় আর নিঃসম্বল হকাররা বসবেন রাস্তা বন্ধ করে এটি মানা যায় না আবার তারা কর্মহীন ও রোজগারবিহীন অবস্থায় নিরন্ন, অভুক্ত থাকবেন সেটাও মানা যায় না। অন্যদিকে অসহায়, নিঃসম্বল হকাররা আবার জুলুমের শিকার হবেন, চাঁদাবাজ, গুন্ডাপান্ডা বিভিন্ন ফাঁড়ির উর্দিধারীদের সেটাও মানা যায় না। আশা করবো সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন যন্ত্রের সহায়তায় একটি বিস্তারিত তদন্ত কমিটি গঠন করবেন বিষয়টি আনুপূর্বিক জানার এবং নিরসনের লক্ষ্যে। যারা রক্ষক তারাই আবার ভক্ষক। অন্যদিকে তারাই খাদক গরিব হকারদের উপর চড়াও হয়ে দন্তমুখ খিচিয়ে। নি¤œবিত্তদের কেনাকাটার আশ্রয়স্থল হকারদের উপর নির্যাতন আর শোষণের অবসান হবে এটি আমরা আশা করতে পারি। মাননীয় মেয়র সাহেব যে জনদরদী, নিঃস্বার্থ সেটা অবশ্যই স্বীকার্য। তিনি জানেন এই ভাসমান হকাররাই তার একনিষ্ঠ সমর্থক এবং ভোটদাতা কিন্তু সার্বিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করণে তিনি সচেষ্ট বলে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে। এখানে অবশ্য মাননীয় আদালতের নির্দেশ পালনও বুঝায়।
শুনতে পাই সিলেট মহানগরীকে হকারমুক্ত করণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে এদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে তিনি নানা জায়গায়, নানা মহলে নিরন্তর দেনদরবার করে চলেছেন। আশা করছি বর্তমান মেয়র সাহেবের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে ভাসমান হকারদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।
রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা, দরগাগেইট এলাকায় গড়ে উঠা অবৈধ গাড়ী স্ট্যান্ডগুলির ব্যাপারে এখনই ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানাতে চাই। ভাসমান হকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে না এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলি যেমন যানজটের কারণ ঘটাচ্ছে তেমনি দৃষ্টিকটুভাবে পথচারীদের চলাচলে বিঘœ ঘটাচ্ছে। এ ব্যাপারেও ভাবতে হবে। খেয়াল নজর প্রসারিত করলেই দেখা যাবে কিভাবে উল্লেখিত এলাকার ফুটপাতগুলি বিনষ্ট করা হয়েছে গাড়ী রাখা, মেরামত কার্য ও ধোয়াপাখনা সমাধা করতে গিয়ে। এ জাতীয় গাড়ীর জন্য আলাদা স্ট্যান্ড, যাত্রিভাড়ার হার নির্ধারণ আর যাত্রি পরিবহনে নিয়োজিত বাহনগুলির আলাদা চিহ্নিতকরণ কর্মগুলিও সমাধা করতে হবে।
রিকাবীবাজার-মীরের ময়দান সড়কটি দৃষ্টিনন্দন ও সুগম হয়েছে অবশ্যই। রাস্তাটির মাঝখানের বিদ্যুৎ খুঁটিগুলির সংযোগ সমূহ ভূতলে নেয়া যায় কিনা দেখা দরকার। এই রাস্তার পাশের ফুটপাতে কয়েকটি জায়গায় মেরামতের জন্য খোড়াখুঁড়ি করে আর সেটি পুনঃস্থাপন করা হয় নাই। দ্রুত সেটিও সারতে হবে। ব্লু-বার্ড স্কুলের সামনের সেতুটি উভয়দিকে প্রসারিত না করলে দুর্ঘটনার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। সড়কটি মদিনা মার্কেট ও সুবিদবাজার মোড় পর্যন্ত প্রসারণ কার্যক্রম আরও বেগবান করতে আহবান জানাই। ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি অত্র এলাকার কাউন্সিলার সাহেব যেন চরকীর মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকাটির রাস্তা, তৎসংলগ্ন এলাকার উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা নিয়ে। তিনি তার এলাকাবাসীর জন্য প্রবহমান খালটির দু’পাশে উদ্যান গড়ে তুলে পার্কসদৃশ্য মনোরম পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। তিনি তার মননশীলতা, সৃষ্টিশীল ভাবনা আর শ্রমকে নিয়োজিত করতে চান ওয়ার্ডবাসীদের জন্য সম্ভবত। না হলে এতো পরিশ্রম, দেনদরবার কেন করছেন বুঝতে পারিনা। মনে হয় শিক্ষা আর স্বচ্ছলতা তাকে গুণটি দিয়েছে। সৎ থেকে জনসেবার মতো দুরূহ কাজটি তিনি করছেন আমি আশা করবো তার কর্মপ্রচেষ্টা, জনকল্যাণকর পরিকল্পনা সমূহ মাননীয় মেয়র সাহেব হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হবেন।
শুনতে পাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনেক সহায় সম্পত্তি বেদখল অবস্থায় রয়েছে। সেগুলি উদ্ধার করে ব্যায়ামাগার, পাঠাগার এবং কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এখন সময়ের দাবি। মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় একটি বাড়ি এমনতরো অবস্থায় রয়েছে। জানিনা কোন দুর্নীতিবাজের যোগসাজসে সেটি বেদখল আছে কিনা। এলাকাবাসীর দাবী সত্ত্বর সেটি উদ্ধারপূর্বক এখানে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনে ব্যবস্থা নেয়া হোক। অনুরূপ আরও উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করার বাকি রয়েছে যা জনদাবীতে রূপান্তরীত হতে বাকি।
সিসিকের আওতা বহির্ভূত কিন্তু মাননীয় অর্থমন্ত্রীর আওতাভুক্ত একটি দাবী কায়মনোবাক্যে তুলে ধরতে চাই। সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসার বিলুপ্ত হাই মাদ্রাসা বিভাগটি চালু করা হোক অবিলম্বে। দক্ষিণ সুরমাবাসীর জন্য হাসপাতাল ও সরকারী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক অনতিবিলম্বে।
লেখক : অধ্যক্ষ, কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • শরৎকাল
  • বাংলাদেশের সঠিক জনসংখ্যা কত?
  • বিশ্ব-বরেণ্যদের উপাখ্যান আতাউর রহমান
  • মিয়ানমারের একগুঁয়েমি ও মিথ্যাচার
  • টেলিকমিউনিকেশন দৌড়ে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়লো
  • সড়কপথে শৃঙ্খলা কত দূর?
  • বৃক্ষসখা দ্বিজেন শর্মা
  • নারীদের জন্য নিরাপদ হোক গণপরিবহন
  • Developed by: Sparkle IT