সাহিত্য

‘খেলাফত ও সা¤্রাজ্যবাদ’ : পাঠউন্মোচন

সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:১৬:৪২ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

‘সাদিক’ মানে বন্ধু, ‘রাহমান’ মানে দয়ালু। সাদিকুর রাহমান মানে দয়ালুর বন্ধু। যিনি দয়ালুর বন্ধু তাঁকে কি আমরা বন্ধু না বানিয়ে থাকতে পারি। সাদিকুর রহমান আমারও বন্ধু। ১৩ মার্চ সে আমাকে দিয়েছে তাঁর লেখা ‘খেলাফত ও সা¤্রাজ্যবাদ’ বইখানা। সাদিক তাঁর নামের অংশের ভারতীয় উচ্চারণ ‘রহমান’ শব্দকে আরবীতে শুদ্ধ করেছে ‘রাহমান’ লিখে। কিন্তু ভারতীয় ‘খেলাফত’ শব্দকে আর আরবীতে শুদ্ধ করে ‘খিলাফত’ করেননি। সাধারণ কথা হলো প্রসিদ্ধ ভুল ক্ষেত্র বিশেষ শুদ্ধ বলে বিবেচিত। খিলাফতের ভুল উচ্চারণ খেলাফতও তেমনি একটি বিষয়। আলোচনাটা নাম দিয়ে শুরু করলাম। প্রচ্ছদ শিল্পী নাওয়াজ মারজানকে লেখক নিজেই ‘উৎসর্গ’ উপহার দিয়ে আমাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়ার কষ্ট থেকে মুক্ত করতে চেষ্টা করেছেন। তবে আমরা কৃপণ নয়, তাকেও ধন্যবাদ নামের সাথে মিলিয়ে একটি সুন্দর প্রচ্ছদ তৈরির জন্য। বইটি প্রকাশ করেছে আহরার পাবলিশার্স। এর স্বত্বাধিকারী রশীদ আহমদকে ধন্যবাদ।
কেমুসাস বইমেলা মার্চের ২০ তারিখ থেকে। সদস্যসচিব হিসেবে প্রচুর কাজ। বইটি আমাকে দেওয়ার পর বইমেলার আয়োজনের ফাঁকে হারিয়ে ফেলি। আমাকে সাদিক বললো, আপনিও আমার পাঠউন্মোচন অনুষ্ঠানে আলোচক। কিন্তু আমি বই পড়বো কখন। নিয়ত করলাম দু’তিন দিনে পড়ে নিবো। কিন্তু আবুযর রেদওয়ান দিলেন তাঁর বই হাতে উঠিয়ে, বললেন, আপনি মুখ্য আলোচক। নিজেকে খুব মূর্খ মনে হলো। অবশেষে সাদিকুর রহমানের বই রেখে পড়তে শুরু করি আবুযরের বই। বইমেলার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে বই পড়ি। অতঃপর সকালে লিখে একটা আলোচনা তৈরি করি। পরের দিন সাদিকুর রাহমানের বইয়ের আলোচনা করতে হবে। বাসায় ফিরে পড়তে বসি রাত ১২টায়। ৬৩ পৃষ্টার বই পড়া কি সহজ কথা? তাও আবার ‘খেলাফত ও সা¤্রাজ্যবাদ’-এর মতো কঠিন বিষয়। পড়তে শুরু করি। ভালো লাগে দু’কারণে,
১. সাদিককে আমি ভালোবাসি। বয়সে সে বেশ ছোট, তবু সে আমার বন্ধু। আমার ছোট কেউ যখন তাত্ত্বিক বই লেখার মতো যোগ্যতা অর্জন করে তখন প্রেমের টানে চোখে জল আসে।
২. খেলাফত এবং সা¤্রাজ্যবাদ দুটি বিষয়ই আমার পাঠের অংশ। এই দুই বিষয় নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি। তাই যখন বইটি পড়ছিলাম তখন নিজের মনের অনেক কথার সাথে মিলিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছিলাম।
সাদিকুর রাহমানের ‘খেলাফত ও সা¤্রাজ্যবাদ’ বইতে নামকরণে দুটি বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি আলোচনায়ও দুটি অধ্যায় আমরা দেখতে পাই, যদিও তিনি ঘোষণা দিয়ে অধ্যায়কে পৃথক করেননি। এখানে প্রথম অধ্যায় হলো, ‘বহুমাত্রিক সা¤্রাজ্যবাদ’, এ অধ্যায়ে বারোটি বিষয় রয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায় ‘খেলাফত’, এতে ২৭টি বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে। মোট এই উনচল্লিশটি বিষয়ে ভিন্নতা যেমন রয়েছে, তেমনি অধ্যায়গতভাবে অভিন্নতা অবশ্যই আছে। প্রথম অধ্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, ‘সা¤্রাজ্যবাদ পাঠের প্রয়োজন কেন?’ প্রশ্ন বিষয়ক শিরোনামের আলোচনা দিয়ে। এতে সাদিক স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা সা¤্রাজ্যবাদের সঠিক খবর জানিনা বলে ওরা আমাদেরকে অপ্রতিরোধ্য শাসন ও শোষণ করে যাচ্ছে। ওদের শাসন ও শোষণ থেকে বাঁচতে হলে ওদের গতি-প্রকৃতি জানতে হবে। সাদিকের দ্বিতীয় বিষয় ‘ সা¤্রাজ্যবাদের পরিচয়’। এই অংশ পাঠে স্পষ্ট হয়, সা¤্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের ভিন্নতা-অভিন্নতা। সাদিক অ্যাডওয়ার্ড সাইদ, প্রফেসর রিচার্ড কোবনার, হ্যালমুট ড্যান, জন ডে প্রমুখ তাত্ত্বিকদের সহযোগিতায় সহজ করে বলে দিয়েছেন, সা¤্রাজ্যবাদ হলো সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার তত্ত্বদর্শন এবং উপনিবেশবাদ হলো সেই দর্শনের দার্শনিক বাস্তবতা। তিনি আরও বলেছেন, সা¤্রাজ্যবাদিরা বিভিন্ন সময় এই শব্দের অর্থগত পরিবর্তন করে, তারা ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন করে, কিন্তু তাদের মৌলিক চরিত্র অভিন্ন। সাদিক এ বিষয়গুলো পৃথক করে ‘সা¤্রাজ্যবাদ : প্রাচীন ও মধ্যযুগ’ এবং ‘আধুনিক সা¤্রাজ্যবাদ’ শিরোনামে আলোচনা করলেও আমরা পাঠকালে দেখি সত্ত্বা একই। সা¤্রাজ্যবাদিরা বিভিন্ন মুখোশে তাদের কর্মতৎপরতা চালিয়ে আধিপত্য সৃষ্টি করে, সেই বিষয়টিও সাদিক আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। সাদিক তার আলোচনায় নৃ-তত্ত্বকে বলেছেন সা¤্রাজ্যবাদী শাসনের বৈধতা অর্জনের একটি মাধ্যম। কারণ, তা মানুষের আকার-আকৃতি, রঙ-গড়ন, প্রকৃতিতে বিভাজন সৃষ্টি করে। আমরাও স্বীকার করি বিজ্ঞানের উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি আছে অপকারিতাও। তা নির্ভর করে ব্যবহারকারির ব্যবহারের উপর। নৃ-তত্ত্ব বিজ্ঞান তেমনি একটি বিষয়। ‘বি-উপনিবেশায়ন’-এর অর্থ হলো, সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণ বঞ্চনা থেকে বেরিয়ে এসে আপন শক্তিতে আত্মপরিচয়ে বিকশিত হবার বা স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের প্রক্রিয়া। সাদিক তাঁর ‘বি-উপনিবেশায়ন’ শীর্ষক আলোচনায় এই অর্থের কথা উল্লেখ করে বৃটিশ উপনিবেশের স্থান ভিন্নতার মতো উপনিবেশ-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনেও যে স্থান বিশেষ ভিন্নতা ছিলো তা উল্লেখ করেন। ‘উত্তরাধুনিক সা¤্রাজ্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনায় বিশ্বায়ন, বিশ্ববাণিজ্য, মুক্তবাজার অর্থনীতি, সন্ত্রাসবিরোধী সংগ্রাম, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিকে সাদিক বলেছেন আধুনিকোত্তর সা¤্রাজ্যবাদের সৃষ্টি এবং এগুলো হলো উত্তরাধুনিক সা¤্রাজ্যবাদের উৎস। তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন, উত্তরাধুনিক সা¤্রাজ্যবাদে জাতিসংঘের আশির্বাদ রয়েছে। সাদিক ‘সা¤্রাজ্যবাদের চরিত্র’ শীর্ষক আলোচনায় বলেন, সা¤্রাজ্যবাদ অতিসূক্ষ্ম চরিত্রপূর্ণ। তিনি এই বৈশিষ্ট্যকে মেয়েলি চরিত্র বলেছেন, যা ধীরে বিকশিত হয়। ‘অর্থনৈতিক সা¤্রাজ্যবাদ’ শীর্ষক লেখা সাদিক শুরু করেছেন লেনিনের বক্তব্য দিয়ে। লেনিন বলেছিলেন, ‘অর্থনৈতিক সা¤্রাজ্যবাদ বা পুঁজিবাদ পৃথিবীকে ক্রমশ গ্রাস করছে।’ সাদিক তাঁর আলোচনায় বলেছেন, বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে সা¤্রাজ্যবাদীরা বাণিজ্যিক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে থাকে। বিশ্বব্যাংক, বিশ্ববাণিজ্যিক সংস্থাগুলো মূলত সা¤্রাজ্যবাদিদের স্বার্থে কাজ করে থাকে। ‘সাংস্কৃতিক সা¤্রাজ্যবাদ’ শীর্ষক লেখায় সাদিক পশ্চিমা সংস্কৃতির অনেক ভালো দিকের স্বীকার করেও বলেন, সংস্কৃতিতে পশ্চিমাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস সকল কালেই দেখা গেছে। সাদিকের সাথে আমরাও স্বীকার করি, সা¤্রাজ্যবাদিদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন একটি মারাত্মক বিষয়। ‘ভাষিয়ক সা¤্রাজ্যবাদ’ কথাটি শোনতে কেমন লাগে। কিন্তু সাদিক এই সা¤্রাজ্যবাদের কথাও স্বীকার করেছেন তাঁর বইতে। তবে সাদিক নিজেও রক্ষা পাননি এই সা¤্রাজ্যবাদীদের গ্রাস থেকে। তিনি তাঁর বইয়ে প্রচুর এমন ইংরেজি বই থেকে তথ্য নিয়ে যেগুলো মূলত আরবি। আর তিনি নিজেও একজন আরবি পড়–য়া মানুষ। ইচ্ছে করলে তিনি তথ্যগুলো মূল আরবী বই থেকে নিতে পারতেন। ‘মনস্তাত্ত্বিক সা¤্রাজ্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনায় সাদিক বলেন, সা¤্রাজ্যবাদের প্রভাবে তাবেদার শ্রেণির মনোজাগতিক পরিবর্তনটা এমনভাবে হয় যে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রকাশ-ভঙ্গি সবই সা¤্রাজ্যবাদ দ্বারা প্রভাবিত থাকে। তারা জন্মগত কিংবা বংশগত প্রাচ্যের মানুষ হয়েও অনুসরণ করে পাশ্চাত্যের মানুষকে। নিজস্ব বলে কিছ্ইু তাদের অবশিষ্ট্য থাকে না। নিজের মাতৃভাষা আর মাতৃভূমির প্রতি তাদের মনে এক প্রকারের ঘৃণা সৃষ্টি হয়। ‘সামরিক সা¤্রাজ্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনায় লেখক সাদিক বিভিন্ন দেশের যুদ্ধের পিছনের কারিগর সা¤্রাজ্যবাদি অস্ত্র ব্যবসায়িদের কথা উল্লেখ করেন। সা¤্রাজ্যবাদিরা সামরিক আধিপত্য সৃষ্টি করে রাখে তাদের ব্যবসার স্বার্থে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটের জন্য। সাদিকের সাথে আমরাও সহমত প্রকাশ করে বলতে চাই, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা, জাতিসংঘ, ন্যাটো ইত্যাদি সৃষ্টি করা হয়েছে সা¤্রাজ্যবাদিদের সা¤্রাজ্য বিস্তারে সহযোগিতার জন্য। সাধারণ মানুষের মুক্তি বা রক্ষার জন্য নয়।
সাদিক তার বইয়ে ‘শাসন, সুশাসন ও চার খলিফার খেলাফত’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেছেন চার খলিফা হযরত আবু বকর, ওমর, উসমান ও আলী (রা.)-দের শাসনামলের বিশ্লেষণ দিয়ে। তিনি বিশ্বাস করেন চার খলিফার রাষ্ট্রচিন্তা, দর্শন, তত্ত্ব, বৈশিষ্ট্য বিচারে খিলাফত ছিলো এক, শুধু মানুষ আর সময় ছিলো ভিন্ন। সাদিক এই অধ্যায়ের ‘খলিফা ও খেলাফত’ বিষয়ক আলোচনায় ইবনে খালদুন, ইমাম আল-গাযালী প্রমূখদের কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন, খিলাফতের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। তাদের মতে খিলাফত হলো ইসলামের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। কোরআন-সুন্নাহ মতো ইসলামি সরকার কিংবা রাষ্ট্র ব্যবস্থার নাম খিলাফত। আর খলিফা হলো খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধান। ‘নবীর পরে খলিফা হলেন নবির স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি। আধ্যাত্মিক দিকের খিলাফতির বিষয়টিও সাদিকের লেখায় স্থান পেয়েছে। তিনি এখানে হযরত আলী (রা.) খলিফা হযরত হাসান বসরি (র.)-কে দেখিয়ে বয়সের অংকে ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। আমি অনেক আধ্যাত্মিক লাইনের গুরুদের কাছ থেকে জেনেছি, হযরত হাসান বসরি (র.) হলেন ইমাম হোসাইন (র.)-এর খলিফা, হযরত আলী (র.)-এর নয়। আধ্যাত্মিক সনদ এভাবেই আসে অনেকের কাছে। সাদিক তাঁর বইতে ‘চার খলিফার ধারণা’, ‘চার খলিফার পরিচয় ও ধারাক্রম’ ইত্যাদি আলোচনার পর যথাক্রমে চার খলিফার সংক্ষীপ্ত জীবনবৃত্তান্ত আলোচনা করেন। অতঃপর তিনি আলোচনা করেন ‘চার খলিফার নির্বাচন পদ্ধতি’ নিয়ে। তিনি এই আলোচনায় গণতন্ত্রের নির্বাচন পদ্ধতির সাথে ইসলামের নির্বাচন পদ্ধতির ব্যবধান উল্লেখ করে বলেন, ‘খেলাফতে রাশেদায় নির্বাচন ছিলো এবং খুলাফায়ে রাশিদিনের আদলে রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠায় নির্বাচন জরুরী’। তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন, চার খলিফার প্রত্যেক ছিলেন নির্বাচিত প্রতিনিধি। স্বৈরাচারি পদ্ধতিতে তারা কেউ ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। ‘সমকালে শাসনের ধারণা’ শীর্ষক আলোচনায় সাদিক তাঁর মায়ের কাছ থেকে শোনা ‘ তোমাকে শাসন করতে হবে’ কথাটি দিয়ে শুরু করেন। অতঃপর তিনি শাসনে বিভিন্ন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেন। শাসন সরকারের বিকল্প না সরকারের সমার্থক? এই বিতর্কেও সাদিক জড়িয়ে বিভিন্ন দার্শনিকের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। তবে এখানে তিনি পাঠককে তাঁর নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানাননি। ‘সমকালে সুশাসনের ধারণা’ শীর্ষক আলোচনায় সাদিক ইউএনডিপি’র সুশাসনের ভিত্তিতে আলোচনাকে এগিয়ে এনে তাদের ২০০০৭ খ্রিস্টাব্দে তৈরিকৃত একটি সূচক উপস্থাপন করেন। এতে সুশাসনের নয়টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এই নয় বিষয়ের বাইরেও আরও সুশাসনের বিষয় রয়েছে, তা সাদিকও স্বীকার করেছেন। এরপর সাদিক ‘ ইসলামে শাসন ও সুশাসনের ধারণা’ শীর্ষক লেখায় লেখক বলেন, যে কোন সংগঠনের গঠন কাঠামো আর সংবিধানের উপর নির্ভর করে তার সুসংহত ও ব্যবস্থাপনা সুন্দর হওয়া। এতে তিনি শরিয়া আইনকে একটি প্রগতীশীল জীবন বিধান বলে উল্লেখ করে বলেন, শরিয়াহ হলো মুসলমানদের কর্মপদ্ধতির মানদ-। যার মাধ্যমে পরখ করা যায় ভালো, মন্দ, নৈতিক-অনৈতিক, বৈধÑঅবৈধ ইত্যাদি বিষয়াদি। অতপর তিনি ‘চার খলিফার খেলাফতে শাসন’ শীর্ষক আলোচনায় ‘ভূখ- ও জনসমষ্টি’, ‘আইন বিভাগ’, ‘বিচার বিভাগ’, নির্বাহী বিভাগ’, স্বরাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সমরনীতি, অর্থনীতি বিষয়ক আলোচনার পর ‘চার খলিফার খেলাফতের সুশাসন’ বিষয়ক আলোচনায় ‘অংশগ্রহণ’, ‘ন্যায়বিচার’, ‘আইনের শাসন ও সমান অধিকার’ ‘দায়িত্ববোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’, ‘সংবেদনশীলতা’ ইত্যাদি শিরোনামে বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন। শেষ কথায় এসে সাদিকুর রহমান বলেন, ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা হাজার বছর পরে বর্তমান দুনিয়ায় আবারও প্রয়োজন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT