উপ সম্পাদকীয়

তামাক : খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে বাধা

সাধন সরকার প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৬-২০১৮ ইং ০১:১৭:৩৬ | সংবাদটি ৬৭ বার পঠিত

তামাক চাষ পরিবেশ দূষণ, মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তায় ঝুঁকিসহ দেশের উন্নয়নের পথে বাধাস্বরূপ। দেশের পার্বত্য ও উত্তরাঞ্চলের জেলাসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় দেদার তামাক চাষ করা হচ্ছে। তামাকজাত দ্রব্য ও তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব সবাই কমবেশি জানে কিন্তু চাষাবাদকারী কৃষকসহ অধিকাংশ লোকই তা মানে না, নতুবা মানতে চাই না। মূলত দেশের সমতল জমিতে, পাহাড়ের সমতল ভূমি ও নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে তামাকের চাষ করা হচ্ছে। তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। পরবর্তীতে ঐ ফসলি জমিতে অন্য ফসলের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত্ম হয়। এভাবে ধীরে ধীরে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। তামাক চাষে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়াসহ তামাকচাষিদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়। একইভাবে তামাক পাতার ঝাঁজ শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান তথা তামাক সেবন করার কারণে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুসের ক্যান্সার পর্যন্ত্ম হতে পারে। তামাক সেবনের কারণে অগ্ন্যাশয়, কিডনি, স্বরনালি ও খাদ্যনালি ব্যাপকভবে ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়ে থাকে। এ ছাড়া তামাক সেবনে দেহে স্ট্রোক, যক্ষ্ণা, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, হৃদরোগসহ নানা রোগ বাসা বাঁধে। তামাক পরিশোধন ও অন্যান্য উপাদান মিলিয়ে তৈরি হয় সিগারেট। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, বড়লোকসহ শিক্ষিত শ্রেণি ধুমছে টানে ক্ষতিকর এই সিগারেট। অনেকে আবার সিগারেট খাওয়াকে স্টাইল বলে মনে করে! এক তথ্য মতে, ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক যেমন; জর্দা, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদি সেবনের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। প্রতি বছর ৩১ মে 'বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস' পালন করা হয়। বাংলাদেশেও প্রতি বছর নানা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন হয়ে থাকে। কিন্তু তামাকের চাষাবাদ ও ব্যবহার কমানো যাচ্ছে না কেন? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক তথ্য মতে, দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তামাক ব্যবহার করে। সার্বিক বিবেচনায় তামাকের উৎপাদন থেকে শুরম্ন করে ব্যবহার পর্যন্ত্ম হিসাব করলে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব বলে শেষ করা যাবে না। তবুও জেনে-শুনে ধনী-গরিব সবাই তামাক সেবন করেই যাচ্ছে। কেউ ছাড়ে, কেউ আবার ধরে। তামাকজাত পণ্যের মোড়কে চিত্রসহ সতর্কবাণী দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও অনেক কোম্পানি তা মানছেন না। তবে যায় বলা হোক না কেন, আইন করে তামাকজাত পণ্যের গায়ে সচিত্র সতর্কবাণী দিলেই তামাক সেবন বন্ধ হবে বলে মনে হয় না! সর্বশেষ 'ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০১৫' প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু তাতে কার কি যায় আসে! তামাকের উৎপাদন ও ব্যবহার চলছেই। সত্যি বলতে, আইন ও বিধিমালার কোনো প্রয়োগ নেই। তামাকের তৈরি ক্ষতিকর পণ্যের বিজ্ঞাপন রাস্ত্মার চারপাশে দেখা যায়। দুঃখের বিষয় হলো, তামাক শিল্পে অনেক শিশু শ্রমিকও কাজ করে। শিশুদেরকে তামাকের সাথে জড়িয়ে তাদের জীবনের সাথে রীতিমতো ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে! বিধিমালা বা আইন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাকজাত পণ্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু তামাক ব্যবসার সাথে জড়িত কোম্পানিগুলো কৌশলী হয়ে কাজ করছে! কৃষকদের অতি মুনাফা আর নানা প্রলোভন দেখাচ্ছে কোম্পানিগুলো। ফলে কৃষকরা শীতকালীন ও মৌসুমী ফসলের চাষ ছেড়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। এতে সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমি, সামগ্রিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের। তামাক চাষে প্রচুর রাসায়নিক সার ও বিষ ব্যবহার করা হয়। এতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে দেশে তামাকের উৎপাদন হচ্ছে অপরদিকে বিদেশ থেকে তামাক পণ্য আমদানিও করা হচ্ছে। এক কথায় বলা যায়, তামাক উৎপাদন ও আমদানিতে রাষ্ট্রের সম্মতি আছে। এভাবে কি তামাকমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব? সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ও স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য তরম্নণদের ধূমপানসহ ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা উচিত।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী
  • অধ্যাপক ডাক্তার এম.এ রকিব
  • শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা
  • প্রবীণদের প্রতি নবীনদের কর্তব্য
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • শরৎকাল
  • বাংলাদেশের সঠিক জনসংখ্যা কত?
  • বিশ্ব-বরেণ্যদের উপাখ্যান আতাউর রহমান
  • মিয়ানমারের একগুঁয়েমি ও মিথ্যাচার
  • Developed by: Sparkle IT