ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বানিয়াচং সাগরদিঘী

মো. দিলশাদ মিয়া প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৬-২০১৮ ইং ০৩:২৬:৩৫ | সংবাদটি ৬০০ বার পঠিত

অনেক দিন আগের কাহিনী। পনের শতকের শেষ ভাগে রাজা কল্যাণ সিংহের পুত্র রাজা পদ্মনাথ বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের এই বানিয়াচং। গাছপালা ঘেরা বিশাল গ্রাম বানিয়াচং এ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘী। আর সাগর দিঘীর রয়েছে এক রূপকথার কাহিনী। রাজা পদ্মনাথ সিংহ বিয়ে করেছিলেন তরফ অঞ্চলের রাজকুমারী কমলাবতীকে। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই রাণীর রূপে, গুণের প্রশংসায় প্রজারা মুগ্ধ। রাণীর ঘরে এক ফুটফুটে রাজ কুমারের জন্ম হওয়ার পরেই রাজ্যে পানির অভাব দেখা দেয়। আর ঠিক সেই সময়েই রাজা পদ্মনাথ পরপর তিন দিন স্বপ্নে দেখেন কে যেন রাজাকে বলে দেয় বড় একটি দিঘী খনন করলে রাজ্যের পানির অভাব দূর হয়ে যাবে। তিনি তার স্বপ্নের কথা প্রজাদের সাথে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে রাজা স্বপ্নের ব্যাখ্যা মোতাবেক বানিয়াচং এর মধ্যভাগে এক বিশাল দিঘী খননের আদেশ দেন। এরই মধ্যে রাজা পদ্মনাথ সিংহের ছোট বোন কেউকা রাজ্যে এসে কমলাবতীর প্রশংসা শুনে তা সহ্য করতে পারেননি। কারণ এটা সবাই জানেন যে, ‘ননদ-বউদির সম্পর্ক দা-কুমড়ার ন্যায়। এজন্যেই ‘কেউকা প্রজাদের অর্থের লোভ দেখিয়ে দিঘীর প্রথম কূপ কমলাবতীর নামে উঠাতে রাজি করায়।
কেউকার বিশ্বাস ছিল দিঘীর প্রথম কূপ রাণীর নামে দিলে রাণী অসুস্থ্য হয়ে মারা যাবে। দিঘী খনন শেষে তাতে পানি উঠছে না। তা দেখে রাজা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েন। তখনই রাজা আবার স্বপ্নে দেখেন কমলাবতী আত্মদান করলেই কেবল দিঘীতে পানি উঠবে। তখন এ স্বপ্নের বিবরণ শুনে কেও তা মেনে নেয়নি। তবে কমলাবতীর একমাত্র ঘনিষ্ঠতম শত্রু ‘কেউকা’ তাতে রাজি ছিল। কিন্তু প্রজাদের সুখের কথা চিন্তা করে রাণী নিজেই সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি দিঘীতে আত্মাহুতি দিবেন। একদিন রাণী সুসজ্জিত হয়ে দিঘীতে নেমে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। রাণী যতো সামনের দিকে যান পানি তত বাড়তে থাকে। এক সময় পানিতে তলিয়ে যান রাণী আর ভেসে ওঠেন না কখনও সাগরদিঘী হতে! সেই থেকে দিঘী আর শুকায়নি। তারপর হতে দিঘীর নামকরণ হয় কমলা রাণীর দিঘী নামে। কমলা রাণীর দিঘীর আয়তন প্রায় ১৩ একর। বিশালাকারের জন্য বর্তমানে এই দিঘী সাঘরদিঘী নামে পরিচিত। পল্লী কবি জসিম উদ্দিন বর্তমান সাগর দিঘীর পশ্চিম পাড়ে বসে কমলা রাণীর উপন্যাস রচনা করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অনেক পর্যটক বানিয়াচং এর সাগরদিঘী দেখতে আসেন। কিন্তু অনেক আগুন্তুক অনেক কষ্টে আসার কোন বসার স্থান নেই। গোসল করার জন্য কোনো ঘাটলা নেই। দিঘীর চর্তুদিক ঘুরে দেখার জন্য কোন রাস্তা নেই।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • মুদ্রায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা
  • হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা
  • প্রথম ছাপানো বই
  • বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের শিলপাটা
  • গ্রন্থাগার আন্দোলনের ইতিহাস ও মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রাচীন মালয় রাষ্ট্র ব্রুনাই
  • সিলেটের ঐতিহ্য সুরমা
  • সিলেট অঞ্চলের ইংরেজি সংবাদপত্র
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সেকালে সিলেটের কেনাকাটা
  • লোকসংস্কৃতি ও আমাদের সাহিত্য
  • শীতের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস
  • বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমান
  • নাটোরের জমিদার রানী ভবানী
  • ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সাহিত্য সাময়িকী নিশানা
  • জলসার একাল-সেকাল
  • স্তম্ভবিহীন মসজিদ
  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা
  • হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ
  • Developed by: Sparkle IT