সম্পাদকীয়

বাজার নিয়ন্ত্রণে চালু হলো প্রতিযোগিতা আইন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৬-২০১৮ ইং ০৩:২৭:০১ | সংবাদটি ১১৬ বার পঠিত

দ্রব্যমূল্য কারসাজি প্রতিরোধে প্রণয়ন করা হয়েছে প্রতিযোগিতা আইন। গঠিত হয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ হয়নি। অসাধু ব্যবসায়ীদের অপকৌশলের কারণে দীর্ঘ দিন আটকে ছিলো আইনটি। তাছাড়া বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেও কার্যকর হচ্ছে না এই আইন। অথচ সরকারের প্রত্যাশা ছিলো আইনটি কার্যকর হলে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। এছাড়া এই আইন কার্যকর হলে ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা বৃদ্ধি, পণ্যের প্রাপ্তিয়ের প্রসার, নতুন শিল্পোদ্যোক্তা গড়ে ওঠা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং মুক্ত বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবেন। ব্যবসায়ীদের একটা সিন্ডিকেট চক্র পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। পণ্যের অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির জন্যও তারা দায়ী। কিন্তু এতো কিছুর পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এতোদিন আইনী কোনো হাতিয়ার সরকারের কাছে ছিলো না। এই প্রেক্ষাপটে ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইনটি করা হয়।
মূলত ব্যবসা বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃত্বময় অবস্থানের অপব্যবহার রোধ, জোট বদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের জন্যই তৈরি করা হয় প্রতিযোগিতা আইন। এই আইনে রয়েছে ৪৬টি ধারা। এই আইনটি প্রণয়নের ফলে এই সংক্রান্ত অন্য একটি আইন (১৯৭০ সালে প্রণীত) রহিত করা হয়। নতুন এই আইনের ৫ ধারা মোতাবেক সরকার প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করে। এটি গঠিত হয় একজন চেয়ারপার্সন ও চার জন সদস্য সমন্বয়ে। এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষে বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতনকরণ, সম্পৃক্তকরণ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলা।
বাজারে চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সেটা হচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। যে যেভাবে পারছে বাড়াচ্ছে পণ্যমূল্য। নানা সময় নানা অজুহাতে বৃদ্ধি পায় পণ্যমূল্য। বাজারে পণ্যের সরবরাহ কম হলে দাম বাড়ে-অর্থনীতির এই সূত্রও এখানে কার্যকর নেই। ভরা মওসুমে বাজারে প্রচুর সরবরাহ আছে এমন পণ্যের দামও বাড়ানো হয় অনায়াসে। বহির্বিশ্বে দাম বেড়েছে এই অজুহাতে বাড়ানো হয় আমদানী নির্ভর অনেক পণ্যের দাম। কিন্তু বহির্বিশ্বে সেই পণ্যের দাম কমলেও কমানো হয় না আমাদের দেশে। অর্থাৎ পণ্যের দাম কোনো ভাবে বাড়ানো হলে সেটা আর কমে না।
[বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদার বাণিজ্য ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালায়। এই প্রবণতা চলতে থাকে সারা বছরই। এতে বাজারের সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ বিঘিœত হয়। বিঘিœত হয় ভোক্তাদের স্বার্থ। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-েও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছিলো প্রতিযোগিতা আইন প্রণয়নের ফলে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে।] পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রনেও এই আইনটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই আইনের কার্যকারিতা চোখে পড়ছে না। বাজার ব্যবস্থাপনাকে একটা শৃংখলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য প্রতিযোগিতা আইন কার্যকরসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে প্রতিযোগিতা কমিশন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT