সম্পাদকীয়

বদলে যাচ্ছে গ্রাম

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৬-২০১৮ ইং ০২:১২:৪১ | সংবাদটি ১০৪ বার পঠিত

বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবন, বদলে যাচ্ছে গ্রাম। সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটে গেছে। কৃষি, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ছে গ্রামীণ উদ্যোক্তা। এই প্রক্রিয়ায় পুরুষের পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছে নারীরাও। বাড়ছে স্বাবলম্বী নারীর সংখ্যা। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বদলে গেছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানও। গ্রামীণ জনপদে এককালের কুঁড়েঘর এখন আর চোখে পড়ে না খুব একটা। বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে বেশিরভাগ গ্রামেই। আগামী মাস কয়েকের মধ্যে শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এখন যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে আছে সৌর বিদ্যুৎ। তাই গ্রামের রাত এখন শহরের মতোই আলোকোজ্জ্বল। আর গ্রামের পাকাসড়কে চলছে যন্ত্রচালিত যানবাহন।
বাংলাদেশকে একটি ‘বৃহৎগ্রাম’ হিসেবেই অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আয়তনের ৯০ শতাংশ জুড়েই রয়েছে গ্রাম। জনসংখ্যার অন্তত ৭২ শতাংশ এখনও গ্রামে বসবাস করছে। গ্রাম ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক উন্নয়নে বিগত সবগুলো সরকারই কমবেশি ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও তা অব্যাহত রেখেছে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, গ্রোথ সেন্টার, হাট বাজার নির্মাণ, উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ ও পুনর্বাসন, মাটির রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ ও পুননির্মাণ, স্লইস গেইট নির্মাণ, খাল খননসহ গ্রামে নানা কর্মযজ্ঞ চলছে। সুপেয় পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য-শিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
জরিপের তথ্য হচ্ছে, ২০০৫ সালে গ্রামীণ অতিদরিদ্রের হার ছিলো ৪৩ দশমিক তিন শতাংশ, তা বর্তমানে ১২ দশমিক নয় শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতি বছর একদশমিক ৫৪ শতাংশ হারে কমছে অতিদরিদ্রের হার। এছাড়া, জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি, এর শর্ত পূরণের লক্ষে ২০৩০ সালে দারিদ্র্যের হার তিন শতাংশে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রামীণ অবহেলিত নারী সমাজের জীবনমান বর্তমানে উন্নত হয়েছে। কমছে নারী বেকারত্ব। দেশে নারী জনশক্তি প্রায় দুই কোটির মধ্যে ৭৭ শতাংশই গ্রামে বসবাস করছে। শিক্ষাদীক্ষায়ও এগিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ নারীরা। বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সড়কপথের উন্নতি হওয়ায় উপজেলা সদরসহ ছোটখাটো বাজার কিংবা সড়কের সংযোগস্থল পরিণত হয়েছে ‘মিনিশহরে’। মানুষকে বিভিন্ন ধরণের পণ্য কিনতে এখন আর জেলা শহরে যেতে হয় না।
বাংলাদেশ যেহেতু গ্রাম প্রধান একটি মাধ্যম আয়ের দেশ, তাই এখানে গ্রামের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না, এটাই স্বাভাবিক। সার্বিকভাবে গ্রামের উন্নতির জন্য অতীতে প্রতিটি সরকারের আমলেই কমবেশি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে বর্তমান গ্রাম ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে এই সাফল্যে তৃপ্ত হবার কিছুই নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটা বড় অংশ এখনও নানা ক্ষেত্রে রয়েছে অসচেতন। এখনও রয়েছে গ্রামে অনেক দুর্গম অনগ্রসর জনপদ। যাদের কাছে নাগরিক সুযোগ সুবিধার ছিটে ফোটাও পৌঁছেনি। সেই সঙ্গে আছে গ্রাম-শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য। রয়েছে দুর্নীতিবাজ-সুবিধাভোগী চক্রের অপতৎপরতা। যে কারণে গ্রামীণ জনগণের সার্বিক সমৃদ্ধির জন্য গৃহীত সকল উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হচ্ছে এখন সবচেয়ে জরুরী বিষয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT