ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৬-২০১৮ ইং ০২:২২:৫৮ | সংবাদটি ৬৬ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
বলা হয়েছেÑ ‘মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনি¤œ স্তর।’ অনুরূপভাবে আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে যদি মৌখিক স্বীকৃতি এবং আনুগত্য না থাকে, কুরআনের ভাষায় একেও কুফরী বলা হয়।
বলা হয়েছে ‘কাফেরগণ রাসুল (সা.) এবং তাঁর নবুওয়ের যথার্থতা সম্পর্কে এমন সুস্পষ্টভাবে জানে, যেমন জানে তাদের নিজ নিজ সন্তানদেরকে।’
এরশাদ হয়েছেÑ ‘অর্থাৎ, তারা আমার নিদর্শন বা আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, অথচ তাদের অন্তরে এর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। তাদের এ আচরণ কেবল অন্যায় ও অহঙ্কারপ্রসূত।
ঈমান ও ইসলামের ক্ষেত্র এক, কিন্তু আরম্ভ ও শেষের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থাৎ, ঈমান যেমন অন্তর থেকে আরম্ভ হয় এবং প্রকাশ্যে ‘আমলে পৌঁছে পূর্ণতা লাভ করে তদ্রুপ ইসলামও প্রকাশ্য’ আমল থেকে আরম্ভ হয় এবং অন্তরে পৌঁছে পূর্ণতা লাভ করে। অন্তরের বিশ্বাস প্রকাশ্য’ আমল পর্যন্ত না পৌঁছলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। অনুরূপভাবে প্রকাশ্য আনুগত্য ও তাবেদারী আন্তরিক বিশ্বাসে না পৌঁছালে গ্রহণযোগ্য হয় না। ইমাম গায্যালী এবং ইমাম সুরকীও এ মত পোষণ করেছেন।
অন্য আয়াতে মুত্তাকীদের এমন আরো কতিপয় গুণাবলীর বর্ণনা রয়েছে, যাতে ঈমান বিলগায়ব এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসের প্রসঙ্গটা আরো একটু বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন যে, রাসুল (সা.) এর যমানায় মুমিন ও মুত্তাকী শ্রেণির লোক বিদ্যমান ছিলেন, একশ্রেণি তাঁরা যাঁরা প্রথমে মুশরিক ছিলেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অন্য শ্রেণি হল যাঁরা প্রথমে আহলে-কিতাব ইহুদি-নাসারা ছিলেন এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এখানে পূর্ববর্তী আয়াতে প্রথম শ্রেণির বর্ণনা ছিল। আর অন্য আয়াতে দ্বিতীয় শ্রেণির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তাই এ আয়াতে কুরআনের প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বিশ্বাস করার কথাও বলা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনানুযায়ী এ দ্বিতীয় শ্রেণির লোকেরা যাঁরা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোন না কোন আসমানী কিতাবের অনুসারী ছিলেন, তাঁরা দ্বিগুণ পুণ্যের অধিকারী ছিলেন। প্রথমত : কুরআনের প্রতি ঈমান এবং ‘আমলের জন্য, দ্বিতীয়ত : পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার জন্য। তবে পার্থক্য এই যে, সেগুলো সম্পর্কে বিশ্বাসের বিষয় হবে এই যে, কুরআনের পূর্বে আল্লাহ তা’আলা যেসব কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, সেগুলো সত্য ও হক এবং সে যুগে এর উপর আমল করা ওয়াজিব ছিলো। আর এ যুুগে কুরআন অবতীর্ণ হবার পর যেহেতু অন্যান্য আসমানী কিতাবের হুকুম-আহকাম এবং পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহ মনসুখ হয়ে গেছে, তাই এখন আমল একমাত্র কুরআনের আদেশানুযায়ীই করতে হবে।
খতমে নবুওয়ত সম্পর্কিত একটি দলিল : এ আয়াতের বর্ণনা রীতিতে একটা মৌলিক বিষয়ের মীমাংসাও প্রসঙ্গক্রমে বলে দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই শেষ নবী এবং তাঁর নিকট প্রেরিত ওহীই শেষ ওহী। কেননা, কুরআনের পরে যদি আরো কোন আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো, তবে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর প্রতি যেভাবে ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে, পরবর্তী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনার কথাও একইভাবে বলা হতো; বরং এর প্রয়োজনই ছিল বেশি। কেননা, তাওরাত ও ইনজিলসহ বিভিন্ন আসমানী কিতাবের প্রতি ঈমান তো পূর্ব থেকেই বর্তমান ছিল এবং এগুলো সম্পর্কে কম-বেশি সবাই অবগতও ছিলো। তাই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরেও যদি ওহী ও নবুওয়তের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা আল্লাহর অভিপ্রায় হতো, তবে অবশ্যই পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ এবং নবী-রসুলগণের প্রতি ঈমান আনার বিষয়টির মতো পরবর্তী কিতাব ও নবী-রসুলের প্রতি ঈমান আনার বিষয়টিরও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন হতো, যাতে পরবর্তী লোকেরাও এ সম্পর্কে বিভ্রান্তির কবল থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
কিন্তু কুরআনের যেসব জায়গায় ঈমানের উল্লেখ আছে, সেখানেই পূর্ববর্তী নবীগণের এবং তাঁদের প্রতি প্রেরিত কিতাবসমূহেরও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কোথাও পরবর্তী কোনো কিতাবের উল্লেখ নেই। কুরআন মজীদে এ বিষয়ে অন্যূন পঞ্চাশটি স্থানে উল্লেখ রয়েছে। সর্বত্রই হযরতের (সা.) পূর্ববর্তী নবী ও ওহীর কথা বলা হলেও কোনো একটি আয়াতেও পরবর্তী কোনো ওহীর উল্লেখ তো দূরের কথা, কোনো ইশারা-ইঙ্গিতও দেখা যায় না।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT