সম্পাদকীয়

প্রাথমিকে সঙ্গীত শিক্ষক

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৬-২০১৮ ইং ০৪:০২:৪২ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত এবং ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। সঙ্গীত ও খেলাধূলার প্রতি শিশুদের আকৃষ্ট করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সঙ্গীতের মতো মননশীলতার চর্চা একজন মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়। সঙ্গীত মানুষের মনের খোরাক। মানুষের বিপর্যয়কর মানসিক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে পারে সঙ্গীতের সুর। বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষের দেহের অনেক রোগের প্রশমন ঘটাতে পারে সুন্দর সঙ্গীত। তাছাড়া সুর যে ভালোবাসেনা সে নাকি মানুষও খুন করতে পারে-এমনই একটা কথার প্রচলন রয়েছে। অর্থাৎ সঙ্গীত মানুষের কূবৃত্তিগুলো দূর করতে সক্ষম। সঙ্গীত মানুষকে অপরাধকর্ম থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। তেমনি খেলাধূলাও শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দেয় খেলাধূলা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত এবং ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগটি যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন বুদ্ধিজীবী মহল। ইতোপূর্বে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের অতিপ্রিয় জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধভাবে যাতে সবাই গাইতে পারে, এর চর্চা করতে পারে-তার ব্যবস্থা করা। বিদ্যালয়ে সঙ্গীত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হলে শিশুদের জাতীয় সঙ্গীত চর্চার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এ প্রসঙ্গে একটি কথা উল্লেখ করা জরুরী যে, আমাদের নতুন প্রজন্মের একটা অংশ দেশাত্মবোধ, স্বাধীনতার চেতনা ইত্যাদির ব্যাপারে একটা ‘ভ্রান্ত’ ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠছে। তাদের সামনে একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন-অর্থাৎ আমাদের অস্তিত্বের শেকড় প্রোথিত যেখানে, ইতিহাসের সেইসব স্বর্ণালী অধ্যায় সুস্পষ্টভাবে উন্মুক্ত করা হয়নি। অথচ আমাদের জাতীয় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল ঘটনাবলী প্রতিটি বাঙ্গালীর কাছে বুক ফুলিয়ে এগিয়ে চলার নিরন্তর প্রেরণা। এই প্রেরণায় কেউ উদ্বুদ্ধ হলে, সে নিখাদ দেশপ্রেমে বলীয়ান হবে, তার কর্ম-সাধনা সবই হবে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে।
শুধু জাতীয় সঙ্গীত নয় দেশাত্মবোধক যেকোন সঙ্গীতই মানুষের অন্তরে ধারণ করলে নিজের দেশের প্রতি অনুরাগই বাড়বে, বিরাগ নয়। অতীতে দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন পাঠদান শুরু হওয়ার আগে শরীর চর্চা এবং সেই সঙ্গে একযোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার রেওয়াজ ছিলো। এ ব্যাপারে সরকারী নির্দেশনা এখনও আছে। কিন্তু অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন আর সেই শরীর চর্চাও হয়না, গাওয়া হয় না জাতীয় সঙ্গীত। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় ঠিকই তবে তা সঠিকভাবে হয় না। এর কারণ হলো এ ব্যাপারে তাদের কোন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। সঙ্গীত ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ করা হলে যথাযথভাবে শরীরচর্চা ও খেলাধূলার পাশাপাশি অন্তত জাতীয় সঙ্গীত সঠিকভাবে চর্চা করতে পারবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT