সম্পাদকীয়

বাড়ছে মৎস্য উৎপাদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৭-২০১৮ ইং ০১:১৬:৪০ | সংবাদটি ৫৮ বার পঠিত

দেশে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে, এটা আজ আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ফসল উৎপাদন বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মৎস্য উৎপাদন। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’র পরিচয় এতোদিন হারিয়ে গিয়েছিলো। ইদানিং ফিরে আসতে শুরু করেছে সেই ঐতিহ্য। কারণ ইদানিং বাড়তে শুরু করেছে মাছের উৎপাদন। বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়ছে। সত্যি বলতে কি, দেশে মাছ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মিঠা পানির মাছ চাষে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত জলাশয়। আছে লাখ লাখ পুকুর-ডোবা। এগুলোতে রয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের বিপুল সম্ভাবনা। যা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের শীর্ষ মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে সারা বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে।
সরকারি হিসেবে দেশে জলাশয় রয়েছে ৫২ লাখ ৬১ হাজার হেক্টর। এছাড়া রয়েছে বিপুল পরিমাণ পুকুর-ডোবা। এইসব জলাশয় ও পুকুর-ডোবায় প্রতি বছর যে পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হয়, তাতে দেশের চাহিদা পূরণ হয় না। তাছাড়া, প্রতিনিয়ত মাছের অভয়ারণ্য সংকুচিত হচ্ছে। মাছের পরিকল্পিত চাষাবাদও হচ্ছে না। বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে মাছের বংশ বিস্তারের সুযোগ। জলাশয়গুলোও ভরাট করা হচ্ছে। আবাসন খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে পুকুর ডোবা-জলাশয়ের ভূমি। অনেক জলাশয় ডোবা ভরাট হচ্ছে পলি কিংবা ময়লা আবর্জনা জমাট হয়ে। অপর দিকে কৃষিজমিও তৈরি করা হচ্ছে ডোবা জলাশয় ভরাট করে। ফলে দিন দিন কমে আসছে মাছের উৎপাদন ক্ষেত্র। তারপরেও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও মৎস্য চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাড়ছে মাছের উৎপাদন।
সারা বিশ্বে মাছ উৎপাদনে প্রথম স্থানে রয়েছে চীন। এর পরই আছে ভারত ও মিয়ানমার। এর পরে অর্থাৎ চতুর্থস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মাছ চাষে বিশ্বের প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো দ্বিতীয়। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাছের অবদান ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে মিঠা পানির মাছ রপ্তানীর পরিমাণ বাড়ছে প্রতিদিন। গত দশ বছরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। জানা গেছে, উন্নত জাতের মাছের উদ্ভাবন ও তা সম্প্রসারণের ফলে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। তারপরেও চাহিদার তুলনায় মাছের ঘাটতি রয়েছে কয়েক লাখ টন। মৎস্য উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই ঘাটতি অচিরেই পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞগণ।
আমাদের দেশে যে মিঠাপানি রয়েছে, তা প্রকৃতির সেরা দান। এই সম্পদ বিশ্বের আর কোথাও নেই। একে কাজে লাগানো গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে নিঃসন্দেহে। বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। একটি দেশের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভব প্রজাতির মাছকেই বলা হয় দেশীয় প্রজাতির মাছ। বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই প্রায় সোয়াশ’ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেগুলো এখনও বিলুপ্ত হয়নি, সেগুলো যাতে রক্ষা করা যায় সেদিকেই নজর দিতে হবে। আর তাই এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাসহ জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT