সম্পাদকীয়

আসছে সিটি নির্বাচন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৭-২০১৮ ইং ০২:১৯:৪৪ | সংবাদটি ৯৪ বার পঠিত

পাঁচ বছর পর আবার সমাগত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর সপ্তাতিনেক পরেই অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ। এখন চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। অফিস-আদালত, মাঠ-ঘাট, দোকানপাট সবখানেই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে এখন সিটি নির্বাচন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন কর্তাব্যক্তিরা, গলদঘর্ম হচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী ও সমর্থক মিলিয়ে কয়েক হাজার কর্মী এখন মাঠে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩০-এ জুলাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন জনপ্রতিনিধিরা; যারা আগামী দিনের স্বপ্নের নগরী গঠনে জনগণের হয়ে কাজ করবেন। ইতোমধ্যেই ঘরোয়া সভা-সমিতির মাধ্যমে প্রার্থীগণ প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। খোলা হচ্ছে নির্বাচনী কার্যালয়। প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে পোস্টারিংসহ জোরেশোরে প্রচারণা।
স্থানীয় সরকারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের দ্বারা এই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইতোপূর্বে একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো অরাজনৈতিকভাবে। কিন্তু এখন এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় রাজনৈতিকভাবে, দলীয় প্রতীকে। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ হলেও কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীক ছাড়া অন্যান্য প্রতীক দিয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে এই কাউন্সিলর প্রার্থীও মনোনয়ন দেওয়া হয় দলীয়ভাবে। বলা যায়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এখন অনুষ্ঠিত হয় পুরোটাই রাজনৈতিক আবহে। তাই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের হাওয়া লাগে জাতীয় রাজনীতিতে। ফলে অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রার্থীদের জন্য দেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি। এর বরখেলাপ হলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা করছে নগরবাসী। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীগণ পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সহনশীল মনোভাব নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন এবং যে কোন সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে চলবেন এমনটাই আশা করছি আমরা। তাছাড়া, সিলেটের রাজনৈতিক কালচারে পারস্পরিক সহাবস্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। এর ধারাবাহিকতা যাতে ক্ষুন্ন না হয়, সেটা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের। একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নগরবাসী তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করবেন সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের-এটিই সবার চাওয়া।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT