সম্পাদকীয় সত্যকে নিজের করে লও, মিথ্যাকে পরিহার করো। -আল হাদিস

পাসপোর্ট সেবা সম্প্রসারণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৭-২০১৮ ইং ০১:১৬:১১ | সংবাদটি ১৩৩ বার পঠিত

দেশে আরও ১৬টি পাসপোর্ট অফিস নির্মিত হচ্ছে। পাসপোর্ট সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষে নেয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। এজন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেক। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে সুবিধাজনক স্থান থেকে উন্নতমানের পাসপোর্ট সেবা দেয়া সম্ভব হবে। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর। ইতোপূর্বে দেশের ৬৪টি জেলায়ই পাসপোর্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় বছর চারেক আগে গৃহীত প্রকল্পের লক্ষ ছিলো ৩২টি জেলায় নতুন করে পাসপোর্ট অফিস স্থাপন। অর্থাৎ ৩২টি জেলায় বর্তমানে পাসপোর্ট অফিস রয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতে এই ৩২টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের মাধ্যমেই সেবা দেয়া হচ্ছে।
পাসপোর্ট পাওয়া সবার অধিকার। এই ব্যাপারটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকগণ। আর তাই প্রতি জেলায় পাসপোর্ট অফিস স্থাপন করে পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজতর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ কি সহজে নির্বিঘেœ হাতে পাচ্ছে পাসপোর্ট? সত্যি বলতে কি, পাসপোর্ট তৈরীর পুরো প্রক্রিয়াটিই ভোগান্তির। দরখাস্ত জমা দেয়া থেকে শুরু করে ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ নেয়া, পুলিশ ভেরিফিকেশন, পাসপোর্ট ডেলিভারী সব পর্যায়েই হয়রানী করা হচ্ছে মানুষদের। প্রায় সব পাসপোর্ট অফিসেই অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালরা সংযুক্ত হয়ে হয়রানীর মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এরা বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছে এই বাণিজ্য। সরকার নির্ধারিত ফি-এর বাইরে বাড়তি টাকা না দিলে পাসপোর্ট তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। নতুন পাসপোর্ট তৈরি কিংবা পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন সবক্ষেত্রেই একই ভোগান্তি। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী এবং দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে পাসপোর্ট প্রার্থীদের সরকার নির্ধারিত ফি-এর দ্বিগুণ তিনগুণ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। পাসপোর্ট তৈরিতে সর্বোচ্চ হয়রানীর শিকার হতে হয় পুলিশ ভেরিফিকেশনে। ভেরিফিকেশনের নামে সীমাহীন হয়রানী করা হয় পাসপোর্ট প্রার্থীদের। নানা ফাঁদে ফেলে পাসপোর্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ঘুষ। আর ঘুষ না দিলে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আটকে দেয় পুলিশ এবং আটকে যায় পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াও।
পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে এই যে এতো ভোগান্তি, হয়রানী আর অর্থব্যয় এর অবসান হওয়া দরকার। যেহেতু পাসপোর্ট প্রাপ্তি সব নাগরিকের ন্যায্য অধিকার, তাই সেই অধিকার যাতে তারা সহজে ভোগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের। সব জেলায় পাসপোর্ট অফিস স্থাপন করলেই যে মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে, এমনটি আশা করা যায় না। এর জন্য দরকার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। নতুন অফিস স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোকে ঘুষ দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। বিদ্যমান অফিসগুলোতে যে দুর্নীতি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে তা ধংস করতে হবে। তাছাড়া, ইতোপূর্বে পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। কিন্তু চার বছরের বেশি সময় পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা চাই, সরকার এ ব্যাপারে ত্বরিৎ পদক্ষেপ নেবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT