উপ সম্পাদকীয়

মাদকের নেশায় সমাজ জীবনে বিপর্যয়

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৭-২০১৮ ইং ০১:১৮:৩৪ | সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে প্রকাশ দেশের সর্বত্রই মাদকের ছড়াছড়ি। উক্ত সংবাদে যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে (১) পুলিশ রাজনৈতিক নেতা কর্মী মাদক ব্যবসায় জড়িত। (২) মাদকের ভয়াবহ থাবায় ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ (৩) শহরাঞ্চলে থেকে অজ পাড়াগায়েও মাদকদ্রব্য আজ সহজলভ্য।
উল্লেখ করা আবশ্যক মাদকে আসক্ত হয়ে সন্তান খুন করছে মা-বাবাকে, পিতা খুন করছে সন্তানকে, স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে। এ জাতীয় সংবাদ আমরা প্রায় প্রতিদিনই পত্র পত্রিকায় পড়ে থাকি। মাদক আজকাল আর শুধু রাজধানী ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরে কেনা বেচা হয়না মাদক এখন গ্রাম গ্রামাঞ্চলের হাট বাজারেও বেচাকেনা হতে শুনা যায়, দেখা যায়। এসবের ক্রেতা যুব সমাজ। সীমান্তে আছে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি, দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী সামাজিক সংস্থা সেবকদল। কিন্তু আমার মনে হয় এসকল সংস্থার মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে জাতিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ ব্যর্থতার কারণ হিসাবে যদি সততা, আন্তরিকতা, দেশপ্রেম এবং স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন না করার কথা বলা হয় তাহলে মনে হয় ভুল বলা হবেনা। কারণ সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এমনকি বিভাগীয় উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মুখে মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স এর কথা আমরা শুনে থাকি হর হামেশাই। কিন্তু নিয়ন্ত্রনহীন মাদকের হিং¯্র থাবা এখন দেশজুড়ে সর্বত্রই সর্বগ্রাসী। ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব শ্রদ্ধাবোধ সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিনষ্ট করছে ¯েœহ, মায়া, ভালবাসা, পারিবারিক বন্ধন ।
নির্ভরযোগ্য তথ্যে জানা যায় বাংলাদেশে অবৈধ পথে মাদক আমদানীর ফলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশী মুদ্রা পাঠানো হচ্ছে। ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনেল পরিসংখ্যানে জানা যায় শুধু ভারত থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য দেশে আসে যার মধ্যে ফেনসিডিলই আসে ২২০ কোটি টাকারও বেশী। এসব মাদকের অর্থ যোগাড় করতে গিয়ে প্রায় ৬০ ভাগ মাদকাসক্ত নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।
জাতিসংঘের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৬৫ লক্ষ মানুষ মাদকাসক্ত যাদের বেশীর ভাগ মানুষ যুবক ও যুবতী। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মতে দেশে মাদকাসক্ত লোকের সংখ্যা ৫০ লক্ষের মত যাদের বেশীর ভাগই তরুণ-তরুণী।
ড্রাগের নেশা কেবল আত্মঘাতী নয়, সমাজ, দেশ, মনুষ্যত্ব সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী ডেকে আনছে বিপর্যয়। ব্যক্তিজীবনে যেমন ড্রাগ স্বাস্থ্য, সম্পদ, মানসম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি নষ্ট করে ব্যক্তিকে করে তোলে সমাজের ঘৃণা ও নিন্দার একশেষ তেমনি সমাজজীবনেও নেমে আসে অস্বাস্থ্য, অলসতা, অকর্মন্যতা এবং সামাজিক অপরাধের সীমাহীন নিষ্ঠুরতা। ধ্বসে যায় তার রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, চাকরি, সামাজিক মূল্যবোধের মত অমূল্য গুণগুলো। আজকের পৃথিবীতে এই ব্যাধি পরিব্যাপ্ত দেশ থেকে দেশান্তরে। এই নেশার উপর ভর করে একদল নেশার ব্যবসায়ী আজ মানুষ কর্তৃক মানুষ মারার নেশায় বুঁদ হয়ে ধ্বংস করতে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বজনীন মূল্যবোধ, প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভক্তি রসধারাকে সীমাহীন আত্মঘাতী নিষ্ঠুরতায়। নেশায় নেশায় বুঁদ এসব নেশার কারবারিরা আজ নেশায় বাণিজ্য সম্ভারে মেতে মানুষের মারণ নেশায় ড্রাগ পাচার এবং ড্রাগের অর্থে অস্ত্র হাতে বিশ্বকে করে তুলেছে সন্ত্রস্ত। তাই ড্রাগ কেবল ব্যক্তিজীবন নয়, সমাজ, সমষ্টি এবং বিশ্বজীবনেও ডেকে আনছে বিপর্যয়।
বিশ্বের প্রায় সবক’টি মহাদেশেই অবৈধ ড্রাগ উৎপাদিত হয় কিংবা ব্যবহৃত হয় যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশও এই বিষয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশে আফিম ও ভাং এর প্রচলন সুপ্রাচীন। বিগত তিন দশকে হেরোইন, এম্ফিটামিন, কোকেন এবং নানা ভেষজ ওষুধ রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে প্রবেশ করেছে যা অবৈধ ড্রাগের ভয়াবহতাকে আরও উষকে দিয়েছে। এক সময় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল অর্থাৎ মায়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ড কিংবা গোল্ডেন ক্রিসেন্ট অর্থাৎ আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তান থেকে অবৈধ ড্রাগ বাংলাদেশের মধ্য দিযে শুধু পাচার হতো কিন্তু আজ এই চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ এসব এ দেশেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে কর্মরত এক বেসরকারী সংস্থায় ২০১৪ এর এক প্রতিবেদনে জানা যায় বাংলাদেশে প্রায় ৫০ লক্ষ নেশাসক্তদের মধ্যে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের সংখ্যাই বেশী। ক্রমবর্ধমান এই সংখ্যাটি ক্রমশ শহরতলি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের ড্রাগ ও অপরাধ নিবারক সংস্থা যৌথভাবে অবৈধ ড্রাগ সেবন সংক্রান্ত বিষয় পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পেশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৮ বছরের কিশোরদের মধ্যে অ্যালকোহল ২১.৪ শতাংশ, ভাং ৩ শতাংশ, আফিম ০.৭ শতাংশ এবং অন্যান্য অবৈধ ড্রাগ ৩.৬ শতাংশ সেবনের প্রবণতা দেখা গেছে। অবৈধ ড্রাগ সেবনের এই প্রবণতা সারা দেশে এক রকম নয়। যেমন উত্তরবঙ্গে যা বেশী চলে দক্ষিণে কম আবার পূর্বে যা বেশী পশ্চিমে তা কম। তবে ফেনসিডিলের ব্যবহার দেশের সর্বত্রই বিদ্যমান।
বাংলাদেশে নেশা করার আরেকটি ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। কিন্তু ব্যথা কমানোর ওষুধ, কোডেইন দিয়ে তৈরি কফ সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিনিক এক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। নেশা করার একটি ভয়াবহ মাধ্যম হচ্ছে ইঞ্জেকশন। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে এ-বিষয়ে কিছু আলোকপাত করা হয়েছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হেরোইন, বুপ্রেনরফিন এবং প্রোপক্সিফেন এর মিশ্রণ ইঞ্জেকশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তা ছাড়া, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রোক্সিভন নামক ওষুধও ইঞ্জেকশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একটি ইঞ্জেকশনের বহু ব্যবহারের ফলে নেশাসক্তদের মধ্যে এইচআইভি-এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রচন্ড বেড়ে যায়। বর্তমানে ইয়াবার প্রচলন জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায় ইদানিং যুবতীরাও মাদকাসক্ত হয়ে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে।
নেশা মানুষের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত করে তোলে। মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবন রোগীর মানসিক অবসাদ ঘটায় এবং হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি-এইডস ও যক্ষ্মার মতো ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই নেশাবিরোধী অভিযান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচিতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সুতরাং ঘন ঘন রোগে আক্রান্ত হওয়া কিংবা মারা যাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই দেশের প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, নেশাবিরোধী অভিযান সরকারি অর্থের সুরক্ষা করতে পারে।
২০১২ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ লক্ষ লোক হিরোইন, ভাং ও কোকেনের নেশাগ্রস্ততার কারণে চিকিৎসাধীন এবং এতে বছরে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হচ্ছে। কিন্তু সব জায়গায় এই চিকিৎসার সুযোগ সমভাবে উপলব্ধ নয়। আফ্রিকাতে প্রতি ১৮ জন নেশাসক্ত লোকের মধ্যে ১ জন চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। আবার লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপে প্রতি ১১ জন লোকের মধ্যে ১ জন চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্বের প্রতিটি ড্রাগ আসক্ত লোক যদি চিকিৎসার সুযোগ পেতেন তবে ২০১২ সালেই এই খরচের পরিমাণ হতো ২০০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০১২ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ১৫ থেকে ৬৪ বছরের লোকদের মধ্যে ড্রাগজনিত কারণে মৃত্যুর হার ০.৫ থেকে ১.৩ শতাংশ। ইউরোপে এই মৃত্যুর গড়পড়তা বয়স ৩০ বছর। ইঞ্জেকশন নিয়ে যারা নেশা করে এমন ১৪০ লক্ষ লোকের মধ্যে ১৬ লক্ষ লোক এইচআইভি, ৭২ লক্ষ হেপাটাইটিস সি ও ১২ লক্ষ লোক হেপাটাইটিস বি-তে ভুগছে। একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ড্রাগজনিত কারণে অসুস্থতার মাত্রা ক্রমশ বেড়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। মৃত্যুর কারণের ক্রমানুসারে তামাক দ্বিতীয়, অ্যালকোহল তৃতীয় এবং অবৈধ ড্রাগ সেবন ১৯ তম স্থানে রয়েছে। ১৫ থেকে ৫০ বছরের লোকদের মৃত্যুর কারণে ড্রাগ সেবন ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
নেশাগ্রস্ত লোকেরা যে শুধু নিজের ক্ষতি করে এমন নয়, পারিপার্শ্বিক মানুষের নিরাপত্তাও সঙ্কটাপূর্ণ করে তোলে। নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালালে পথ দুর্ঘটনায় চালকের যেমন ক্ষতি হয় পথযাত্রীদের সমান খেসারত দিতে হয়। গবেষণায় জানা গেছে, ভাং খেয়ে গাড়ি চালালে পথ দুর্ঘটনার সম্ভাবনা ৯.৫ গুণ এবং কোকেন ও ব্যাঞ্জোডায়াজিপাইনের ক্ষেত্রে ২ থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। এম্ফিটামিন ড্রাগে এই সম্ভাবনা ৫ থেকে ৩০ গুণ এবং মদের সঙ্গে অন্য ড্রাগ মিশিয়ে খেলে ২০ থেকে ২০০ গুণ বৃদ্ধি পায়।
আফিম ও ভাং এর অবৈধ চাষের ফলে ব্যাপকভাবে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে এর জলজ্যান্ত উদাহরণ বলিভিয়া, কলম্বিয়া ও পেরু। এই অবৈধ চাষ একদিকে বনভূমি ধ্বংস করছে অন্যদিকে চাষযোগ্য জমির পরিমাণও কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবৈধ চাষ জমি ও পারিপার্শিক পানিকে দূষিত করে বন্যপ্রাণী ও মানুষের জীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
অবৈধ ড্রাগের তিনটি যোগসূত্র রয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ড্রাগ সেবনই অপরাধ সংঘটিত হয়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোমানিকা সেন্ট কিটস ও নেভিস এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রিনাডিন এর ৫৫ শতাংশ অপরাধীরা অপরাধের সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে টাকার উন্মাদনার জন্যই অপরাধ সংঘটিত হয়। এই টাকার মাধ্যমে তারা তাদের প্রয়োজনীয় ড্রাগের চাহিদার জোগান দেয়। আমেরিকার ১৭ শতাংশ কয়েদি শুধুমাত্র টাকার জন্য অপরাধ সংঘটিত করেছে। ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রতারণা এবং ডাকাতিতে প্রত্যেক বছর ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তৃতীয় ক্ষেত্রে অবৈধ ড্রাগ বাণিজ্যের এলাকা নির্ধারণ অথবা কেনাবেচার সময় সৃষ্ট সমস্যার সুরাহা করতে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হয়। বিগত দশবছর ধরে লাতিন আমেরিকায় বিশেষ করে গুয়াতেমালা ও মেক্সিকোতে এই ঘটনা খুবই সাধারণ। অষ্ট্রেলিয়ার ড্রাগ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমেরিকাতে এর মূল্য প্রায় ৬১ বিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কর্মীগণ ড্রাগের অধীন হলে অথবা চিকিৎসাধীন হলে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা যথেষ্ট হ্রাস পায়। ২০১১ সালে আমেরিকায় মাদকাসক্ত শ্রমিকদের কাজে যোগদান না-করার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ জিডিপি-র ০.৯ শতাংশ যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঠিক তেমনি অষ্ট্রেলিয়া ও কানাডাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে জিডিপি-র ০.৩ শতাংশ ও ০.৪ শতাংশ। চিকিৎসাধীন হলে কিংবা জেলে থাকলে শ্রমিক বা কর্মচারীরা কাজে যোগদান করতে পারে না। ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ড এবং ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী অবৈধ ড্রাগ পাচারকারীরা সরকারের দুর্বল প্রশাসনিক স্তরে আঘাত করে তাদের এই অবৈধ বাণিজ্য বেপরোয়াভাবে চালায়। ফলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। ড্রাগ পাচারকারীরা অর্থনৈতিক দুর্নীতির মাধ্যমে প্রশাসনকে পঙ্গু করে তোলে এবং তাদের অবাধ বাণিজ্য চালায়।
সুষ্ঠুভাবে বাচার স্বার্থে আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুস্থ, সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রত্যাশায় বিশ্ব বরেণ্য গায়ক মাইকেল জ্যাকসনের সুরে আমরাও বলি ‘‘ঐধরষ ঃযব ড়িৎষফ ধহফ সধশব রঃ নবঃঃবৎ ঢ়ষধপব ঃড় ষরাব রহ’’ অর্থাৎ রিক্তশ্রী পৃথিবীতে শুভ বুদ্ধির জয় হোক।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হোক
  • সিলেটের ডাক
  • নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে
  • সিলেটের ডাকের শিশুমেলা
  • সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল : পরিবেশ-প্রতিবেশ
  • এরদোগানের শাসনে তুরস্কের ভবিষ্যৎ
  • বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নদী রÿার্থে করণীয়
  • পয়ত্রিশ বছরে সিলেটের ডাক
  • আমরা কি কেবল দর্শক হয়েই থাকব?
  • কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও আমাদের আইন
  • স্মার্টফোনে বন্দি জীবন
  • দৃষ্টিপাত নেশার নাম ড্যান্ডি!
  • আইনজীবী-সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম চৌধুরী
  • সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল কবে শেষ হবে?
  • রাস্তাটির সংস্কার চাই
  • প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি
  • শিক্ষা ব্যবস্থা
  • আবর্জনা সমস্যা : উৎপাদনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে
  • উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজন
  • সিটি নির্বাচন : কাকে ভোট দেব?
  • Developed by: Sparkle IT