ধর্ম ও জীবন

মন্দ প্রবণতা বৃদ্ধির রহস্য

আখতার হোসাইন প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৭-২০১৮ ইং ০১:২৬:২৮ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

অন্যায়-অনাচার, যুলুম-নির্যাতন, হিংসা-বিদ্ধেষ, ছিনতাই-রাহাজানি, হত্যা-সন্ত্রাস, উঁচু-নীচু, কালো-সাদা, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, শোষণ-বঞ্ছনা, আর সর্বপ্রকার মন্দ প্রবণতার গ্লাণিতে সারা পৃথিবীটা আজ ছেয়ে গেছে । শিক্ষা মানব জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নয়; বরং লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার একটি মাধ্যম মাত্র। শিক্ষা অর্জন করে তথ্য সমৃদ্ধ হওয়া এক জিনিষ আর তার অনুসরণ করে জ্ঞানী হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস।
এম.বি.সি জাকারিস অভিযোগ করে বলেন, তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বস্তুগত প্রাপ্তির উদগ্র আকাংখা ছাড়া মহত্তর কোনো আদর্শে উদ্ধুদ্ধ করে না। বর্তমান প্রচলিত আদর্শ, ধর্ম বা নৈতিকতা বিহীন শিক্ষার ফল সম্পর্কে শিক্ষাবিদ স্টেনলি হোল হুশিয়ার করে বলেন, লেখাপড়া আর যোগ-বিয়োগের যোগ্যতার সাথে ধর্মশিক্ষা না দিলে মানুষরূপী বর্বরই পাওয়া যাবে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ধর্ষণের সেঞ্চুরি পালন তার জলন্ত সাক্ষী।
ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ বলেন, লেজ ও শিংবিহীন পশুকে মানুষ করা শিক্ষকের কাজ। আর ধর্মের নীয়ম-নীতি এ কাজকে সহজ করে দেয়। (মুসলিম জ্ঞান ভান্ডার, পৃষ্টা নং-২২৪)
হযরত মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার মসনবী শরীফে লিখেন- তোমার অন্তর যতো শক্ত হোক, তুমি যতো খারাপ হওনা কেন? একজন কামিল ওস্তাদের সংস্পর্শে থাকলে তুমি অমূল্য রতœ হতে পারবে।
সূরা সিজদার ২৪ নং আয়াত প্রমাণ করেছে যে, আল্লাহ্ তা’আলার নিকট নেতৃত্ব ও পৌরহিত্বের যোগ্য কেবল তারাই, যারা কর্ম (আমল) ও জ্ঞান উভয় দিক দিয়ে পূর্ণতা লাভ করেছে। কারণ, আল্লাহ্ তা’আলার নিকট আমল বিহীন শিক্ষা ও বিশাল জ্ঞানের কোনো মূল্য নেই ।
সূরা বাকারাহ্ এর ১৬৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণিত একটি হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আদম সন্তানের অন্তরে একাধারে শয়তানি প্রভাব এবং ফিরিশতার প্রভাব বিদ্যমান থাকে। শয়তানি ওসওয়াসার প্রভাবে অসৎ কাজের কল্যাণ এবং উপকারিতাগুলো সামনে এসে উপস্থিত হয় এবং তাতে সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পথগুলো উন্মুক্ত হয়।
পক্ষান্তরে ফিরিশতাদের ইলহামের প্রভাবে সৎ ও নেক কাজের জন্য আল্লাহ তা’আলা যে কল্যাণ ও পুরস্কার দানের ওয়াদা করেছেন, সে গুলোর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং সত্য ও সঠিক পথে চলতে গিয়ে অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়।
সূরা বানি ইসরাঈলের ৮৪নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- প্রত্যেকেই তার পরিবেশ অনুযায়ী কাজ করে এবং সে রকম তার জীবনও গড়ে উঠে।
সূরা নূরের ২৬নং আয়াতে বলা হয়েছে- প্রত্যেক ব্যক্তি তার সমভাবাপন্ন ব্যক্তির সাথে অন্তরঙ্গ হয় এবং এরা একে অপরের কর্মপন্থা অনুসরণ করে।
ইমাম জাসসাস রাহমাতুল্লাহি আলাইহি লিখেন- এতে মানুষকে হুশিয়ার করে দেয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক মন্দ পরিবেশ, মন্দ সংসর্গ এবং মন্দ অভ্যাস থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। সাথে সাথে সৎ লোকের সংসর্গ এবং সৎ অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ। (জাসসাস)
জীবন বিধানের সূরা বাকারাহ্ এর ১৬৮ নং আয়াতে হারাম খাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাথে সাথে হালাল ও পবিত্র জিনিষ খেতে এবং খেয়ে তার শুকরিয়া আদায় করতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে ।
কারণ, হারাম খেলে যেমন মন্দ অভ্যাস ও অসচ্চরিত্রতা সৃষ্টি হয়, ইবাদাতের শক্তি স্তিমিত হয়ে আসে এবং দো’আ কবুল হয় না। তেমনিভাবে হালাল খাবার খেলে অন্তরে এক ধরণের নূর সৃষ্টি হয়। আর এ নূর অন্যায় অসচচরিত্রতার প্রতি ঘৃণাবোধ সৃষ্টি করে, সততা, সচচরিত্রতার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করে। ইবাদাত বন্দেগীর প্রতি অধিকতর মনোযোগ সৃষ্টি হয় আর পাপের কাজে সৃষ্টি হয় খোদায়ী ভয়-ভীতি। সর্বোপরি সৃষ্টি হয় বান্দার দো’আ কবুলের নিশ্চয়তা।
রাহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- বহু লোক দীর্ঘ সফর করে আসে অত্যন্ত ব্যাকুল ভাবে দু’হাত তুলে আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে দো’আ করে বলতে থাকে- হে আমার প্রতিপালক! কিন্তু যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছেদ হারাম পন্থায় সংগৃহীত। এমতাবস্থায় তার কৃত দো’আ কি করে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে কাসির)
হযরত সাহ্ল ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন- দুনিয়ার সর্বস্তরের মন্দ প্রবনতা থেকে পরিত্রাণ লাভ তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। আর তা হল- (১) হালাল খাওয়া। (২) যথাসময়ে ফরজ কাজ সমূহ আদায় করা এবং (৩) রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত তথা তার আদর্শের পূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণ করা। (তাফসিরে মা’রিফুল কুরআন, পৃষ্টা নং-৮৪)।
আল্লাহ তা’আলা ঈমান ও ইসলামের উপর যেন আমাদের সবাইকে বাঁচিয়ে রাখেন। আমীন ॥

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT