সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০১৮ ইং ০২:৪১:২৬ | সংবাদটি ৩৩ বার পঠিত

‘দুর্দিন’ যাচ্ছে সমবায় সমিতিগুলোর। প্রতি বছরই অসংখ্য সমবায় সমিতি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে সমবায় অধিদপ্তর। আইন ও বিধিলংঘন এবং কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে এই সমিতিগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। যেকারণে সমবায় সমিতিগুলোর সদস্য সংখ্যাও কমছে। গতি ফিরে আসছেনা সমবায় আন্দোলনে। এই প্রেক্ষাপটেই আজ দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস। ১৯২৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সমবায় মৈত্রী সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম শনিবার উদযাপন করা হয় আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস। সেই হিসেবে আজ সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঐক্য, দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তি, সমতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমবায় আন্দোলন বেগবান করাই হচ্ছে দিবসটির লক্ষ।
এদেশে সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস শতবর্ষ পুরানো। পল্লী এলাকার উন্নয়ন কৌশল হিসেবে সমবায় কার্যক্রম শুরু হয় ১৯০৪ সালে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলন শত বছরের বেশি সময় ধরে টিকে আছে। জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে নেয়া সরকারি উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সমবায় অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেখানে কাজ করেন প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। সমবায় আন্দোলন অতীতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিলো। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদনে এর ভূমিকা ছিলো উল্লেখ করার মতো। এছাড়া পল্লী অঞ্চলের নানাবিধ উন্নয়নে সমবায় পদ্ধতিতে কার্যক্রম গ্রহণ আশানুরূপ সুফল বয়ে এনেছিলো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সমবায় আন্দোলন এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। এর কারণও রয়েছে। সমবায় সমিতিগুলোর তদারকি প্রতিষ্ঠান সমবায় অধিদপ্তরের মতে অকার্যকর প্রাথমিক সমবায় সমিতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অনেক সমিতিতে অর্থায়ন সমস্যা রয়েছে। সমবায়ীদের পেশাগত দক্ষতা ও সঠিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণেরও সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া, সমবায় সমিতির প্রচুর স্থাবর সম্পত্তি সুবিধাভোগী শ্রেণির দখলে চলে গেছে।
সমবায় সংগঠনের ধারণা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেই বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবেই সমবায়ের নীতিমালার মধ্যে রয়েছে একতা, সাম্য, সহযোগিতা, সততা, আস্থা, বিশ্বাস, সেবা ও গণতন্ত্র। সমবায় বিচ্ছিন্নতাকে দূর করে ঐক্য গড়ে তোলে। ক্ষুদ্র মূলধন আর উপযুক্ত ব্যবহার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের জীবনে আনতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন। সমবায় মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখায়। অসংখ্য একক মানুষ কীভাবে বৃহৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সুদিন আনতে পারে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো সমবায়। মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে সমবায় আজ স্বীকৃত। আমাদের দেশে সমবায়ের ঐতিহ্য ফিরে আসুক, আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT