পাঁচ মিশালী

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও মুন্সি মেহেরুল্লাহ

সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০১৮ ইং ০২:৪২:৪৯ | সংবাদটি ৪১৯ বার পঠিত

যশোর হলো বাংলাদেশের প্রথম জেলা শহর। ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার যশোরকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। বেশ পুরাতনকাল থেকেই যশোরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল। মুন্সি মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ কর্মজীবনের প্রথমে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানে যশোর জেলা বোর্ডে চাকরি পান। কিন্তু স্বাধীনচেতা মনোভাবের কারণে কিছুদিন পর সে চাকরি ছেড়ে দেন। শুরু করেন দর্জির কাজ। অল্প কালের মধ্যেই তিনি কাটিং মাস্টার হিসেবে খ্যাতি পান। যার কারণে তখনকার যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যন্ত তার কাস্টমার ছিলেন। পরবর্তীকালে মেহেরুল্লাহর কাজে খুশি হয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে দার্জিলিং নিয়ে যান এবং দোকান করে দেন। দার্জিলিং যাবার আগে যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানা মোড়ে তার দর্জির দোকান ছিলো। তিনি দোকানে বসে প্রতিদিন দেখতেন মিশনারিদের অপতৎপরতা। এ সময় খ্রিস্টান মিশনারিরা সেবার নামে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ও গরিব মুসলমানদেরকে ধর্মান্তর করছিল। তৎকালীন বৃটিশ সরকারের সহযোগিতায় খ্রিস্টান পাদ্রীরা প্রকাশ্যে সভাসমাবেশে আল্লাহ-রাসূল (সা.) ও কোরআনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতো, বিভ্রান্তির জন্য বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়ে দিত। এসব দেখে কৈশোরেই মেহেরুল্লাহর মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। কিন্তু খ্রিস্টানদের অপপ্রচারের জবাব দেয়ার মতো জ্ঞান তাঁর না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি জবাব দিতে পারেননি।
মুন্সি মেহেরুল্লাহ যখন দার্জিলিং অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি বাইবেল, বেদ, গীতা, উপনিষদ, ত্রিপিটক ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন শুরু করেন। এ সময় তোফাজ্জল মুকতাদি নামক একটি উর্দু বই পড়ে বিভিন্ন ধর্মের ত্রুটিবিচ্যুতি সম্বন্ধে জানতে পারেন। এরপর হযরত সোলায়মান ওয়াসি (র.)-এর লেখা ‘কেন আমি আমার পৈতৃক ধর্ম ত্যাগ করেছিলাম’, ‘প্রকৃত সত্য কোথায়’ ইত্যাদি বই পাঠেও তিনি অনেক জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে খ্রিস্টান মিশনারিদের মোকাবেলায় নামতে প্রস্তুত হতে থাকেন। তিনি ফিরে আসেন যশোরে। হয়ে যান ‘তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের’ তুখোড় বক্তা। তিনি খ্রিস্টানদের অপপ্রচারের জবাব দিতে ছুটলেন বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের অলিগলিতে। বক্তৃতা করতে লাগলেন। আরো বেগবান করার জন্য কলকাতার নাখোদা মসজিদে প্রখ্যাত আলেম মুন্সি শেখ আবদুর রহিম, মুন্সি রিয়াজুদ্দিন আহমদের মত ব্যক্তিত্বদের সাথে বসলেন। ঐ বৈঠকেই গঠিত হল ‘নিখিল ভারত ইসলাম প্রচার সমিতি’। সমিতির পক্ষ থেকে মৌলভী মুন্সি মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহর ওপর দায়িত্ব দেয়া হল বাংলা ও আসামে ইসলাম প্রচারের। মুন্সি মেহেরুল্লাহর আকর্ষণীয় ও যুক্তিপূর্ণ বক্তৃতায় মানুষ আকর্ষিত হতে থাকল। দলে দলে অনেক অমুসলিম মুসলমান হতে থাকলেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ তাঁর সভাসমাবেশে উপস্থিত হতে থাকলেন। বিধর্মী পন্ডিতেরা তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন। তিনি যুক্তিপূর্ণ উত্তর দিতেন। একবার এক বাহাসে খ্রিস্টান পাদ্রিরা তাঁকে প্রশ্ন করেন :
‘ইসলাম ধর্মমতে জান্নাত হলো ৮টি এবং জাহান্নাম ৭টি। এটা নিতান্তই হাস্যকর কথা। কারণ আপনারাই বলেন মুসলমানরা ব্যতীত আর কেউ জান্নাতে যাবেনা। কিন্তু পৃথিবীতে মুসলমানদের বিপরীতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাই বেশি। আবার বলেছেন মুসলমানদের মধ্যেও সবাই জান্নাতে যাবেনা। শুধু খাঁটি ঈমানদারেরাই যাবে। তাহলে এই গুটিকয়েক মানুষের জন্য ৮টা জান্নাত আর বিপরীতে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের জন্য ৭টা জাহান্নাম! এর চে’ বড় কৌতুক আর কী হতে পারে?’
পাদ্রিদের প্রশ্নে তাদের সমর্থকেরা প্রচুর হাসিতে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন। মুন্সি মেহেরুল্লাহ ধীরে ধীরে মুচকি হেসে এগিয়ে আসেন। পাদ্রিদেরকে প্রশ্ন করেন, ‘বাদুর দেখেছেন জনাব?’ একজন পাদ্রি বললেন, ‘হ্যাঁ, দেখেছি’। মুন্সি এবার হাসি দিয়ে বললেন, ‘দেখেন, রাতের বেলা যখন শিকারিরা ত্রিশ থেকে চল্লিশটা বাদুর শিকার করেন, দিনের বেলায় সেই বাদুরগুলোকে শুধু একটামাত্র বস্তায় চেপে চেপে ভর্তি করে নিয়ে আসে। কিন্তু জনাব, ময়না দেখেছেন না? মানুষ কিন্তু শুধু একটা ময়নার জন্য বিশাল খাঁচা তৈরি করে। এবার আপনারাই বলেন, চল্লিশটা বাদুরের জন্যে একটা বস্তা, আর একটা ময়নার জন্যে সেই বস্তার সমান পুরোদস্তুর একটা খাঁচা! এটা কি হাস্যকর শুনাবে?’
সবাই নীরব। মুন্সি এবার বললেন, ‘ঠিক সেটাই। যার যেমন কদর, যার যেমন মূল্য। যারা জাহান্নামে যাবে, তারা ঠিক বাদুরের মতোই! তাদেরকে জাহান্নামে রাখা হবে ঠাসাঠাসি করে। আর যারা জান্নাতে যাবে, তারা ময়না পাখির মতোই আদরযতেœ থাকবে। তাই অল্পসংখ্যকের জন্যে বরাদ্দটা বেশি।
অন্য এক বাহাসে একজন পাদ্রি প্রশ্ন করেন, ‘ইসলাম ধর্মে দাবী করা হয় মুহাম্মদই শ্রেষ্ঠ নবী এবং তাঁর আগমনে নাকি পূর্বের সব নবী-রসূলের শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। এটা পুরোটাই বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছু নয়। দেখেন, মুসলমান ভায়েরা, আমাদের নবী ঈসাকে আল্লাহ কিন্তু আসমানের ওপর তুলে নিয়েছেন, আর আপনাদের নবী মাটির নীচে শুয়ে আছে। এবার আপনারাই বিচার করুন, কে শ্রেষ্ঠ? তাহলে আমাদেরকে মুসলমান হতে না বলে বরং আপনারাই খ্রিস্টান হওয়া যৌক্তিক নয় কি?
মুন্সি মেহেরুল্লাহ দেখলেন পাদ্রিরা তাদের ভাষা এবং প্রশ্নের ঢঙে যথেষ্ট বাড়াবাড়ি করছে। তবু নিজেকে সামলে তিনি খুব শান্তভাবে বললেন, ‘জনাব! আমরা কিন্তু কোরআনের নির্দেশ মতো কোন নবী-রাসূলের মাঝে পার্থক্য করি না। তাঁরা সকলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। কিন্তু তর্কের খাতিরে যদি আপনি মান উঁচু-নীচুর প্রশ্নে আসেন, তাহলে একটা প্রশ্ন করতেই হয়, মুক্তা দেখেছেন? মুক্তা কিন্তু সমুদ্রের তলায় থাকে, আর উপরে যা থাকে, তা হলো জোয়ারের ফেনা!’ উপস্থিত সবাই নীরব এবং বিস্মিত!
এভাবে মুন্সি মেহেরুল্লাহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিতর্ক করে মানুষকে দ্বীন বুঝাতেন। মুসলমানদের যাদের মনে নানা দুর্বলতা ছিল, ঘুণে ধরে নষ্ট করেছিল যাদের ঈমান-আকিদা, তারা এসব বক্তব্য থেকে নিজেদেরকে ঠিক করে নিতো।
মুন্সি জমির উদ্দিন নামে এক মুসলমান পন্ডিত ছিলেন। তিনি পাদ্রিদের প্ররোচনায় খ্রিষ্টানধর্ম গ্রহণ করেন। অতপর তিনি এলাহাবাদের ডিভিনিটি কলেজের উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে রেভারেন্ড জন জমির উদ্দিন নাম ধারণ করেছিলেন। পাদ্রি জমির উদ্দিন ইসলাম ও কোরআনের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করেন। খ্রিষ্টান জন জমির উদ্দিন এই সময় ইসলামকে বিকৃত করে লিখেন ‘আসল কুরআন কোথায়?’। মুন্সি মেহেরুল্লাহর ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে এর জবাবে সুধাকর পত্রিকায় লিখতে শুরু করেন ‘খিস্টানি ধোঁকা ভঞ্জন’ শীর্ষক গবেষণামূলক প্রবন্ধ। তৎকালীন সময় এই লেখা সাড়া জাগিয়েছিল। এরপর মুন্সি মেহেরুল্লাহ ‘আসল কুরআন সর্বত্র’ শীর্ষক আর একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ সুধাকর ও মিহির পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এই প্রবন্ধ প্রকাশের পর খ্রিস্টান পন্ডিতেরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে আর কিছু লেখার ও বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। তখন স্বয়ং জন জমির উদ্দিন মুন্সি মেহেরুল্লাহর সাথে এক বিতর্কে পরাজিত হয়ে পুনরায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাকি জীবন ইসলামের খেদমতে কাটিয়ে দেন।
অসাধারণ বক্তা হওয়ার কারণে তাঁকে তখন ‘বাগ্মী কুল তীলক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। (বাগ্মী অর্থ সুবক্তা বা বাকপটু। কুল অর্থ : বংশ। তিলক হলো কপালের ফোঁটা। সব মিলিয়ে সুবক্তাদের কপালের ফোঁটা)। তিনি শুধু অসাধারণ বক্তাই ছিলেন না, তাঁর কলমেরও ধার ছিল দু’ধারী খোলা তলোয়ারের মত। তিনি অনেক খ্রিস্টান লেখকের লেখার জবাব দেন যুক্তিপূর্ণ লেখার মাধ্যমে। তিনি দশটি বইয়ের লেখক। তাঁর লিখিত বইগুলো হলো, ১. খ্রিস্টীয় ধর্মের অসারতা (প্রকাশকাল-১৮৮৬), ২. মেহেরুল এছলাম (প্রকাশকাল-১৮৯৫), ৩. রদ্দে খিস্টান ও দলিলুল এছলাম (প্রকাশকাল-১৮৯৫), ৪. জওয়াবোন্নাছারা (প্রকাশকাল-১৮৯৭), ৫. বিধবাগঞ্জনা ও বিষাদভা-ার (প্রকাশকাল-১৮৯৭), ৬. হিন্দু ধর্ম রহস্য ও দেবলীলা (প্রকাশকাল-১৯০০), ৭. পন্দোনামা (প্রকাশকাল-১৯০৮), ৮. শ্লোকমালা (প্রকাশকাল-১৯১০), ৯. খ্রিস্টান মুসলমান তর্কযুদ্ধ (প্রকাশকাল জানা যায়নি), ১০. মানবজীবনের কর্তব্য (রচনাকাল ১৩১১ বঙ্গাব্দ, অপ্রকাশিত)।
বর্তমানে অবশ্য মেহেরুল এছলাম, রদ্দে খিষ্টান ও দলিলুল এছলাম, বিধবাগঞ্জনা, হিন্দুধর্ম রহস্য ও দেবলীলা গ্রন্থ চারটি ছাড়া অন্যগুলো পাওয়া যায় না। তাঁর অপ্রকাশিত পা-ুলিপি ‘মানব জীবনের কর্তব্য’র কপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। মৃত্যুর পর ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বৃটিশ সরকার তাঁর ‘বিধবা গঞ্জনা’ ও ‘হিন্দু ধর্ম রহস্য’ বই দুটি বাজেয়াপ্ত করে। মুন্সি মেহেরুল্লাহ প্রচুর নাত-এ রাসুল রচনা করেছেন।
‘তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে’ মুন্সি মেহেরুল্লাহ ছিলেন তাঁর যুগের নকীব। তিনি সাথে সাথে ছিলেন সমাজ সংস্কারকও। তাই তিনি তাঁর মিশন শুধু খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধেই চালাননি, তিনি মুসলিম সমাজের মধ্যকার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তাঁর উৎসাহ উদ্দীপনায় বাংলা ও আসামে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তিনি তাঁর প্রত্যেক আলোচনায় শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতেন। আধ্যাত্মিক জীবনে তিনি সুফি সাধক আল্লামা কেরামত আলী জৌনপুরী (র.)-এর সিলসিলার লোক ছিলেন। আল্লামা কেরামত আলী জৌনপুরী (র.)-এর স্মৃতিতে ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজ গ্রামের পাশের গ্রাম মনোহরপুরে ‘মাদরাসায়ে কারামাতিয়া’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে ‘কর্মবীর মুন্শী মহেরুল্লাহ একাডেমী’ নামে পরিচিত। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর আন্দোলনে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের পূর্বেও যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাদের অন্যতম মুন্সি মেহেরুল্লাহ। তাঁর সময়ে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অনেকেরই অনীহা ছিল। এ জন্য মেহেরুল্লাহ লিখেছেন, ‘মাতৃভাষা বাংলা লেখাপড়ায় এত ঘৃণা যে, তাহারা তাহা মুখে উচ্চারণ করাই অপমানজনক মনে করেন। এই অদূরদর্শিতার পরিণাম কী সর্বনাশা তাহা ভাবিলে শরীর শিহরিয়া ওঠে। যে দেশের বায়ু, জল, অন্ন, ফল, মৎস্য, মাংস, দুগ্ধ, ঘৃত খাইয়া তাহাদের শরীর পরিপুষ্ট, সে দেশের ভাষার প্রতি অনাদর করিয়া তাঁহারা যে কী সর্বনাশের পথ উন্মুক্ত করিতেছে, তাহা ভাবিলেও প্রাণে এক ভীষণ আতঙ্ক উপস্থিত হয়।’
মুন্সি মেহেরুল্লাহর উপস্থিত বুদ্ধি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তৎকালীন সময়ে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টান সমাজে উপস্থিত বুদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি ছিল না। উপস্থিত তর্কে তিনি কখনো কারো কাছে পরাজিত হননি। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি সম্বন্ধে বহু কিংবদন্তি এখনো বাংলা ও আসামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
মুন্সি মেহেরুল্লাহ একজন গাল্পিক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সভাসমাবেশে উপদেশচ্ছলে গল্প শুনাতেন। তাঁর বর্ণিত গল্প থেকে অনেক মানুষ উপকৃত হতো। এসব অনেক গল্প বিভিন্ন বইপত্রেও রয়েছে। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেককেই উৎসাহ উদ্দীপনা দিতেন। তাদের মধ্যে খ্যাত হয়েছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কবি গোলাম হোসেন শেখ, হবিবর রহমান সাহিত্যরতœ, মুন্সি শেখ জমিরুদ্দিন বিদ্যাবিনোদ, মাওলানা আকরম খাঁ প্রমুখ। সিরাজীর ‘অনল প্রবাহ’ কবিতা মুন্সি মেহেরুল্লাহ কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত হয়।
মুন্সি মেহেরুল্লাহ শেষ জীবনে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তাঁর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট (চেয়ারম্যান) মনোনীত হন। পরের বছর ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি সমাবেশে একাধারে বক্তব্য রাখার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজ বাড়ি ছাতিয়ানতলায় চলে আসেন। চিকিৎসাও চলতে থাকে। ১৩১৪ বঙ্গাব্দের ২৪ জ্যৈষ্ঠ তিনি মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT