পাঁচ মিশালী

একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ

দেওয়ান তালহা কিবরিয়া (ইরম) প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০১৮ ইং ০২:৪৩:১৬ | সংবাদটি ১৮৩ বার পঠিত

এডভোকেট দেওয়ান গোলাম কিবরিয়া ১৯৩০ সালে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার অন্তর্গত ¯œানঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম দেওয়ান আব্দুল গণি চৌধুরী এবং মাতার নাম সানজিদা খাতুন চৌধুরী। তৎকালীন সময়ের প্রখ্যাত হিন্দু জমিদার রাজা সুবির নারায়ণের পূর্বপুরুষ এবং পরবর্তী মুসলমান বংশধর হিসাবে খ্যাত। বাল্যকালে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হলে হবিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৪৭ সালে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তিনি সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজে অধ্যয়ন করেন। মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৫১ সালে কলা অনুষদে ¯œাতক ডিগ্রী লাভ করেন।
তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। এলএলবি ডিগ্রী লাভের পর দুই বছর তিনি একটি আমেরিকান তৈল কোম্পানীতে চাকুরী করেন। তৎপর তিনি ১৯৫৬ সালে তৎকালীন খ্যাতনামা আইনজীবী মি. তরণীনাথ দত্তের অধীনে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসাবে সিলেট জজকোর্টে আইন ব্যবসায় যোগদান করেন। আইন ব্যবসায় তিনি ঈৎরসরহধষ ঝঁরঃ উবধষ করার চেয়ে ঈরারষ ঝঁরঃ ফবধষ করাকে প্রাধান্য দিতেন। সিলেট জজকোর্ট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জজকোর্ট এবং ঢাকা হাইকোর্টে অসংখ্য ঈরারষ ঈধংব পরিচালনা করে সফলতা লাভ করেন এবং একজন ঈরারষ খধুিবৎ হিসাবে সুনাম অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে এবং ১৯৭৮ সালে সিলেট বার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত হন। আবার ১৯৮১ সালে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।
আইন ব্যবসা ছাড়াও এডভোকেট দেওয়ান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি নাটাব, আর্ট ফাউন্ডেশন, জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট প্রভৃতি অনেক সংগঠনের আজীবন সদস্য। তিনি হবিগঞ্জ সমিতি সিলেট এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। হবিগঞ্জ সমিতির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও তিনি সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসাবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষার উন্নয়নে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে সিলেট শহরের চালিবন্দরে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘বসন্ত শিশু একাডেমী’ নামে একটি শিশু বিদ্যালয়। এছাড়া তিনি ঝুষযবঃ খধি ঈড়ষষবমব প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। খধি ঈড়ষষবমব প্রতিষ্ঠার পর প্রাথমিক অবস্থায় বেশ কিছুদিন তিনি বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে বাম রাজনীতির সাথে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দেশের ভিতর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে বলিষ্ঠ অবদান রাখেন এবং প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে তিনি বাকশালের সভাপতি ছিলেন।
১৯৬০ সালের ২৪শে জানুয়ারি তিনি সিলেট দরগাহ মহল্লাস্থ হযরত শাহজালাল (র:)’র মাজারের মোতয়াল্লী মরহুম এ জেড আব্দুল্লাহ সাহেবের মেয়ে মরহুম খোদেজা জিন্নাতুন্নেছাকে বিয়ে করেন। ১ম স্ত্রী খোদেজা জিন্নাতুন্নেছা ১৯৭৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। ১ম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ১৯৭৬ সালের ৬ই জুন জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া, থানা নাছিরনগর এর অন্তর্গত নূরপুর গ্রামের দেওয়ান মখলিছুর রহমান চৌধুরী সাহেবের মেয়ে হাসিনা শাহীনকে বিয়ে করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গিয়েছিলেন। বড় ছেলে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ২০০৬ সালের ৯ই ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আমি ছোট ছেলে দেওয়ান তালহা কিবরিয়া (ইরম) বর্তমানে সিলেট জেলা বারের আইনজীবী। দেওয়ান গোলাম কিবরিয়া জীবনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেও ক্লান্ত হননি বা বিশ্রাম নেননি। অবশেষে তাকে বিশ্রাম নিতে হলো চিরদিনের মতো। ২০০১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। আমার বাবার লাশ হযরত শাহজালাল (র:) মাজার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT