উপ সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ : আন্তঃসীমান্তীয় নদীর স্বীকৃতি

তুহিন ওয়াদুদ প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০১৮ ইং ০২:৪৩:৩৭ | সংবাদটি ৭৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার মিলে ৫৭টি আন্তঃসীমান্তীয় নদীর কথা আমরা জানি। এগুলো তিন দেশ স্বীকৃত। যখন অভিন্ন নদীতে অভিন্ন অধিকার নিয়ে কথা বলা হয় তখন ৫৭টি নদীর কথাই বলা হয়। কার্যত এ সংখ্যা এর চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা দ্বিগুণ বৈ কম হবে না।
বাংলাদেশের উজানে ভারত। ফলে ভারতের অনেক নদীর প্রবাহ ভাটির দিকেই নেমে আসবে এটাই স্বাভাবিক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জেলাগুলো দিয়ে এ নদীগুলো প্রবেশ করেছে। একটি কথা সবসময় বলা হয়-আগামী দিনে যদি আর কখনো বিশ্বযুদ্ধ হয় তাহলে সেটি হবে পানি নিয়ে। সহজেই অনুমান করা যায় বর্তমান এবং আগামী বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে পানি। বাংলাদেশের জন্য অতীতে এবং বর্তমানে জীবন-জীবিকার জন্য পানি ছাড়া কোনো উপায় নেই। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের কাছে পানির গুরুত্ব আরও বেশি।
রংপুর বিভাগে যে নদীগুলো আন্তঃসীমান্তীয় নদীর তালিকায় আছে সেগুলো হচ্ছে-আত্রাই (নওগাঁ-নাটোর), পুনর্ভবা, তেঁতুলিয়া, টাংগন, কুলিক, নাগর (আপার), মহানন্দা, ডাহুক, করতোয়া, তালমা, ঘোড়ামারা, দেওনাই-চারালকাটা-যমুনেশ্বরী, বুড়ি তিস্তা, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র এবং জিঞ্জিরাম। মোট ১৮টি।
এর বাইরে আরও অনেক আন্তঃসীমান্তীয় নদী আছে। কুড়িগ্রামে নীলকুমার, ফুলকুমার, বারোমাসি, গিরাই, গঙ্গাধর, ধরণী, কালজানি, সোনাভরি, কালো, সঙ্কোশ, হলগলিয়া লালমনির হাটের সানিয়াজান, মালদাহা, সিংগীমারী দিনাজপুরের রাক্ষুসিনী, পঞ্চগড়ের কুরুম, চাওয়াই, তিস্তা, বেরং, ভেরসা নদীও আন্তঃসীমান্তীয় নদী। আমাদের ৫৭টি নদীর মধ্যে রংপুর বিভাগে ১৯টি নদী থাকলেও এর বাইরে আরও ১৮টি নদী রয়েছে। সেই হিসেবে রংপুর বিভাগে আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা ৩৭টি। আমাদের দেশ নদীপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের নদীর প্রতি যতœ কখনই প্রদর্শন করা হয়নি। ফলে আন্তঃসীমান্ত নদীর তালিকার এ করুণ হাল। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন আছে। এ কমিশন উদ্যোগ গ্রহণ করলে দুদেশের মধ্যে যৌথ নদীর সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব। যে নদীগুলো সীমান্ত নদীর তালিকায় স্থান পায়নি এর মধ্যে কোনো কেনটি অনেক বড় নদীও আছে।
গঙ্গাধর একটি অনেক বড় নদী। হলহলিয়া নদীও অনেক প্রশস্ত। কুরুম নদীও বড় নদী। বারোমাসি, চাওয়াই, সানিয়াজান নদীও আকার-আকৃতিতে বেশ বড়। আমাদের দেশে যে নদীটি আমরা গঙ্গাধর বলি সেটি ভারতে তোরসা নামে পরিচিত। কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তার পানির পরিবর্তে যে নদীগুলোর নাম বলেছিলেন তার মধ্যে একটি হচ্ছে তোরসা।
রৌমারী উপজেলার কালো নদীটির পাড়েই ভারেতের মাইনকার চর শহর। ওখানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশ অংশে দাঁড়ালে ভারতের অংশের সেই শহর দেখা যায়।
আন্তঃসীমান্তীয় নদীসমূহ চিহ্নিত করা জরুরি। এর জন্য দ্বিদেশীয় উদ্যোগ না হলেও চলবে। এ কাজটিতে বাংলাদেশকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ভারত উজানের দেশ। ভারতের পানিবিষয়ক সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র এখন বেশ প্রকাশিত। তাদের জন্য এগুলোর জরুরি নয়। তারা স্বীকৃত আন্তঃসীমান্তীয় নদী তিস্তার পানি অন্যায়ভাবে একতরফা প্রত্যাহার করছে। যেগুলো স্বীকৃত নয় সেগুলোর পানি সরিয়ে নিলে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপন করা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্তীয় নদী চিহ্নিত করে তা যৌথ নদী কমিশনের সভায় উত্থাপন করতে পারে। চিহ্নিত করার পর উভয় দেশের সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা সম্ভব। নদী তো অদৃশ্য কোনো বস্তু নয়। দৃশ্যমান নদীর চরিত্র অনুযায়ী তার স্বীকৃতি কোনো কঠিন কাজ হওয়ার কথা নয়।
শুধু রংপুর বিভাগেই আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা ৩৭টি। আরও ভালোভাবে সন্ধান করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে হয়। সারা বাংলাদেশে সন্ধান করলে শতাধিক আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সন্ধান মিলবে।
শুধু সরকারিভাবেই নয়, বেসরকারি উদ্যোগেও আন্তঃসীমান্তীয় নদীর সংখ্যা চিহ্নিত করে সরকারের কাছে তা উপস্থাপন করা যেতে পারে। বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্তীয় নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি তার মধ্যে এ উদ্যোগও অন্যতম।
লেখক : শিক্ষক।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বাংলাভাষা প্রয়োগে ভুলের রাজত্ব
  • ভাষার প্রতি ভালবাসা
  • রাজনীতি ও গণতন্ত্র
  • একুশ আমাদের অহংকার
  • দেশপ্রেম, ভাষাপ্রেম
  • একুশে : বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামের ইতিহাস
  • অনন্য গৌরবের একুশে
  • স্বাধীনতা যুদ্ধ ও বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী
  • ভেনেজুয়েলা প্রেক্ষাপট ও একনায়কতন্ত্র মতবাদ
  • সিটি কর্পোরেশনের সবুজায়ন
  • উচ্চশিক্ষায় উপেক্ষিত বাংলা
  • উপেক্ষিত যাত্রী অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব
  • ‘জীবন শেষের গান’ ও প্রসঙ্গ কথা
  • স্কুল-কলেজগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • সাম্প্রতিক কথকতা
  • রেস্টুরেন্টে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাচ্ছি?
  • বেকার লোকের সংখ্যা বেড়েই চলছে
  • প্রসঙ্গ : সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ
  • বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকাতে হবে
  • ভাটি বাংলার মরমী সাধক শাহ আব্দুল করিম
  • Developed by: Sparkle IT