উপ সম্পাদকীয়

বিশ্বকাপের আমেজ কি আর নেই?

মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৭-২০১৮ ইং ০৩:০৩:৩৪ | সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

চৌদ্দ ছয় দুই হাজার আঠারো বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে। মোট আটটি গ্রুপে বিভক্ত বত্রিশটি দল। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম বিদায়ী ঘন্টা বেজেছে মিসরের। এভাবে পরাজিত হয়ে একের পর এক দল ত্যাগ করছে রাশিয়ার মাঠ। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মন নিয়ে এই বিদায়। দ্বিতীয় রাউন্ড ম্যাচ খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে খেলা চলার পর যাদের অদৃষ্ট মন্দ, যে সকল দেশ পরাজিত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে রাশিয়া ত্যাগ করতে হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ কেড়ে নিল বিশ্বের সকল দেশের অনেক দর্শকের আনন্দ উল্লাস। প্রতীক্ষার দিনগুলো তাদের মন থেকে বিলিন হয়ে গেল। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙ্গে দিল উঁচু দু’টি গাছ। বিশ্বের পুরানো দু’টি গাছের শিকড় যেন উপড়ে মাটিতে পড়ে গেছে। দু’দিনের কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব লীলায় প্রথম ঝড়ে আর্জেন্টিনা। পরবর্তী গাছ টিকে থাকার জন্য সারা বিশ্ব এমনি এক আশায় ছিল। বিশ্ববাসী জানে এ গাছের শিকড় শক্ত ডালপালা ঝড়ে অক্ষত থাকবে ভেঙ্গে পড়বে না। আগামী পনেরো জুলাইয়ের মধ্যে ঝরে পড়ে যে কয়টি বৃক্ষ মাথা উঁচু করে থাকবে পর-পর এই বেগবান বাতাসে একটা-একটা করে পড়ে যাবে। রাশিয়ার বৃক্ষের বাগানে থাকবে দু’টি গাছ। এর মধ্যে পনেরো জুলাই সর্ব শ্রেষ্ঠ ঝড়ে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকবে ব্রাজিল। অপর গাছটি এক দু’টি ডাল ভেঙ্গে গেলেও দাড়িয়ে থাকবে এই আশা পোষণ করছিল বিশ্ববাসী। ছয় তারিখ রাত বারটার অকল্পনীয় ঝড়ে পর পর দু’টি ঝাঁপটা দিয়ে গাছটাকে দাড়িয়ে থাকতে দিল না রাশিয়ার বৃক্ষের মাঠে।
আজ থেকে নতুন বৃক্ষের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে সারা বিশ্বের দর্শকদের মধ্যে। বলা যাচ্ছে না এক সপ্তাহে কোন বৃক্ষ গজিয়ে উঠে পাকা-ফল বিশ্ববাসীকে উপহার দেবে। বিশ্বকাপে নির্ধারিত সময়টাকে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে তুলনা করা যায়। খেলাধূলা ঝড়ের ন্যায়। ঝড় আরম্ভ হলে কোথায় কি ধ্বংস হবে বা ধূলিসাৎ করে দেবে অগ্রিম কেউ বলতে পারে না। ঠিক তেমনি বিশ্বের যত রকম খেলাধূলার প্রতিযোগিতা হয় না কেন কেহ কোনদিন বলতে পারে না জয়-পরাজয়ের কথা। অনেক সময় দুর্বলের কাছে সবল পরাজয় বরণ করে। ঝড়ে দেখা যায় শক্ত দালান গৃহটি পড়ে যায় পাশে জরাজীর্ন পুরানো একটি কুঠির কিছুই হয়নি। তেমনি রণক্ষেত্রে দু’টি পক্ষ বা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ সংগঠিত হলে সৈনিকরা নিজ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একটা মাত্র কথা তাদের মনে সার্বক্ষণিক বিরাজমান থাকে উত্থান না হয় পতন। মরিব না হয় মারব। তদরূপ খেলার মাঠে খেলোয়াড়গণ একই নীতি অনুসরণ করে। জীবন মরণ পণ করে খেলতে থাকে জয়ের আশায়। প্রতিপক্ষের চাপে সৈনিকরা যেভাবে পরাজিত হয়, খেলোয়াড়গণও প্রতিপক্ষের চাপের মুখে পরাজয় বরণ করে শিরোপা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। বিধি বাম হলে অন্তিম সময়ে পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে হয় যা কল্পনার বাইরে তাও ঘটে যায় খেলার মাঠে। খেলার শুরুতেই উইকেট পতন বিশ্ব সেরা ক্রিকেটারের বেলায়ও দেখা যায়। সুযোগ-সুবিধা মতো বল পেয়েও বিশ্বের নামী দামী খেলোয়াড় গোল করতে ব্যর্থ। নিজের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুহূর্তের মধ্যে বল হাতছাড়া হয়ে যায়। ইচ্ছা করে কোন খেলোয়াড়ই এই ভুলের শিকার হয়নি। খেলাধূলা বুঝা বড়ই কঠিন। দুর্বলের কাছেও সবলের পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকে। শুরুতে প্রতিটি খেলায় যে আমেজ থাকে ঝড় এসে সেই আনন্দ নিরানন্দ হয়ে যায়।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হোক
  • সিলেটের ডাক
  • নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে
  • সিলেটের ডাকের শিশুমেলা
  • সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল : পরিবেশ-প্রতিবেশ
  • এরদোগানের শাসনে তুরস্কের ভবিষ্যৎ
  • বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নদী রÿার্থে করণীয়
  • পয়ত্রিশ বছরে সিলেটের ডাক
  • আমরা কি কেবল দর্শক হয়েই থাকব?
  • কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও আমাদের আইন
  • স্মার্টফোনে বন্দি জীবন
  • দৃষ্টিপাত নেশার নাম ড্যান্ডি!
  • আইনজীবী-সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম চৌধুরী
  • সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল কবে শেষ হবে?
  • রাস্তাটির সংস্কার চাই
  • প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি
  • শিক্ষা ব্যবস্থা
  • আবর্জনা সমস্যা : উৎপাদনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে
  • উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজন
  • সিটি নির্বাচন : কাকে ভোট দেব?
  • Developed by: Sparkle IT