সম্পাদকীয় যদি সর্বোচ্চ আসন পেতে চাও তবে সর্বনি¤œ স্থান থেকে শুরু করো। -ডেল কার্নেগি

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘মুজিববর্ষ’

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৭-২০১৮ ইং ০০:৪১:৪৩ | সংবাদটি ৮৭ বার পঠিত

‘মুজিব বর্ষ’ পালিত হবে ২০২০-২০২১ সালে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের পাশাপাশি এই মুজিববর্ষ পালন করা হবে। বছর ব্যাপী কর্মসূচি পালনের লক্ষে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চ পর্যায়ের নাগরিক কমিটি। আগামী ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে শুরু হবে এই বর্ষ। আর শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬-এ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে। সম্প্রতি রাজধানীতে সরকারি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই প্রসঙ্গে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। ২০২০ সালে পূর্ণ হবে জাতির পিতার জন্মের শত বছর এবং ওই বছরই হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। তাই ২০২০-২১ সালকে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালন করবো।
১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে মধুমতি নদীর তীরে জন্ম হয়েছিলো শেখ মুজিবের। নিভৃতপল্লীর সেই ছেলেটি এক পর্যায়ে আবির্ভূত হন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা রূপে। তাঁরই উদাত্ত আহ্বানে একাত্তরে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে মন্ত্রমুগ্ধের মতো সবাই পশ্চিমা দখলদার হায়েনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একাত্তরের সাতই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বাঙালিদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। সেই ভাষণটি এখন শুধু বাঙালির গর্ব নয়, সারা বিশ্বের মুক্তিপাগল মানুষেরই গৌরবের বিষয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ। সেই সঙ্গে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে ২০২১ সালের ২৬-এ মার্চ। এই দুটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সরকার এই ‘মুজিববর্ষ’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এ উপলক্ষে বছর ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে নানা ধরনের প্রতিযোগিতা।
কথাটি নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না। তিনি যেমন স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তেমনি তা বাস্তবায়নও করে গেছেন। তাই প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় শক্ত আসন গেড়ে বসে আছেন তিনি। স্বাধীনতাপ্রিয় প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দন শেখ মুজিব। সব ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের উর্ধ্বে তিনি অবস্থান করছেন, যেমন ভারতে মহাত্মাগান্ধী, পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। বঙ্গবন্ধুকে তেমনি নিরপেক্ষ আসনে আসীন করাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ বঙ্গবন্ধু কোন দলের নন, কোন গোষ্ঠীর নন; তিন দেশপ্রেমিক প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের। তাই আমরা মনে করি, দেশের প্রতিটি স্বাধীনতা প্রিয় রাজনৈতিক দলই জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করবে ঘটা করে। সেই সঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীনভাবে উদযাপন করা উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT