উপ সম্পাদকীয়

তুরস্কের নির্বাচন দেখে এসে

জিয়া হাবীব আহ্সান প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৭-২০১৮ ইং ০০:৫১:৩১ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

গত ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত প্রাচীন সভ্যতার দেশ তুরস্কের ইস্তাম্বুল, কাপাদোকিয়া ও কোনিয়া প্রভৃতি অঞ্চল ভিজিটের সুযোগ পাই। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফের আট সদস্যের ওই টিমের অন্যান্য সদস্য হলেন- অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রফিকুল আলম, ব্যাংকার জাহাঙ্গীর আলম, নারী উন্নয়ন কর্মী ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষা আশফা খানম, অধ্যাপক রেজিনা খানম প্রমুখ। এ ছাড়াও সাথে ছিলেন ইস্তাম্বুল মারারা বিশ্ববিদালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্র মোহাম্মদ জাবেদ, কোনিয়া সেলজুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী ছাত্র মুহিবুল্লাহ ইদ্রিস, সাংবাদিকতায় ইস্তাম্বুল মারারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোহাম্মদ ফয়সাল চৌধুরী ও তুর্কি গাইড এম এস ইঞ্জি।
দেশটির পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেখে আমরা মুগ্ধ ও বিস্মিত হই। নির্বাচনী প্রচারণা যা বাংলাদেশ টিমের চোখে পড়েছে তা হলো রাস্তায় ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, গাড়িবহরে প্রার্থীদের ছবি এবং দলীয় ও জাতীয় পতাকাসংবলিত বহর আর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় নেচে-গেয়ে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার। বিশাল বিশাল সমাবেশে প্রার্থীরা নিজের বক্তব্য প্রদান করেছেন। পাশাপাশি সমাবেশ দেখেছি কিন্তু কোথাও কোনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ চোখে পড়েনি। এমন সুন্দর নজিরবিহীন ও নির্বাচনের দিন ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববার। নির্বাচনের দিন আলাদা বন্ধ নেই। ভোটের দিন ইস্তাম্বুল ও কোনিয়ার বিভিন্ন ভোট সেন্টার দেখার সুযোগ হলো। কোথাও হুড়াহুড়ি বা ধাক্কাধাক্কি দেখিনি। স্কুল-কলেজগুলো ভোট সেন্টার। ভোট দিয়ে যে যার কাজে চলে যাচ্ছেন। তেমন কোনো পুলিশ প্রহরাও নজরে পড়েনি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ। পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনেননি যা মার্কিন নির্বাচনকেও হার মানায়। তুরস্কের এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা পাঁচ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার ৬৩২। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আইডি কার্ড বা যেকোনো শনাক্তকরণ নথি দেখিয়ে ভোট দিতে পারেন ভোটারেরা। এ নির্বাচনে বিদেশী সাংবাদিকদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। ৩৪টি দেশের ৬০০-এর বেশি সাংবাদিক নির্বাচনের খবর সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের ২৪ তারিখের নির্বাচন পর্যালোচনা করলে একটা বিষয় খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে- সব দলই নির্বাচনে আগের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে কিংবা প্রত্যাশিত ফল করেছে, ব্যতিক্রম শুধু সাদাত পার্টির ক্ষেত্রে। যদি ব্যাখ্যা করি তাহলে বিষয়টি আরেকটু খোলাসা হবে-
০১. একে পার্টি ও সরকারি জোট : প্রেসিডেন্ট এরদোগান ৫২.৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, যা একে পার্টির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো রেজাল্ট। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে এরদোগান গত নির্বাচনের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন যদিও এবার চ্যালেঞ্জ ছিল বেশি। পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন জোট ৩৪৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এটাই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল। একে পার্টির ধারণা ছিল, হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না অথবা পেলেও ৩০১ থেকে ৩২০টি আসন পাবে। পার্লামেন্টে একে পার্টির ভোট কিছুটা কমেছে। এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। নির্বাচনের আগে এমনটা কিংবা তার চেয়েও কিছু কম পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সরকারি জোটে জাতীয়তাবাদী দলের প্রাপ্ত ভোট ও আসন বাম্পার ফলনের মতো। গত নির্বাচনে তারা ১১.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪০টি আসন পেয়েছিল। এরপর দল বিভক্তি দেখা দেয় এবং ইয়ি পার্টি নামে আরেকটি দল গঠিত হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, তারা হয়তো সাত-আট শতাংশ ভোট পাবে। কিন্তু তারা রীতিমতো চমক দেখিয়েছে। ১১.১ শতাংশ ভোট পেয়ে ৫০টি আসন পেয়েছে।
০২. বিরোধী জোট : প্রথমেই আসি সেকুলার সিএইচপির কথা। বিরোধী দলের ভোট কখনোই ২৬ শতাংশের ওপরে ছিল না (২০০২ সাল থেকে)। তাই তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ৩০.৮ শতাংশ ভোট পাওয়াও একটা চমক। দল হিসেবে তাদের ভোট কিছুটা কমেছে এবং আসনসংখ্যা গত নির্বাচনের তুলনায় ১২টি বেড়ে ১৪৬টি হয়েছে। এই ভোট বৃদ্ধি বা কমার একটা সমীকরণ আছে। আর তা হলো- কুর্দিদের দলকে তারা পার্লামেন্ট নির্বাচনে কিছু ভোট দিয়েছে আর কুর্দিরা বিনিময়ে তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইয়ি পার্টি গঠিত হওয়ার সাত-আট মাস পরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭.৮ শতাংশ এবং সংসদ নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪৪টি আসন লাভ করা সহজ নয়। তাদের ব্যাপক ‘ফান্ডিং’ ছিল এবং পশ্চিমা মিডিয়ার ব্যাপক সহায়তা পেয়েছে, সেটা অন্য বিষয়।
০৩. কুর্দিদের দল : এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে সঙ্কটে ছিল কুর্দিদের দল। তারা পার্লামেন্ট ঢুকতে পারবে কি না তা নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক ছিল। কিন্তু তাদের ভোট ও আসন দুটোই বেড়েছে। এবার তারা ১১.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ৬৭টি আসন পেয়েছে। এই দলগুলো যখন প্রত্যাশিত এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে তখন একমাত্র ব্যতিক্রম সাদেত পার্টি। এই পার্টি সেকুলারদের সাথে জোট করার পর সেকুলার মিডিয়াগুলো যখন একটু বেশি গুরুত্ব দিতে লাগল, তখন তারা ধরেই নিয়েছিল, এবার তাদের বড় বিজয় হচ্ছে। তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অন্তত ৭ থেকে ১৫ শতাংশ ভোট পাবেন এবং প্রথম দফার নির্বাচনে এরদোগান ‘হারবেন’ এবং দ্বিতীয় দফায় তারা চমক দেখাবেন বলে আশা ছিল প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর সাদেত পার্টি পার্লামেন্টে ঢুকতে পারবে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তা আর হলো কই? তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেয়েছেন ০.৯০ শতাংশ ভোট আর সংসদে পেয়েছেন ভোট ১.৪ শতাংশ (০০টি আসন)। তুরস্কের গাজী ইউনিভার্সিটির গবেষক হাফিজুর রহমানের মতে, এখানে দুটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন- সাদেত পার্টির দীর্ঘ দিনের বক্তব্য, সংসদে স্থান পাওয়ার জন্য ১০ শতাংশ ভোট পাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা তার কারণেই সাদেত পার্টি আগের নির্বাচনগুলোয় ভোট পেত না এবং এরদোগান সাদেত পার্টির ‘ভয়ে ১০ শতাংশ কোটা উঠাচ্ছেন না!’ কিন্তু এবারের নির্বাচনে ১০ শতাংশ কোটা প্রযোজ্য ছিল না। কারণ নতুন নিয়মে যেকোনো জোট ১০ শতাংশের বেশি ভোট পেলে জোটভুক্ত সব দলই তা পেয়েছে বলে গণ্য হবে। আর ভোট সংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টিত হবে। কিন্তু সাদেত পার্টি কোনো প্রদেশেই এমপি হওয়ার জন্য ন্যূনতম ভোট পায়নি।
গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালুর পর এটাই তুরস্কের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন। ১৬ বছরের শাসনামলে এবারই প্রথম এরদোগানের মোকাবেলায় শক্তিশালী বিরোধী জোট গঠিত হয়েছিল। মেয়াদের আগে নির্বাচন দেয়া এরদোগানের আত্মবিশ্বাস ও সৎ সাহসের পরিচয়। ১৯২৪ সালে আধুনিক তুরস্কের যাত্রার পর থেকে এরদোগানের দল একেপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সফলতার সাথে তুরস্ক শাসন করে যাচ্ছে। ২০০২ সালে তা ক্ষমতায় আসার আগে কট্টর সেকুলার রাষ্ট্র ছিল এটি। তুরস্কের ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেশির ভাগ নাগরিকের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হন তিনি। একই সাথে সেনা ক্যু এবং অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা সমাধান করে জনমুখী উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও বিদেশী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রে সম্প্রতি তুরস্কের অর্থনীতিতে ১২ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি, ইউরোপে এরদোগানের প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা, সিরিয়ার রিফিউজি ইস্যু এবং বিরোধী দলগুলোর প্রথমবারের মতো জোটবদ্ধ লড়াইয়ের কারণে সংসদীয় নির্বাচনে ৬০০ আসনের মধ্যে ৩০০-এর অধিক আসনে বিজয়ী হওয়া একেপির জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ালেও ব্যক্তি হিসেবে এরদোগানকে এই মুহূর্তে পরাজিত করাটা অনেক কঠিন। বিরোধী জোটের কৌশলগত প্রার্থী প্রদান করা ছিল সংসদ নির্বাচনে বড় একটি বিষয়।
এরদোগানের আসনগুলো দখল করতে বিরোধী জোট বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত কৌশলে নিজেদের প্রতীক এবং দল পরিবর্তন করে প্রার্থী দিয়েছিল। যেমন- ইসলামপন্থী দল সাদেত পার্টির ছয়জন প্রার্থী আতার্তুকের সিএইচপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। কোনিয়া প্রদেশে সিএইচপির সাদেত পার্টির যুব শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুুল কাদির কারাদুমান, কায়সেরি প্রদেশে আহমেদ ইলদিস, ইস্তাম্বুল প্রদেশে সিভাস প্রাদেশিক যুব শাখার সভাপতি নাজির জাহাঙ্গীর, ইস্তাম্বুল হুসাইন এমরে, সামসুন প্রদেশে হুসাইন শাহীন এবং ট্রাবজোন প্রদেশে সাদেত পার্টির প্রাদেশিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল কাদির চেলেবি সিএইচপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়াও ইস্তাম্বুল প্রদেশে সাদেত পার্টির এক নম্বর প্রার্থী হিসেবে কুর্দি জাতীয়তাবাদী দল এইচডিপির সাবেক এমপি আলতান তান প্রার্থী হয়েছেন। বিরোধী জোটের কৌশলগত প্রার্থী দেয়ায় এরদোগানের ৪০ থেকে ৫০ আসনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল।
এরপরও বিরোধী দলের সব পরিকল্পনা এরদোগানের ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের কাছে পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। এরদোগান আবার বিজয়ী হওয়া সম্ভব হয় উন্নয়ন পলিসির কারণে : আদর্শিক কারণে যারা এরদোগানকে অপছন্দ করেন তারাও তার নেতৃত্বে ইউরোপের মতো তুরস্কের উন্নয়ন পছন্দ করেন। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে এরদোগান জনগণের হৃদয়ে যে অবস্থান করে নিয়েছেন, তা এত দ্রুত ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আরো আছে সফল পররাষ্ট্রনীতি : ইউরোপ এবং আমেরিকার সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকলেও সম্প্রতি ইরান, রাশিয়া এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের অনেক উন্নতি ঘটেছে। তিন মাস আগে সিরিয়ার আফরিনে সফল অভিযান সাধারণ তুর্কিদের মনে এরদোগানের অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে। পিকেকে বিরোধী অভিযান ও ভূমিকা রাখে : গত কয়েক বছরে পিকেকের আত্মঘাতী হামলায় তুরস্কের কয়েক মানুষ নিহত হয়েছে। গত বছরে সরকার বেশ কয়েকটি অভিযানে পিকেকের শক্তিশালী কিছু ঘাঁটি ধ্বংসের পাশাপাশি বিপুল সন্ত্রাসীকে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছে।
পিকেকের দৌরাত্ম্যে পূর্ব তুরস্কে কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে জনগণ ভোট দিতে পারত না। বেশির ভাগ সন্ত্রাসীর অনুপস্থিতিতে কুর্দি অধ্যুষিত পূর্ব তুরস্কের ধার্মিক ব্যক্তিদের ভোট অতীতের মতো এরদোগান পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কুর্দিদের দল এইচডিপি জাতীয়ভাবে ১০ শতাংশে কম ভোট পেলে তারা আর কোনো আসন পেত না। সে ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের ৯০ শতাংশ আসন ২০০২, ২০০৭ ও ২০১১-এর মতো একে পার্টির ঘরে চলে আসে। তখন এরদোগানের আসনসংখ্যা ৩৪৩ পেরিয়ে যায়। এরদোগান যদি ৫০ শতাংশ ভোট না পেতেন, তাহলে তাকে ৮ জুলাই আবার নির্বাচন দিতে হতো। অর্থাৎ ৬০০টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে ৩০১টি না পেলে কোয়ালিশন করতে হবে, নইলে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় সংসদ নির্বাচন দিতে হতো। ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে প্রেসিডেন্টকেও পুনরায় নির্বাচন করতে হতো।
এরদোগান দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার জন্য আগাম নির্বাচন দিয়েছিলেন। কুর্দিরা ১০ শতাংশের বেশি (১১.০৬ শতাংশ) ভোট পাওয়ায় তারা পার্লামেন্টে ৬৭টি আসন পেল, যা এরদাগানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। ১০ শতাংশ ভোট না পেলে ওই দল পার্লামেন্টে কোনো আসন পেত না। বিদেশী ভোটে পুনর্জাগরণ ঘটেছে। ইউরোপের দেশগুলো এরদোগানের সব ধরনের প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অথচ তাদের পুলিশের সহযোগিতায় বিরোধী দল প্রচারণা চালায়। বিমাতাসুলভ আচরণকারী ইউরোপিয়ান শক্তির এমন ব্যবহারে সামগ্রিকভাবে এরদোগান ও একে পার্টির জনপ্রিয়তা বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। তুরস্কের ধার্মিক এবং নারী ভোটও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এমন একসময় ছিল যখন তুরস্কে আজান চালুর কারণে প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্দেরেসকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল। ইফতার প্রোগ্রামের কারণে প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন আরবাকানকে পদচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক সাধারণ নারীরা বোরকা পরার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। লিবারালের মুখোশে এহেন কর্মকা-ের পর এরদোগান ধারাবাহিকভাবে তুরস্কের সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অধিকার ফিরে দেয়ার পাশাপাশি তাদের গৌরবের ওসমানি খিলাফতের অনেক কিছুই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তুরস্কের ধার্মিক শ্রেণীর মানুষদের ভোট অতীতের মতো এবারো এরদোগানের পক্ষে গেছে। এরদোগান তুরস্কের নারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। এই ভোটগুলো সহজে হাতছাড়া হতে দেয়নি তার দল। গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত ভোট এরদোগানের পক্ষে ছিল। তুরস্কের শহরের ভোটে এরদোগান এবং অন্যান্য দলগুলোর মধ্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও আবার কখনো এরদোগানের কম ভোট পেলেও সমগ্র তুরস্কের গ্রামীণ ভোটগুলো একচেটিয়া একে পার্টি তথা এরদোগানের ঘরে যায়।
তুরস্কের এলিট শ্রেণীর ভোটগুলো সিএইচপির তথা আতাতুর্কের দলে গেলেও মধ্যবিত্ত এবং ধার্মিক শ্রেণীর মানুষদের সবচেয়ে বেশি ভোট আবারো এরদোগান পেলেন। গত ২৪ জুন উন্নয়ন আর ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবার তুরস্কের শাসন ক্ষমতায় গিয়ে এরদোগান দেশকে এগিয়ে নেবেন- এটাই বেশির ভাগ জনগণের বিশ্বাস। বর্তমান সময়ে তুরস্কের এ নির্বাচন বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র চর্চার জন্য একটি মডেল হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।
লেখক : আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সিলেটের ডাকের শিশুমেলা
  • সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল : পরিবেশ-প্রতিবেশ
  • এরদোগানের শাসনে তুরস্কের ভবিষ্যৎ
  • বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নদী রÿার্থে করণীয়
  • পয়ত্রিশ বছরে সিলেটের ডাক
  • আমরা কি কেবল দর্শক হয়েই থাকব?
  • কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও আমাদের আইন
  • স্মার্টফোনে বন্দি জীবন
  • দৃষ্টিপাত নেশার নাম ড্যান্ডি!
  • আইনজীবী-সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম চৌধুরী
  • সড়ক দুর্ঘটনায় লাশের মিছিল কবে শেষ হবে?
  • রাস্তাটির সংস্কার চাই
  • প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি
  • শিক্ষা ব্যবস্থা
  • আবর্জনা সমস্যা : উৎপাদনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে
  • উচ্চশিক্ষায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজন
  • সিটি নির্বাচন : কাকে ভোট দেব?
  • রথযাত্রা
  • বিবেক দ্বারা হোক পথ চলা
  • মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার
  • Developed by: Sparkle IT