উপ সম্পাদকীয়

কওমি বোর্ডের রেজাল্ট পর্যালোচনা

জুবায়ের বিন আরমান প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৭-২০১৮ ইং ০০:৪৫:২৫ | সংবাদটি ১২৬৩ বার পঠিত

সিলেটকে বলা হয় আলেম-ওলামার শহর। এই শহরে আলেমদের রয়েছে আলাদা প্রভাব। সিলেটি আমজনতাও তুলনামূলকভাবে আলেমভক্ত। কিন্তু আলেমদের এই শহরে ইলমের চর্চা কতটুকু রয়েছে, তা রীতিমতো ভাবার বিষয়। সদ্য প্রকাশিত বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা বোর্ডের দাওরায়ে হাদীসের রেজাল্ট পর্যালোচনা করে দেখলে সিলেটকে পাওয়া যাবে সর্বনি¤œ অবস্থানে। সারা দেশের মধ্যে সিলেটের রেজাল্ট খুবই নি¤œমানের।
জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদরাসা সিলেটে না থাকলে সিলেটের রেজাল্ট উল্লেখ করার মতোই ছিলো না। আমরা একেক করে সিলেট জেলার সকল মাদরাসার রেজাল্ট দেখেছি। ৯২টা দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা রয়েছে সিলেট জেলায়। পুরুষ ৪৬টি, মহিলা মাদরাসা ৪৬টি।
আমরা আলোচনা করবো পুরুষ প্রতিষ্ঠান নিয়ে। আমাদের মতে ৪৬টি মাদরাসার মাঝে ২৮টির কোনো রকম যোগ্যতা রয়েছে দাওরায়ে হাদীস ক্লাস রাখার। বাকি ১৮টি মাদরাসায় দাওরা ক্লাস রাখার মতো যোগ্যতাই পরিলক্ষিত হয়নি।
আমরা কেবল ২৮টি মাদরাসা নিয়েই কথা বলবো। সিলেট জেলা তথা বিভাগেই সবচেয়ে ভালো ও ঈর্ষণীয় ফলাফল করেছে জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ হযরত শাহজালার (রহ.) সিলেট। দরগাহ থেকে ১৬২ জন শিক্ষার্থী দাওরায়ে হাদীস ফাইনালে অংশ নেন। তন্মধ্যে তিনজন মেধাতালিকাসহ তেরজন স্টারমার্ক (মমতাজ) পেয়েছেন। সিলেটে এটা সর্বোচ্চ রেজাল্ট। এ মাদরাসার দুজন ছাত্র অকৃতকার্য হয়েছেন। এই দুজন না থাকলে রেজাল্টের ক্ষেত্রে এ জামেয়া আরো উচ্চতায় পৌঁছাতো।
দরগাহ থেকে বেশ পিছিয়ে হলেও সিলেট জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে হয়েছে আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর মাদরাসা। জমিয়তের রাজনীতির অন্যতম মারকাজ বলে পরিচিত এ মাদরাসাটির ৮০ জন পরীক্ষার্থী ফাইনালে অংশ নিয়েছিলেন। একজন মেধাতালিকাসহ দশজন স্টার মার্ক (মমতাজ) পেয়েছেন। যা সিলেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেজাল্ট। মাদরাসাটির ১৪ জন ছাত্র অকৃতকার্য হয়েছেন।
সিলেটে রেজাল্টে তৃতীয় হয়েছে জামেয়া তাওয়াকুলিয়া রেঙ্গা। এই প্রতিষ্ঠানটির ১৯৪ জন ছাত্র দাওরা ফাইনালে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে ১জন মেধাতালিকাসহ সাতজন মমতাজ পেয়েছেন। মাদরাসাটির ২৭ জন ছাত্র অকৃতকার্য হয়েছেন।
সিলেটে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে উমরপুর মাদরাসা। ওসমানীনগরে অবস্থিত এ মাদরাসাটি প্রশংসার দাবী রাখে। ২২ জন পরীক্ষার্থীর সকলেই কৃতকার্য হওয়ার সাথে সাথে একটি মেধাতালিকাসহ তিনটি মমতাজ পেয়েছে তারা। শতভাগ পাশ করা একমাত্র মাদরাসা এটি। তবে সার্বিক বিচারে এটিকে আমরা চতুর্থে স্থান দিয়েছি।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে গহরপুর জামেয়া। আল্লামা গহরপুরী (রহ.) প্রতিষ্ঠিত এ জামেয়াটি সিলেট জেলা এমনকি বিভাগেও পঞ্চম স্থরে রয়েছে। ৭৫ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে তিনজন মমতাজ ও ১৬ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
এই পাঁচটির পরে আর এমন প্রতিষ্ঠান পাইনি, যাদের নিয়ে কিছু লিখবো। অবশ্য একটি মেধাতালিকা পেয়েছে জকিগঞ্জের শাহবাগ মাদরাসা। কিন্তু একটি মেধাতালিকা দিয়ে মাদরাসার গ্রেড নির্ণয় করা যায় না। তবুও আমাদের বিচারে তারা ষষ্ঠ স্থানেই রয়েছেন।
সিলেটে উল্লেখ করার মতো একটি মাদরাসা হলো ভার্থখলা। কিন্তু এটির এতো নিন্মমানের রেজাল্ট সিলেটবাসীকে বিস্মিত করেছে। এ মাদরাসার ৪১ জন পরীক্ষার্থীর ৩৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। মাত্র পাঁচজন পাশ করলেও একজন জায়্যিদ, একজন জায়্যিদ জিদ্দা, অন্যরা মকবুল হয়েছেন।
ভার্থখলার পরেই নিন্মমানের রিজাল্ট করেছে মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত জামেয়া দারুল কোরআন। এ মাদরাসার ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ২৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। বাকিরা টেনেটুনে দরিয়া পার হয়েছেন।
৪৬টি মহিলা মাদরাসার অবস্থাও খুব সুখকর নয়। তবুও তাদের জন্যে রইলো শুভকামনা। তারা যেভাবেই হোক, তাদের মিশন চালিয়ে যাবেন, এই প্রত্যাশা রইলো। তবে মহিলা মাদরাসা হিসাবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে সুলতানপুর মহিলা মাদরাসা, তারপরেই বারুতখানা বানাত মাদরাসা।
ধন্যবাদ দিতে হয় দয়ামীর মাদরাসার ছাত্রী তাজকিরা বেগমকে। সিলেট বিভাগে মহিলা মাদরাসাগুলোর মধ্যে তিনিই একমাত্র মেধাতালিকা স্থান পেয়েছেন। তার সিরিয়াল ৭ম-ক। ধন্যবাদ বোনটিকে।
সিলেট জেলার ২৮টি দাওরায়ে হাদীস মাদরাসার তালিকা নি¤œরূপ :
১. জামেয়া দরগাহ সিলেট ২. আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর ৩. জামেয়া রেঙ্গা ৪. উমরপুর ওসমানীনগর ৫. জামেয়া গহরপুর ৬. শাহবাগ মাদরাসা জকিগঞ্জ ৭. দরগাহে শাহপরান ৮. মুরাদগঞ্জ মাদরাসা বিয়ানীবাজার। ৯. রামধা মাদরাসা বিয়ানীবাজার ১০. জামেয়া মাদানিয়া কাজির বাজার ১১. গলমুকাপন মাদরাসা ওসমানীনগর ১২. জামেয়া কৌড়িয়া ১৩. জামেয়া দক্ষিণকাছ ১৪. দারুস সালাম খাসদবীর সিলেট ১৫. মেজরটিলা মাদরাসা ১৬. লামারগ্রাম জকিগঞ্জ ১৭. শেরপুর মাদরাসা ১৮. মাদানিয়া বিশ্বনাথ ১৯. বালিঙ্গা মাদরাসা ২০. দেউলগ্রাম মাদরাসা ২১. ধনুকান্দি মাদরাসা শাহপরান ২২. ফতেহপুর গোয়াইনঘাট ২৩. নয়াসড়ক মাদরাসা সিলেট ২৪. মুহাম্মাদীয়া বিশ্বনাথ ২৫. দয়ামীর মাদরাসা ২৬. হেমু মাদরাসা ২৭. জামেয়া দারুল কোরআন ২৮. ভার্তখলা মাদরাসা।
রেজাল্ট, ছাত্রসংখ্যাসহ সার্বিক বিবেচনায় এ সিরিয়াল নির্ণয় করেছি। সিরিয়ালের বাহিরে আরো ১৮টি দাওরায়ে হাদীস মাদরাসা রয়েছে সিলেটে। আমাদের মতে দাওরায়ে হাদীসের ক্লাস রাখার যোগ্যতা সেগুলোর নাই। সেগুলোতে আপাতত যতদিন পড়ালেখার মান উন্নয়ন না হয়, ততদিন দাওরায়ে হাদীসের ক্লাস বন্ধ রাখার প্রত্যাশা রাখছি। এ আমার ব্যক্তিগত মতামত। এর সাথে অন্যদের দ্বিমত থাকতেই পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, কেবল দাওরায়ে হাদীস মাদরাসাগুলোর আলোচনা এখানে করা হয়েছে। এর বাইরে ছোটবড় অনেক ভালো মাদরাসা অবশ্যই রয়েছে। আমাদের কওমি মাদরাসাগুলোর লেখাপড়াকে আরো উৎসাহিত করার কেবল একটি প্রয়াস আমার এই লেখা। কেউ কষ্ট পেলে দুঃখিত।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • দেশীয় চ্যানেল দর্শক হারাচ্ছে কেন?
  • বিশ্ব বরেণ্যদের রম্য উপাখ্যান
  • আশুরা ও কারবালার চেতনা
  • জলবায়ু পরিবর্তন ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণী
  • অধ্যাপক ডাক্তার এম.এ রকিব
  • শিশু নির্যাতন ও পাশবিকতা
  • প্রবীণদের প্রতি নবীনদের কর্তব্য
  • রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে আগস্টের শোকাবহ ঘটনাবলী
  • সংযোগ সেতু চাই
  • টিবি গেইট ও বালুচরে ব্যাংকিং সুবিধা চাই
  • হাসান মার্কেট জেল রোডে স্থানান্তর হোক
  • ২৭নং ওয়ার্ডের কিষণপুর-ঘোষপাড়ার রাস্তা মেরামত প্রসঙ্গে
  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
  • দেশীয় রাবার শিল্প বাঁচান
  • পরিবর্তিত হও : ছকের বাইরে ভাবো
  • শিক্ষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ
  • কতটা ভালোবাসি দেশ?
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আন্তর্জাতিক চাপেই সম্ভব
  • শুধু একবার বলুন : আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি
  • Developed by: Sparkle IT