সম্পাদকীয় ওই ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী, যার হৃদয় প্রশস্ত। -আল হাদিস

জাতীয় কৃষিনীতি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০১৮ ইং ০০:৪০:০০ | সংবাদটি ২১ বার পঠিত

প্রণীত হয়েছে জাতীয় কৃষি নীতিমালা ’২০১৮। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে-দেশে আবাদযোগ্য জমি পতিত রাখা যাবে না, শিগগীরই পতিত জমির মালিক, পরিমাণ ও এলাকা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি জমি পতিত রাখার কারণ অনুসন্ধান করবে সরকার। এই জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে জমি উপযোগী টেকসই ও লাভজনক জাত ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। নীতিমালায় আরও রয়েছে- নিরাপদ ও কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, লাভজনক, উৎপাদনশীল, পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি, শস্যবহুমুখীকরণ, পুষ্টি সমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা। এছাড়া দক্ষ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা। নীতিমালায় আরও বলা হয়- জাতীয় ও পরিবার ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র চাষীদের অবদান দিন দিন বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে কৃষিনীতি খসড়া অনুমোদিত হয়। আমাদের কৃষিখাতে বলা যায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কৃষিজমি কমছে; তারপরেও বড়ছে ফসল উৎপাদন। ধানের পাশাপাশি সবজি কিংবা মওসুমী ফলমূল উৎপাদনও বাড়ছে। কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যে দুঃসংবাদও রয়েছে। সেটা হলো কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছে না। বরং লাভবান হচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগীরা। পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এই সব পণ্য বিকিকিনিতে বেশি মুনাফা পাচ্ছে। আর ভোক্তাদের ব্যয় করতে হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। মূলত এই বিষয়টিকেই মাথায় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় কৃষিনীতি। অর্থাৎ কৃষিকে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে নিরাপদ ও লাভজনক করে তোলাই হচ্ছে এই কৃষিনীতির উদ্দেশ্য। জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রণীত কৃষিনীতিতে আরও নতুন নতুন বিষয় সংযোজন করে তৈরি করা হয়েছে নতুন কৃষিনীতি। সংযোজিত নতুন বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষিকে নিরাপদ ও লাভজনক করে তুলতে ‘ন্যানো’ প্রযুক্তির ব্যবহার। অর্থাৎ এই নীতিমালায় ‘ন্যানো’ প্রযুক্তিকে গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর ন্যানো প্রযুক্তি হচ্ছে পদার্থকে আণবিক ও পারমাণবিক পর্যায়ে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল। প্রাথমিক পর্যায়ে ফসলের রোগ, জাতভিত্তিক পুষ্টি, চাহিদা নির্ণয় ও পুষ্টি আহরণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে। ন্যানো সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
নীতিমালা হয়েছে। এটি কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা আশা করি নীতিমালাটি শতভাগই বাস্তবায়িত হবে। তবে নীতিমালার বাইরে রয়ে গেছে আরও অনেক বিষয় যা পীড়া দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর মধ্যে রয়েছে- কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার; যে কারণে জমির উর্বরা শক্তি কমছে, কীটনাশকের বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মানবদেহে প্রবেশ করে নানা রোগের জন্ম দিচ্ছে। খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন ধরনের পঁচনশীল খাদ্যপণ্যে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত পদার্থ; যা জনস্বাস্থ্যের বারোটা বাজাচ্ছে। সর্বোপরি কৃষি জমি প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে অকৃষি খাতে। ফলে কমছে জমি। এই বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT