উপ সম্পাদকীয়

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার

ইছমত হানিফা চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০১৮ ইং ০০:৪১:৩০ | সংবাদটি ১৭০ বার পঠিত

বর্তমান বিশ্ব যে প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে একটি মাদক। যার বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ। বর্তমানে মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে এক সর্বনাশা ব্যাধি রূপে বিস্তার লাভ করেছে। দুরারোগ্য ব্যাধির মতোই তা তরুণ সমাজকে গ্রাস করেছে। এর ভয়াবহ পরিণতি দেখে আজ প্রশাসন বিচলিত, অভিভাবকেরা আতঙ্কিত। তরুণ যুবশক্তিই দেশের প্রাণ মেরুদন্ড। নেশার ছোঁবলে সেই মেরুদন্ড আজ ভেঙ্গে পড়েছে। মাদকাসক্তির সমস্যা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কি এই মরণ নেশা? মাদক দ্রব্য হলো ভেষজদ্রব্য যা প্রয়োগে মানবদেহে মস্তিষ্কজাত সংজ্ঞাবহ সংবেদন হ্রাস পায় এবং বেদনাবোধ কমায় বা বন্ধ করে। নেশার প্রথম বস্তু হচ্ছে মদ। মদ সভ্যতার আদিমতম আবিষ্কার। মনে হয় আগুন আর মদ একই সময়ে আবিষ্কৃত হয়েছিল। আমীর মীনাই এর সেই শের যদি বলি, তাঙ্গুর মে থী ইয়ে, মায়াপানী কি চান্দ বুন্দে। যিস দিন খিচ গাই হ্যায়, তলোয়ার হো গায়ি হ্যায়।
অর্থাৎ- আঙ্গুরের মধ্যে ছিল গোবেচারা রসের কয়েকটি বিন্দু, সে রসকে নিংড়ে নিয়ে যখন সুরার রূপ নিলো, তখন সেই শান্ত রসবিন্দুরাই তরবারির মতো ধারালো অস্ত্র হয়ে দাঁড়ালো। মাদকদ্রব্যের বেদনানাশক ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, আনন্দোচ্ছাস মেজাজ পরিবর্তন, মানসিক আচ্ছন্নতা, শ্বাসপ্রশ্বাসের অবনমন, রক্তচাপ হ্রাস, বমি, কোষ্ঠবদ্ধতা ও মূত্র হ্রাস, ¯œায়ুতন্ত্রের ক্রিয়াকলাপের পরিবর্তনসহ অনেকগুলো অবাঞ্ছিত পার্শপ্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণের ফলে সব মাদকেই গভীর ঘুম আসে এবং পরিণামে মস্তিষ্কের সমস্ত ক্রিয়া কলাপ স্থিমিত হয়।
বর্তমানে বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য চালু আছে- মদ, গাঁজা, ভাঙ্গ, আফিম ইত্যাদি নেশা বহু প্রাচীন। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মাদকদ্রব্যের যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। বর্তমানকালের মাদকদ্রব্য হিসেবে হেরোইন, মারিজুয়ানা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা ইত্যাদি প্রধান। মাদকাসক্তি এমন একটি দূর্বার নেশা যাতে একবার অব্যস্ত হয়ে গেলে তা পরিত্যাগ করা খুবই কঠিন, মাদকদ্রব্য সেবনে কীভাবে যে মানুষ ধ্বংসের অন্ধকার পথে এগিয়ে চলে তা সে নিজেও জানে না, বুঝতেও পারে না এবং অপরকেও বুঝাতে দেয় না। সুতরাং মাদকাসক্তির এই মরণছোবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে এবং অপরকেও বাঁচাতে হবে।
গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল (লাওস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান) হেরোইনের মূল উৎস। মাদকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হল আফিম। পপি ফুলের নির্যাস থেকে কৃষকরা তৈরি করেন কাঁচা আফিম। তা থেকে হয় সর্বনাশা হেরোইন, নতুন যোগ হয়েছে ইয়াবা। কেন কি কারণে আপন পায়ে কুড়াল মারছে বিপথগামী এই যুব সমাজ। এর পিছনে বিভিন্ন কারণ লক্ষ্য করা যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সঙ্গদোষ, কালো টাকার উত্তাপ, ব্যয়ের অপরিচ্ছন্ন পন্থা, ইত্যাদি। মাদকদ্রব্যের আসক্তি একদিনে বা হঠাৎ করে গড়ে ওঠে না। দিনে দিনে এর প্রতি আসক্তি জন্মায়। মাদকাসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ হল হতাশা। মানুষ সাধারণত নিজেকে নিয়ে অনেক উচ্চ আশা পোষণ করে, যে কারণেই হোক না কেন, এ আশা যখন পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তখন তার জীবনের গতি পরিবর্তন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। আর সেটা আমাদের দেশের যুবসমাজের ক্ষেত্রে মাদকাসক্ত হওয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সুশিক্ষার অভাব, আবার শিক্ষাব্যবস্থার সাথে কর্মসংস্থানের সামঞ্জস্য নেই। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর কর্মসংস্থানের অভাবে যখন বেকারত্ব গ্রহণ করে তখন ব্যক্তি জীবনে নেমে আসে হতাশা। সে সময় সাময়িক ভাবে আত্মমুক্তির পথ হিসেবে মাদকাসক্তিতে নিজেকে জড়িয়ে। যেহেতু দেশের মূল জনগোষ্ঠির এক বিরাট অংশ দরিদ্রসীমার নীচে বাস করে, জীবনে কোনভাবেই মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে অক্ষম, তো, দরিদ্র জনগোষ্ঠি কখনো বুঝে আবার কখনো না বুঝে জড়িয়ে যায় মাদকে। আবার ইয়াবা সেবন যেহেতু অনেক যুগ আগে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের দেয়া হত, যাতে ওরা কয়েক রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে পারে এবং মনের দিক দিয়ে খুব অস্থির থাকে এবং যুদ্ধের সফলতার দিকে ধাবিত হয়। এখন অনেকে রাত জেগে থেকে পড়াশুনা করার জন্য আবার কখনো নাচ, গান, ছবিআঁকা যে কোন বিষয়টা তাড়াতাড়ি আয়ত্বে এনে রাতারাতি সফল হওয়ার জন্য ইয়াবা সেবন করে এবং একটা পর্যায়ে আসক্ত হয়ে যায়। নতুনত্বের প্রতি আগ্রহ, ব্যাকুলতা মানবচরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য আর এই নতুনত্বের খোঁজে পরিচিতি হয় মাদকদ্রব্যের সাথে। কিন্তু একবার শুরু করলে আর বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। মাদক কে বলা হয় মরণ নেশা। মৃত্যুই এর অনিবার্য পরিণতি। এই নেশা ধীরে ধীরে ¯œায়ুকে দুর্বল করে দেয়। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিঃশেষ করে দেয়, একেবারে বিকলাঙ্গ হয়ে যায় এদের মননশক্তি। ক্ষিদে পায় না, ঘুম হয় না, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখের অনুভূতি একেবারেই থাকে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে মাদকাসক্তির কুফল অতি মারাত্মক। মাদকাসক্ত ব্যক্তির পক্ষে এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়ে ওঠে না, ফলে ধীরে ধীরে সে এগিয়ে যায় মৃত্যুর দিকে।
আগে যতই যুব সমাজ বলে শুধু বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা বিপথগামী হওয়া ছেলেদের বুঝানো হত, এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মেয়েদের একটা বখে যাওয়া অংশ এই ভুল পথে ধাবিত হচ্ছে, উদাহরণ স্বরূপ, বহুল আলোচিত, ঐশি রহমানের কথা মনে করিয়ে দেয়া যায়। এই মাদকাসক্ত যুব সমাজের প্রভাবে সমাজে তথা রাষ্ট্রে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাকদদ্রব্য গ্রহণ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার খরচ যোগানোর জন্যই নানারকম সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে- ছিনতাই, জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, চুরি, পতিতাবৃত্তি, মাদক বিক্রয় ইত্যাদি।
মাদকাসক্তির ব্যক্তিগত দিক ছাড়াও আরো একটি ব্যবসায়িক দিক রয়েছে যা বিশাল অপরাধ জগতের সাথে জড়িত। মাদক দ্রব্য সাধারণত পাকিস্তান ও ভারত থেকে পাচার হয়ে যায় পশ্চিম ইউরোপে। বিশেষ করে গ্রেটব্রিটেন, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি ও সুইজারল্যান্ড। শ্রীলংকাকে ব্যবহার করা হচ্ছে চোরাচালানের কেন্দ্রস্থল হিসেবে। বাংলাদেশকে হেরোইন, ইয়াবা চোরাচালানের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সীমান্তবর্তী জনপদের বড় অংশ দরিদ্রসীমার নীচে বাস করে, তাই বুঝে না বুঝে তারা এই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যায়।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার গোটা বিশ্বের জন্য আজ উদ্বেগজনক। বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বপ্রথম “মাদক প্রতিরোধ” আন্দোলন গড়ে তোলে। এরপর ১৯৮৭ সালে বিশ্বের ২৩টি রাষ্ট্র “মাদক প্রতিরোধ আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগদান করে এখন বলতে গেলে গোটা বিশ্ব-ই এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধে সোচ্ছার। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন কোন রাষ্ট্র-ই আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে মাদকের অবৈধ পাচারকারীদের শাস্তি দান এড়িয়ে যেতে না পারে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে শুধু রাষ্ট্রই আইন, বা রাষ্ট্রের ভূমিকা যথেষ্ট নয়, এই অবস্থা নির্মূল করতে পরিবার, সমাজ এবং সচেতন ব্যক্তির রয়েছে বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই সামাজিক ব্যাধি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না, কারণ এর আসক্তি পুরো সমাজ রাষ্ট্র অশান্তি, অবিচারে ফেলে দেয়ে।
এই মরণব্যাধি নির্মূল করতে বিশ্বের নানান শ্রেণির বুদ্ধিজীবিরা কিছু মতামত দিয়েছেন এবং সচেতন সমাজের নাগরিকরা এই মতামতকে সাধুবাদ জানিয়ে একাত্মতা বা সহমত পোষণ করেছেন, তা হচ্ছে-
(১) মাদকাসক্তি আসলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আওতায় পড়ে না। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। তাই শুধু ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্রের উপর ভরসা না করে বিষয়টি সামাজিক দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে।
(২) সাংস্কৃতিক দিক থেকে তরুণদের আকর্ষণযোগ্য আদর্শ কার্যক্রম সামনে তুলে ধরতে হবে, যা তাদের সুস্থ বিনোদনের দিকে নিয়ে যাবে।
(৩) বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
(৪) একেবারে প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের ছাত্রদের বুঝাতে হবে, মাদকাসক্তির কুফল।
(৫) পরিবার প্রথার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একান্নবর্তী পরিবারে উৎসাহি করতে হবে।
(৬) পরিবার তথা পিতা-মাতা এবং সন্তানের মাঝে বন্ধু সুলভ সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হবে। সন্তান যেন, যে কোন বিষয়ে সবার আগে নিজের মা-বাবার সাথে শেয়ার করতে পারে।
(৭) ছেলেবেলা থেকে পত্রিকা এবং অবসরে গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
(৮) রাষ্ট্র মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আর জোরদার ও কঠোর আইন তৈরি করা।
(৯) মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্তদের ভয়াবহ অবস্থার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, পত্র পত্রিকা ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমগুলেতে আরও নিয়মিত এর প্রতিরোধ, শাস্তি, ফলাও ভাবে প্রচার করা।
(১০) ভুল করে যদি কেউ মাদকাসক্ত হয়ে যায়, পরিবার সমাজ প্রতিবেশিরা যেন থাকে ঘৃনার চোখে না দেখে। যেন সবাই চেষ্টা করে ভালবাসা দিয়ে কিভাবে এখান থেকে আসক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টা করা।
পরিশেষে বলবো মাদকাসক্তির মতো সর্বনাশা ছোঁবল দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকের ও আগামী দিনের সুস্থ-সুন্দর ও সুখকর সমাজের জন্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার রোধ করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সামাজিক প্রতিরোধ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ অবশ্য এ ব্যাপারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা আমাদের কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। আশা করা যায়, সময়ের ব্যবধানে এসব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে আগামী প্রজন্মকে উপহার দেবে একটা মাদকমুক্ত সমাজ। সেই প্রতিক্ষায় প্রতিটা সোনালি সূর্য্য উদিত হউক এই কামনা।
লেখক : কবি, কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বিদেশে কর্মসংস্থান : সমস্যা ও সম্ভাবনা
  • সাম্প্রতিক কথকতা
  • শিশুর সুরক্ষা ও গণমাধ্যম
  • উন্নয়নের অভিযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ
  • ডাক বিভাগ ফিরে পাচ্ছে প্রাণ
  • আমরা সবাই ভালো হলে দেশ ভালো হবে
  • ‘জাতীয় বীর’ কৃষকদের নিয়ে কিছু কথা
  • ভর্তিযুদ্ধে লাঘব হোক ভোগান্তি
  • মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা
  • ভোটের মাঠে তারকার মেলা
  • আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা
  • সামাজিক আন্দোলন : নিরাপদ সড়ক চাই
  • আলী হোসেন খান
  • মৃত্যুই দিয়েছে তাঁরে চিরমুক্তি!
  • আমেরিকা : ট্রাম্প শাসনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব
  • ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব
  • পরিবহন নৈরাজ্য
  • মাদকবিরোধী অভিযান : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ছড়াকার বদরুল আলম খান
  • একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত দশটি নির্বাচন
  • Developed by: Sparkle IT